ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায় সিলেটে টানা বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা পাউবোর বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২০২৭: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল প্রযুক্তির অপচ্ছায়া সড়কে ‘এআই ক্যামেরা’ ও অভিনব ডিজিটাল ডাকাতি বাবা দিবসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আমরা কি বাবা-মাকে হারাচ্ছি, নাকি তাদের সঙ্গে সময়ের সংযোগ হারাচ্ছি! ১০ দফা দাবিতে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের মানববন্ধন সোমবার মোহভঙ্গের বাংলাদেশ: যখন বুঝলাম সর্বনাশ হয়ে গেছে অরণ্যের অন্ত্যজ কথা বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু ইরান ম্যাচে বেলজিয়ামের মূল ফোকাস নিজেদের খেলায়: গার্সিয়া কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু গোপনে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বিপ্লব দেব প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র জাহাজডুবির দুঃসহ অধ্যায় শেষে দেশে ফেরা সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

চট্টগ্রামে করোনার সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
চট্টগ্রামে করোনার সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মশারির ভেতর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন/ খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। এর মধ্যে শহরের সাতটি এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার সবচেয়ে বেশি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকুনগুনিয়া নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ তেমন সোচ্চার নয়। সরকারি হাসপাতালে চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষাও হচ্ছে না। এই রোগের পরীক্ষার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে। চিকুনগুনিয়া নিয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বেসরকারি ল্যাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- মশাবাহিত এই রোগ চট্টগ্রাম শহরে এবার ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর বিস্তার ছড়িয়ে পড়া সাতটি এলাকা হলো- চট্টগ্রাম বন্দর, কোতোয়ালি, ইপিজেড, হালিশহর, সদরঘাট, বাকলিয়া এবং বায়েজিদ।

চট্টগ্রাম জেলা কীটতত্ত্ববিদ মঈন উদ্দিন বলেছেন, ‘এই বর্ষায় বৃষ্টির যে ধরন, তা ডেঙ্গুর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তাই এই সময়কে ডেঙ্গুর পিক টাইম বলা যায়। এ কারণে সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বৃষ্টি থেমে থেমে পড়ছে। এই পরিবেশে ডেঙ্গু মশা সহজেই ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে পারে। তবে ভারী বর্ষণ হয়ে পথ-ঘাট সব ধুয়ে গেলে মশা কমে যাবে। কিন্তু এখনো তেমন বৃষ্টি হয়নি। তাই ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগী বাড়ছে।’ বর্তমানে বৃষ্টির যে ধরন তাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বেশি হতে পারত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ সচেতন হওয়ার কারণে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে শহরের সাতটি এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত চার বছরের মধ্যে ২০২২ সালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। পরের বছর ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু অনেকটা মহামারি আকার ধারণ করে। সে বছর চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। তবে পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে রোগীর সংখ্যা কমে ৪ হাজার ৩২৩ জনে নেমে আসে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

এ ছাড়া জানুয়ারিতে রোগী পাওয়া যায় ৭০ জন। ফেব্রুয়ারিতে ২৮, মার্চে ২২, এপ্রিলে ৩৩, মে মাসে ১১৬, জুনে ১৭৮ এবং জুলাই মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ১৬৬ জন্য রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার এক দিনে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। ডেঙ্গুতে চলতি বছর মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১০ জুন চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে শহরে কিংবা গ্রামে কোথাও না কোথাও করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে। ১৩ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা ২০০ ছুঁয়েছে। এই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটেছে ৮ জনের।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. হামিদুল্লাহ মেহেদী খবরের কাগজকে জানান, প্রতিদিন তার কাছে যেসব রোগী আসছে তার অধিকাংশই জ্বরাক্রান্ত। তাদের বেশির ভাগই চিকুনগুনিয়া এবং ডেঙ্গু রোগী। গত রবিবার জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে সাতজন চিকুনগুনিয়া রোগী শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, চিকুনগুনিয়া নিয়ে সিভিল সার্জন অফিসের কোনো পরিসংখ্যান নেই।

৪ থেকে ১২ জুলাই বেসরকারি এপিক হাসপাতালে ১৮৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষায় ১৫৩ জনের চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়। অর্থাৎ আক্রান্তের হার ৮২ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ ছাড়া পার্কভিউ হাসপাতলে ৮ থেকে ১২ জুলাই ২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৮ জনের অর্থাৎ ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ রোগীর চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘অনেকেরই উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সবার সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরি। ঘুমানোর আগে মশারি টাঙানো বাধ্যতামূলক করা উচিত। এমনকি দিনের বেলা শিশুরা ঘুমালে তাদেরকে মশারি টাঙিয়ে দেয়া উচিত।’

