ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক ও লোকবলসংকট। বর্তমানে সেই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে বর্তমানে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক দিয়ে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেই অনুযায়ী জনবল ও অবকাঠামোগত তেমন একটা উন্নয়ন হয়নি। বরং এখনো ৩১ শয্যার চিকিৎক ও জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতাল। বর্তমানে সীমিত জনবল দিয়েই বহিঃবিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং অন্তঃবিভাগের সেবা চালাতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেড় বছর ধরে অনুপস্থিত থাকায় প্রসূতি ও গাইনি রোগীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় জরুরিসেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক নার্স জানান, যখন আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যার ছিল, তখন থেকেই হাসপাতলে চিকিৎসক ও জনবলসংকট বিরাজমান ছিল। পরে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই সংকট আজও কাটেনি।
ইলিয়াস হোসেন নামে স্থানীয় এক যুবক অভিযোগ করেন, চিকিৎসকসংকটের কারণে অনেক রোগীকেই সকালে এসে টোকেন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। আবার অনেক সময় বাধ্য হয়েই তাদের কুমিল্লা বা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এতে বড়তি খরচ ও সময় নষ্ট হচ্ছে।
হাসিনা বেগম নামের রোগীর এক স্বজন জানান, হাসপাতালে এসে টোকেন নিলেও ডাক্তার দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। একসঙ্গে এত রোগী সামলানো ডাক্তারদের পক্ষে সম্ভব না।
আল আমিন নামে রোগীর আরেক স্বজন জানান, রোগী ভর্তির ঘণ্টাখানেক পর ডাক্তার আসেন। বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ লিখে দেন। এর বেশির ভাগ বাইরে থেকে কিনতে হয়।
আব্বাস মিয়া নামের এক অভিভাবক জানান, শিশু ও প্রসূতিদের জন্য এই হাসপাতালে আলাদা কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। ফলে একটু জটিলতা দেখা দিলেই অন্যত্র রেফার করা হয়। এতে অনেক সময় ঝুঁকি বাড়ে।
স্বামীর চিকিৎসা নিতে আসা মিনা রায় জানান, ঘণ্টা পেরিয়ে গেলও এখনো চিকিৎসক আসেননি। শুনেছি অন্য ওয়ার্ডে রোগী দেখে এ ওয়ার্ডে আসবেন। চিকিৎসক স্বল্পতার কারণেই নাকি এমনটা হচ্ছে। ভেতরের পরিবেশটাও তেমন ভালো নয়। উৎকট একটা গন্ধ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রবাসী ওয়াসিম ভূঁইয়া বলেন, ‘ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত বাতি ও ফ্যান নেই। শৌচাগারের অবস্থাও খারাপ। এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লোকবলসহ অবকাঠানো উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আখাউড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবায় এমন সংকট মানা যায় না। এখানে আখাউড়া উপজেলা ছাড়াও পাশের দুটি উপজেলার ৭-৮টি গ্রামের মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় তারা ভোগান্তির শিকার হন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান বলেন, ‘সীমিত জনবল দিয়েই আমরা চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছি। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সামনে বিসিএসের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ করা হলে আশা করি এ সংকট কিছুটা লাঘব হবে।’