ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন কলেজছাত্র রাকিবুল ইসলাম স্বাধীন। এই ঘটনায় দালাল আবুল কালামকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
গত ১২ নভেম্বর লিবিয়ার বেনগাজি উপকূলীয় এলাকা থেকে বিভিন্ন দেশের শতাধিক যুবকের সঙ্গে স্পিডবোটে করে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন স্বাধীন।
স্বাধীনের সঙ্গে একই বোটে থাকা ফজলুল হক জানান, যাত্রাপথে হঠাৎ স্পিডবোটটি উল্টে গেলে অনেকে সাগরে পড়ে যান। এরপর থেকে স্বাধীন নিখোঁজ রয়েছেন। তার কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ স্বাধীন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ভুতগাছা গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা আবুল কালাম নামে এক দালালকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। আবুল কালাম উপজেলার ঘিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা।
স্বাধীনের বাবা ফিরোজ আহমেদ জানান, দালাল আবুল কালামের ছেলে সাদ্দাম ইতালি থাকেন। এই সুবাদে আবুল কালাম বাংলাদেশ থেকে মাঝে মাঝে সেখানে লোক পাঠান। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফিরোজের ছেলে স্বাধীনকে ইতালিতে পাঠানোর জন্য জমি বন্ধক রেখে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা ধার নিয়ে কয়েক কিস্তিতে ২৫ লক্ষাধিক টাকা দেন। চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে দালাল আবুল কালাম স্বাধীনকে এবং পাশ্ববর্তী পারতেতুলিয়া গ্রামের আব্দুল মোনায়েমের ছেলে ফজলুল হককে বাড়ি থেকে নিয়ে যান।
তিনি জানান, তাদেরকে প্রথমে ভারতের চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিগত কয়েক মাসে দুবাই, মিশর, শ্রীলংকা ও সর্বশেষ লিবিয়াতে নিয়ে যান। লিবিয়া থেকে এ বছরের ১২ নভেম্বর স্পিডবোটে করে শতাধিক যুবককে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠায় আবুল কালাম। কিন্তু ১২ নভেম্বরের পর থেকে তার ছেলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। গতকাল স্বাধীনের সঙ্গে যাওয়া ফজলুল হক বাড়ি ফিরে এলে তার কাছ থেকে স্পিডবোট ডুবে স্বাধীন নিখোঁজের খবর পান।
স্বাধীনের সঙ্গে বিদেশ যাওয়া ফজলুল হক জানান, তারা বেশ কয়েক মাস ধরে চেন্নাই থেকে নৌপথে দুবাই, মিশোর, শ্রীলংকা ও সবশেষ লিবিয়াতে গিয়ে পৌঁছান। লিবিয়ার উপকুলীয় অঞ্চলে একটি ঘরে তাদের রাখা হয়। তাদেরকে মাঝে মাঝেই মারধর করা হতো। সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। দিনে মাত্র একবার খেত দিতো তারা। এ অবস্থায় পরবর্তীতে স্পিডবোটে বিভিন্ন দেশের শতাধিক যুবককে তুলে ইতালির অভিমুখে রওনা করায় দালালের লোকজন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই স্পিডবোটটি উল্টে সবাই ডুবে যায়।
ফজলুল হক আরও জানান, অচেতন অবস্থায় ওখানকার কোনো সংস্থা তাকে উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে। তবে কোন সংস্থা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠায় তা সঠিক বলতে পারেনি ফজলুল। ফজলুলের ধারণা স্বাধীন মারা গেছেন।
স্বাধীনের মা নার্গিস খাতুন শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে তার ছেলের ছবি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সন্ধান চান। সেই সঙ্গে দালাল আবুল কালামের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, ফজলুল হকের কাছে খবর পেয়ে ফিরোজ আহমেদের পরিবারের লোকজন স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে দালাল আবুল কালামকে আটক করেন। পরে উল্লাপাড়া মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে আবুল কালামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্বাধীনের পরিবার থেকে এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সিরাজুল ইসলাম/অমিয়/