বরিশালের বাকেরগঞ্জের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠনের চার মাস পর সনদ জালিয়াতির অভিযোগে সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
অভিযুক্ত মো. সোহাগ হাওলাদার উপজেলার ২ নম্বর চরাদী ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেন ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত রবিবার (১৩ জুলাই) সোহাগ হাওলাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদসহ বোর্ডে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়।
ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিচুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্থানীয় বিএনপির নেতারা সভাপতি পদে মো. সোহাগ হাওলাদারের নাম প্রস্তাব করেন। তিনি আমাদের বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র হওয়ায় বিধি মোতাবেক সোহাগ হাওলাদারসহ তিনজন প্রার্থীর তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা বোর্ডে জামা দেওয়া হয়। সময়স্বল্পতা এবং ব্যস্ততার কারণে সোহাগ হাওলাদারের সনদ যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ আমাদের হয়নি। পরে ওই মাসের ১৩ তারিখ শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সোহাগ হাওলাদারকে কমিটির আহ্বায়ক করে নোটিশ জারি করে এবং আমাদের চিঠি দেয়।’
এদিকে সোহাগ হাওলাদারের শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএর (ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) সনদ নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মো. সাইফুল ইসলাম দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর সনদ যাচাইয়ের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ মহসীন ভূইঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সোহাগের বিবিএর সনদটি ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় বলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবেদনকারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসিকে জানানো হয়। চিঠিতে রেজিস্ট্রার উল্লেখ করেন, যাচাই-বাছাই করে ওই সনদের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি শিক্ষা বোর্ডের কারণ দর্শানোর চিঠি হাতে পেয়েছি, যা বলার শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে বলব।’
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘সোহাগ হাওলাদারের সনদটি জাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দেওয়া প্রতিবেদনে আমি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। বুধবারের (আজ) মধ্যে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. সোহাগ হাওলাদারকে মূল সনদ নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি যদি প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে অ্যাডহক কমিটি বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’