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকুনগুনিয়া রোগের ভাইরাসের প্রাথমিক বিস্তারকারী হলো মশা, এডিস ইজিপ্টি বা হলুদ জ্বর মশা। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশের দুই থেকে চার দিনের মধ্যে জ্বর হয় এবং এর সঙ্গে শরীরে ব্যথা হয়। যা কয়েক সপ্তাহ, মাস বা বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ ছাড়া এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গুর রোগ ছড়ায়। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।

মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা
ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনের সরকারি সফরে আজ মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক, প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

সফরকে ঘিরে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো নতুন ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে গতকাল শনিবার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়েও আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়া। দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার এবং একই সঙ্গে জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়লেও দুই দেশের বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগোলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বাসসকে বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনা পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জনশক্তি খাত ছাড়া বর্তমানে বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও হালাল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আনোয়ার শহীদের ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হলেও বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ তুলনামূলক কম। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। তার মতে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে। সফরের পর সরকারি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সেই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিতে পারে।

তিনি বাসসকে বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই শুধু শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন রেমিট্যান্স আয় বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।

মাহবুব আলম শাহ বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এটি উপযুক্ত সময়। 

মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। এ খাতে প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদায়নে সহযোগিতা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। যৌথ গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা গেলে তা উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সফর-পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর। এফটিএ-সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগ সহজীকরণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এবারের সফরকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষক-কৃষাণীরা। 

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি এবং কোল্ডস্টোরেজ কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অবিলম্বে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমিয়ে প্রতি কেজি ৫ টাকা নির্ধারণ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বক্তারা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকদের খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৪ টাকা। এর মধ্যে আগাম বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের খেতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু নষ্ট হয়ে গেছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তার ওপর কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে আলু চাষ করি। সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এখন যদি কোল্ডস্টোরেজে প্রতি কেজিতে ৮ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়, তাহলে কৃষকের লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠে আসবে না। সরকার যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনে।’

কৃষক আবু সাঈদ বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমার কয়েক বিঘা জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরও কিছু আলু সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোল্ডস্টোরেজের ভাড়া এবং বস্তার অতিরিক্ত দাম আমাদের জন্য নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যে বস্তা ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটির জন্য ১২০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক কৃষক আগামীতে আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।’

কৃষক নেতা ইস্কান্দার বলেন, ‘দুই বছর আগেও কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল প্রতি কেজি ৫ টাকার কম। বর্তমানে সেই ভাড়া বাড়িয়ে ৮ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য অসহনীয়। একই সঙ্গে সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বস্তার দামও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

কৃষক নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের টিকিয়ে রাখা জরুরি। অথচ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যয়ের চাপে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি প্রতি কেজি ৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং বস্তার মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

সুলতান/রিফাত/

চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

চট্টগ্রাম নগরের বিআরবি কলোনি এলাকায় চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার হয়ে মোহাম্মদ জয়নাল (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জয়নাল ডবলমুরিং থানার ধনিয়া পাড়া এলাকার মৃত দুলালের ছেলে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ সকাল প্রায় ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ ঘটনায় এখনও থানায় মামলা দায়ের হয়নি। চোর সন্দেহে গণপিটুনি বা নির্যাতনের ঘটনা আইনবহির্ভূত। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মরদেহের শরীরে বিভিন্ন ধরণের আধাতের চিহ্ন রয়েছে। ”

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এসএন/

 

শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে পাঁচ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ইমরান ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক শেষে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

রবিবার (২১ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা এলাকার দারুল আরকান ইবতেদায়ী মাদরাসায় তাকে আটকে রাখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পালং মডেল থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইমরান ছৈয়াল দারুল আরকান ইবতেদায়ী মাদরাসার অফিস সহকারীর পাশাপাশি শিশুদের কুরআন ও বাংলা পড়াতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েজন শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন শেষে ভয়ভীতি দেখাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করলে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানায়। তবে তারা শিশুটির কথায় প্রথমদিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় শিশুটির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের পর বিষয়টি প্রথমে গোপন থাকলেও পরে শিশুটি পরিবারকে জানায়। এরপর রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একই ধরনের আচরণের শিকার আরও কয়েকজন শিশু থাকতে পারে, তবে সামাজিক কারণে অনেকেই বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, অভিযুক্তকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিধান মজুমদার অনি/এসএন

চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক
খাইরুল ইসলাম সজীব। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের পুত্র ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নেওয়া হয়েছে
ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের পুত্র খায়রুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।

পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে কিছু লোকজন আমাদের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে ভুক্তভোগীরা মামলা করবে।

বিল্লাল হোসাইন/এসএন