রাজশাহীর বাগমারার মোহনগঞ্জ থেকে পবা উপজেলার নওহাটা পর্যন্ত সড়কের বিশাল অংশ বারানই নদীতে ধসে পড়েছে। চেইনেজ ৫০০ মিটার থেকে ৮০০ মিটার পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক নদীতে বিলীন হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল। এতে প্রায় ৫০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে হঠাৎ সড়কটির ডান পাশের অংশ ধসে পড়ে নদীতে। এর পর থেকেই সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এতে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি হেঁটে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মোহনগঞ্জ থেকে নওহাটা পর্যন্ত সড়কের ধস অংশের কিনারা আরও ভেঙে পড়ছে। আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে; কেউই নিশ্চিত নন, আর কতটুকু অংশ নদীতে তলিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, এ সড়কটি বাগমারা, দুর্গাপুর, নওহাটা ও রাজশাহী শহরমুখী মানুষের প্রধান যোগাযোগের পথ। এ পথে অ্যাম্বুলেন্স, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি, স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীর মালবাহী গাড়ি, বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়মিত যাতায়াত করত। ধসে যাওয়ার পর এসব সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকেও রোগীরা এ সড়ক দিয়ে দ্রুত রামেক হাসপাতালে পৌঁছাতেন এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু তা-ই নয়, উপজেলার মোহনগঞ্জ, চকহায়াতপুর, হায়াতপুর, আনুলিয়া, সুখানদিখী, দাওকান্দি এলাকার শিক্ষার্থীরা এ সড়ক দিয়ে আগে খুব অল্প সময়ে স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে পারতেন। কিন্তু ধসে যাওয়ায় এখন তাদের অনেক পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
কলেজ শিক্ষার্থী দিপালী বলেন, ‘দাওকান্দি সরকারি কলেজসহ মোহনগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে এখন কষ্ট হচ্ছে। সড়কটি ধসে পড়ার কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।’
মোহনগঞ্জ এলাকার ভ্যানচালক মুন্না শেখ বলেন, ‘রবি ও বৃহস্পতিবার মোহনগঞ্জ ও হাসনিপুরে বড় হাট বসে। সড়ক ধসে যাওয়ায় যান চলাচল হচ্ছে না। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
এ দিকে ধসের খবর পেয়ে বাগমারার উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর রহমানের নেতৃত্বে এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। জানতে চাইলে মুনছুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার দিনই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই। ভারী যানবাহন যাতে এখানে না আসে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশেই নদী থাকায় স্থায়ী কোনো নির্মাণকাজ বিশেষজ্ঞ ডিজাইন ছাড়া করা যাবে না। রাজশাহী হেড অফিসে ডিজাইন টিমের পরামর্শ ও অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। ফাইল অনুমোদন হলেই পূর্ণাঙ্গ সংস্কারকাজ শুরু করা যাবে।’