ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের নাজুক ও বেহাল অবস্থার দ্রুত প্রতিকার দাবিতে সিলেটে গণঅবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর উদ্যোগে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সূচনাস্থল দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
এসময় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন ‘ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি সিলেটবাসীর প্রাণরেখা। কিন্তু সরকারের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক আজ মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে কোনো উন্নতি নেই।’
তিনি বলেন, ‘সিভিল সার্ভিস, সামরিক বাহিনী কিংবা জাতীয় রাজনীতির কোথাও সিলেটবাসীর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীতেও সিলেটের কেউ নেই, ফলে পুরো বিভাগ এক ধরনের শূন্যতার মধ্যে পড়ে আছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই বঞ্চনা আর সহ্য করা হবে না।’
এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর বলেন, ‘যদি ৩ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম যেতে পারেন, তবে আমরা কেন ৪ ঘণ্টায় সিলেটে আসতে পারব না? সিলেটবাসী কি এই দেশের নাগরিক নন? সিলেট-ঢাকা ৬ লেনের নাম করে যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে আজকে তার ৭ ভাগ মতান্তরে ১৫ ভাগ কাজ হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো শেষ হয় নাই। এই কাজ কবে শেষ হবে? একই সঙ্গে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে সিলেটের সঙ্গে ঢাকার বিকল্প সড়ক ছিলো সেটিরও একই হাল। পাশাপাশি জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার যেখানে স্থলবন্দর আছে, আমদানী রপ্তানি হয় সেই সড়কগুলোরই একই অবস্থা। এগুলো চলতে পারে না। শুধুমাত্র সড়ক যোগাযোগ নয় সিলেটের রেল যোগাযোগের অবস্থাও একই।’
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর রাজপথে সংগ্রাম করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন এই দেশে গণতন্ত্র মুক্তির সংগ্রাম সেই সংগ্রাম আমরা রাজপথে শানিত করেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে সিলেটবাসী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ যতবার ধানের শীষে ম্যান্ডেট দিয়েছে জনগণ ততবার সিলেটের উন্নয়ন হয়েছে। সিলেটের ভালো লাগার মন্দ লাগার সম্মান করেছে সরকার। কিন্তু গত সাড়ে ১৫ বছর ভোটারবিহীন সরকারের পলাতক কিছু মানুষ সেই তথাকথিত জনপ্রতিনিধি আমাদের সিলেট থেকে সম্পদ পাচার করেছে।’
এসময় আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী আগামী ২০ তারিখ জেলা প্রশাসকসহ সিলেটের প্রতিটি উপজেলায় সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করার ঘোষণা দেন।
গণঅবস্থানে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তাজরুল ইসলাম তাজুলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন নজমুল হোসেন পুতুল, অ্যাডভোকেট হাসান পাটোয়ারী রিপন, ফালাকুজ্জামান চৌধুরী জগলু, ডা. এনামুল হক, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সুয়েব, অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদার, বদরুল ইসলাম জয়দু, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, আব্দুল কাদির সমছু, অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমেদ, আলী আকবর, মাহবুব আলম, মনিরুল ইসলাম তুরন, আবুল হাসনাত, ফজলে রাব্বি আহসান, শাহিন আলম জয়, আপ্তাব উদ্দিন, ছাদিকুর রহমান টিপু, রেজাউর রহমান চৌধুরী রাজু, ফখরুল ইসলাম পাপলু, জামাল মেম্বার, আব্দুল মালিক মল্লিক, সাহেদ মেম্বার, রুহুল আমীন, আমিনুর রহমান চৌধুরী সিফতা, পাবেল রহমান রাশেদুল হাসান চৌধুরী, দিনার আহমদ শাহ, রায়হানুল হক, মো. শাহিন আহমদ ও মেহেদি হাসান রফি।
শাকিলা ববি/মাহফুজ