তেঁতুলিয়ায় এক গৃহিণীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকারসহ চার লাখ দশ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে থানায় মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে একজনকে আটক হওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর বাড়ির পিছনে চা বাগান দিয়ে বাড়ির বেড়া কেটে ভিতরে ঢোকেন মুখোশ পরে কয়েকজন লোক। এ সময় বাড়িতে একা ছিলেন গৃহিণী ফরিদা বেগম। তিনি আব্দুল মোতালেবের স্ত্রী। ঘরে ঢুকেই বাড়ির গৃহিণী ফরিদা বেগমের গলায় ছুড়ি ঠেকিয়ে আলমারির চাবি চান। অস্ত্রের মুখে জিম্মি হয়ে কৌশলে অন্য চাবি দিলেও দুর্বৃত্তরা আলমারির সোকেশ বের করে উঠোনের এককোণে এনে সঞ্চিত টাকাগুলো নিয়ে নেয়। আরেকজন ওই গৃহিনীর নাকের নাক ফুলও ছিনিয়ে নিয়ে ঘরের পিছন দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ফরিদা বেগম।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাজার থেকে বাড়িতে ছুটে আসেন ফরিদা বেগমের স্বামী আব্দুল মোতালেব। তিনি বিষয়টি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জানালে মুহূর্তে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন বাড়িটিতে ভিড় জমান। খবর পেয়ে এনসিপির হাবিবুর রহমান হাবিব ও জামায়াতের জয়নাল আবেদীনসহ অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও ছুটে আসেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া।
জ্ঞান ফেরার পর ফরিদা বেগম বলেন, লোকগুলোর মুখে মাস্ক পরা ছিল। ঘরে ঢুকেই আমার গলায় ছুড়ি ঠেকিয়ে আলমারির সোকেশের চাবি চায়। অন্য চাবি দিলে তারা আমার নাকের নাকফুল ছিনিয়ে ও সোকেশ নিয়ে ঘরের বাইরে চলে যায়। সোকেশে চার লাখ টাকার বেশি ছিল বলে জানান ফরিদা বেগমের স্বামী আব্দুল মোতালেব।
তবে ডাকাত দলের কাউকেই চিনতে পারেননি বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
প্রতিবেশী ঝুনু জানান, এ ধরনের ডাকাতির ঘটনায় এ গ্রামে কখনোই ঘটেনি। তাও সন্ধ্যার পর। দ্রুত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এসব ডাকাতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ওসি মুসা মিয়া জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারটির সঙ্গে কথা বলেছি। আজ ফরিদা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আসলে এটি ডাকাতি নয়, ছিনতাই। বিষয়টি বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। একাধিক টিম কাজ করছে।
রনি/মেহেদী/