ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহার, ছাত্রদের ওপর হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ ৪ দফা দাবি আদায়ে আলটিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামিয়া ফয়জুর রহমান (রহঃ) মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বড় মসজিদ ক্যাম্পাসের জামিয়া ফয়জুর রহমান মাদ্রাসার সামনে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই সমাবেশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার, হামলায় দায়ীদের গ্রেপ্তার ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, জামিয়া ফয়জুর রহমান কওমি মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বরাবরই মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর অভিযোগের ব্যাপারেও জেলা প্রশাসক ওই শিক্ষকের পক্ষ নেন বলে অভিযোগ করা হয়। এসব নিয়ে মাদ্রাসায় চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাদ্রাসার দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পর রাতে মাদ্রাসায় ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করা হয়। হামলায় আহত হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ শহীদুল ইসলামকে রাতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় সোমবার রাত ১০ টার পর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতেই মাদ্রাসার পূর্ব গেটে সেনাবাহিনী, র্যাবসহ পুলিশ অবস্থান নেয়।
এদিকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পর মঙ্গলবার মাদ্রাসা ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ শেষে আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আলাদা সংবাদ সম্মেলনে তাদের চার দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থীদের নেতা আজিজুল হক ও শিক্ষক নেতা মুফতি ওমর ফারুক। এ সময় বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হক উপস্থিত ছিলেন।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন