চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে ধুরুং খালে গোসল করতে নেমে রেজিয়া বেগম (৪২) নামে এক নারী নিখোঁজ হয়েছেন।
২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্থানীয় জনতা ও ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে ফটিকছড়ির বিভিন্ন খালে এটি চতুর্থ দুর্ঘটনা, যার মধ্যে তিনটিই প্রাণহানির ঘটনা। ফলে এলাকার খালগুলো মরণফাঁদে পরিণত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বুধবার (১৮ জুন) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার উত্তর কাঞ্চননগরের বাসিন্দা রেজিয়া বেগম (৪২) বাড়ির পাশের কালাপানির মুখ এলাকায় ধুরুং খালে গোসল করতে নামেন। কিছুক্ষণ পর তার কাপড় খালের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেলেও তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়েও রেজিয়া বেগমের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্ধারকাজ বন্ধ করে ফিরে যায়। এর আগে গত দুই সপ্তাহে ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন খালে এটি চতুর্থ নিখোঁজ বা ডুবে যাওয়ার ঘটনা। এর আগে আরও তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এমন ধারাবাহিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসী চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে কাঞ্চননগরের ভিডিপি দলনেতা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘খালগুলোতে আপাতদৃষ্টিতে পানির গভীরতা কম মনে হলেও, এর তলদেশ অপ্রত্যাশিতভাবে গভীর বা অসম হতে পারে। এ ছাড়া বর্ষায় উজানের পানি নেমে আসায় খালের প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যায়, যা শক্তিশালী স্রোতের সৃষ্টি করে এবং অপ্রত্যাশিত টান তৈরি করতে পারে। এই অদৃশ্য বিপদ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অসচেতনতাও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ।’
এমন পরিস্থিতিতে এলাকার সচেতন মহল স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা খালের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় গোসল বা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বলছেন।
ফটিকছড়ির খালগুলো স্থানীয়দের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রমাণ করছে, এগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।