টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালি ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৪৪টি পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকে অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে চেঙ্গী, মাইনী ও ফেনী নদীর পানি বেড়েছে।
এর প্রভাবে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের একাধিক জায়গায় পানি উঠে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
মেরুং ইউনিয়নের ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় আরও পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাচ্ছে।
মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনা চাকমা বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোকে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।’
কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে অন্তত ১২টি পরিবার বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। তারা নিরাপদে আছে, খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে ইউনিয়নের আরও কয়েক শত পরিবার এখনো পানিবন্দি।’
তিনি বলেন, ‘মাইনী নদীর পানি বেড়ে দুই তীরের শত শত একর ফসলি জমি এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।’
পাহাড় ধসের শঙ্কায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার
জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাগড়াছড়ি শহরের শালবন, কুমিল্লাটিলা, সবুজবাগসহ পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় অন্তত সাড়ে তিন হাজার পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বন্যা ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করছে যুব রেড ক্রিসেন্ট, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করা পরিবারগুলোকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
জেলায় শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলায় শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের নিয়মিত রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি সেবা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।’
দিদারুল আলম/পপি/