নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল চরগোবিন্দপুর ত্রিমোহনী এলাকায় তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একই এলাকার গোলজার (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তের দাবি, ওই অভিযোগ মিথ্যা। বরং ওই মেয়েটি কাদাযুক্ত রাস্তায় পা পিছলে পরে যাওয়ার সময় রাস্তার আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি হাত ধরেছিলেন। এ অভিযোগ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ১ লাখ টাকার চেক লিখে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে ভুক্তভোগী মেয়েটি প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ত্রিমোহনী এলাকায় পৌঁছলে গোলজার তাকে যৌন হয়রানি করেন।
অভিযুক্ত গোলজার জানান, তিনি জেনাইল বাজার থেকে ঔষধ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ত্রিমোহনী পৌঁছালে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটি পা পিছলে পড়ে যেতে থাকলে তিনি মেয়েটির হাত ধরেন। এর পর মেয়েটি বাড়ি চলে যায়। তিনিও বাড়ি যান। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কালাম নামে এক সিএনজিচালক প্রতিবেশী তাকে ফোন দিয়ে বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ সরদার তার সঙ্গে কথা বলার জন্য যেতে বলেছেন। তিনি যাওয়ার পর ওই সিএনজিচালক তাকে জোনাইল বাজারে নিয়ে যান। সেখানে এক ঘরে আগে থেকেই ১৫-১৬ জন লোক ছিল। ওই সময় ওই ঘটনার কথা বলে তাকে মেয়েটির হাত ধরার জন্য নানা অপবাদ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করলে তারা শালিসের মাধ্যমে তাকে ১ লাখ টাকা দিতে বলেন। তিনি বাড়ি থেকে দুটি চেক এ ৫০ হাজার করে ১ লাখ টাকায় স্বাক্ষর করেন। ওই বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
গোলজারের স্ত্রীর দাবি, কালামদের সঙ্গে গোলজারদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে মিথ্যা অপবাদে ফাঁসানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শালিসে উপস্থিত, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ সরদার জানান, শালিসে মেয়েটি ঘটনা খুলে বলেছে। তার গায়েও হাত দিয়েছিল গোলজার। সব শুনে সবার সামনে দোষ স্বীকার করার পর ওই জরিমানা ঘোষণা করায় দুটি চেক দেন গোলজার। এর মধ্যে এক চেকে রবিবার (১০ আগস্ট) ৫০ হাজার, অপর চেকে ১৫ আগস্ট আরও ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলে দেওয়ার কথা গোলজারের। কিন্তু রবিবার তিনি আসেন নি। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার মামলা করেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব হোসেন বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগে গোলজারের বিরুদ্ধে মেয়েটির পরিবার মামলা করেছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বিষয়টি তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
কামাল/মেহেদী/