নিলামে বিক্রি হওয়া চায়ের গুণগত মান এবং সর্বোচ্চ দামের বিবেচনায় এবার প্রথম স্থানে রয়েছে মৌলভীবাজারের রত্না চা বাগান। এ বাগানটি তিন বছর ধরে তৃতীয় স্থানে থাকলেও এবার প্রথম স্থান দখল করেছে।
তবে গত বছর ও এর আগের বছরের মতো এবারও দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে হবিগঞ্জের মধুপুর চা বাগান। এবার তৃতীয় স্থানে চলে গেছে গত বছরের প্রথম থাকা আমতলী চা বাগান। চট্টগ্রামের অনুষ্ঠিত হওয়া ১১তম চা নিলাম থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শ্রীমঙ্গলের কেদারপুর চা বাগান রয়েছে চতুর্থ স্থানে। চট্টগ্রামের কৈয়াছড়া ডলু চা বাগান রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
চায়ের মানে-গুণে সেরা ১০ চা বাগানের মধ্যে গতবারের মতো এবারও রয়েছে চট্টগ্রামের একটি (কৈয়াছড়া ডলু চা) বাগান। গত বছর প্রথম স্থান দখল করা আমতলী চা বাগান এবার তৃতীয়। গত বছর প্যাকেট মোড়ানো কিছু উন্নতমানের পাতা বিক্রি করে প্রথম স্থানে এসেছিল বাগানটি। তবে এবার তা ধরে রাখতে পারেনি। প্রতিবছর বাংলাদেশ টি বোর্ড শীর্ষ ৩০ চা বাগানের তালিকা তৈরি করে থাকে। চা উৎপাদনে গুণগত মান বজায় রাখা ও নিলামে সর্বোচ্চ দাম হাঁকা হয় এসব সেরা বাগানের চায়ের।
জানা গেছে, প্রতিবছর বাংলাদেশ টি বোর্ডের অধীনে থাকা দেশের ১৬৯টি বাগানের মধ্যে সেরা তালিকা করা হয়। ওই তালিকায় সেরা দশে থাকা চা বাগানকে টপ টেন বলা হয়ে থাকে, বিশের মধ্যে থাকা তালিকাকে বলা হয় টপ টোয়েন্টি ও ত্রিশে থাকা তালিকাকে বলা হয় টপ থার্টি।
গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম অবস্থানে থাকা শ্রীমঙ্গলের কেদারপুর চা বাগানকে পেছনে ফেলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম স্থানে যায় হবিগঞ্জের আমতলী চা বাগান। বছরজুড়েই নেতৃত্ব দিয়েছিল চা বাগানটি। এ বাগানের চায়ের নিলাম মূল্য ওঠে ৩০৫ দশমিক ২৭ টাকা। কিন্তু বাগানটি এবার তা ধরে রাখতে পারেনি।
এবার প্রথম স্থানে থাকা রত্না চা বাগানের দাম উঠেছে ৩৩১ দশমিক ৩৩ টাকা। এ বাগানের চায়ের দাম গত বছর উঠেছিল ২৯১ দশমিক ৮৯ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানের মধুপুর চা বাগানের প্রতি কেজি চায়ের দাম উঠেছে ৩১৭ দশমিক ৯০ টাকা। এ বাগানের চায়ের দাম গত বছর উঠেছিল ২৯৭ দশমিক ৫৫ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা আমতলীর চায়ের দাম উঠেছে ৩০৮ দশমিক ২১ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩০৫ দশমিক ২৭ টাকা। এবার চতুর্থ অবস্থানে কেদারপুরের চায়ের দাম উঠেছে ৩০১ দশমিক ৩৩ টাকা। এ বাগানের চায়ের দাম গত বছর উঠেছিল ২৮৮ দশমিক ৩৫ টাকা।
শীর্ষ রত্না চা বাগানের ব্যবস্থাপক বশির উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘শীর্ষ স্থানে আসার পেছনে মালিক-শ্রমিকদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই রত্না চা বাগান টপ টেনের মধ্যে ছিল। গত বছর আমতলী প্রথম থাকলেও বছরের শেষের দিকে আমাদের চা বাগান প্রথম স্থান দখল করেছিল। এবার বছরের শুরু থেকেই প্রথম স্থানে রয়েছে। চা তৈরিতে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ করা হয় বলে প্রথম স্থানে আসতে পেরেছি।
চায়ের চারা গাছের পরিচর্যা থেকে শুরু করে পাতা তোলা ও চা তৈরি করা- সব স্থানে গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা এ অবস্থান আগামীতেও ধরে রাখতে চাই।’
চট্টগ্রামের রাঙ্গাপানি চা বাগানের ব্যবস্থাপক উৎফল বড়ুয়া বলেন, ‘এবার চায়ের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি পেয়েছি। কিন্তু অন্যান্য বাগানের সঙ্গে তুলনামূলক পরিসংখ্যানে আমরা পেছিয়ে গেছি। চায়ের গুণগত মান উন্নয়ন করতে না পারায় আমরা পিছিয়ে পড়েছি। আগামীতে আমাদের অবস্থান আরও ভাল হবে। গত বছর আমরা সপ্তম অবস্থানে ছিলাম।’
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘চায়ের গুণগত মান বিবেচনায় টপ থার্টি তালিকা করা হয়। বৃষ্টি কম ও বেশি হওয়ার ক্ষেত্রে চায়ের উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। আবার পাতা তোলার সময় অনেকে বড় পাতা তোলে। ফেলে তখন চায়ের মান ভালো থাকে না। বাগান কর্তৃপক্ষকে গুণগত মান বজায় রেখে চা উৎপাদন করতে হবে। এতে বিদেশে চায়ের চাহিদা আরও বাড়বে, রপ্তানি বাড়বে। বাগান মালিকরা উপকৃত হবেন।’