দেশের চা-বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে শীত যেন প্রতিদিন একটু করে জমে উঠছে। গত কয়েকদিন ধরেই জেলাজুড়ে বইছে শীতের দাপট। আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি একবারও। কুয়াশার চাদরে মোড়া পুরো জেলা যেন ঘুম ঘুম আবেশে ঢাকা। সূর্যহীন এই দিনে শীতের তীব্রতা বেড়েছে দ্বিগুণ। ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে মিলেমিশে কুয়াশা যেন হয়ে উঠেছে প্রকৃতির আরও এক রহস্যময় রূপ।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শহর ও শহরের বাইরের বেশ কিছু এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শহরে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকলেও হাওর, পাহাড় ও চা-বাগান এলাকায় বসবাসরত মানুষের খুব বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ঠান্ডায় বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। চা-বাগানে শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় কাজে সমস্যা হচ্ছে চা-শ্রমিকদের।
রাজনগর এলাকার দিনমজুর খালিক মিয়া বলেন, কাজ পাব- সেই আশায় শীতের মধ্যেই ভোরবেলায় শহরে আসতে হয়। কখনো কাজ পাই, কোনোদিন শীতের কারণে কাজ জোটে না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না।
রিকশাচালক সুহেল মিয়া বলেন, আজ সকাল থেকেই কুয়াশা। তাই রাস্তায় মানুষের চলাচল কম। যে কারণে রিকশায় যাত্রী পাচ্ছি না। শীত বাড়ায় আয়-রোজগারে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।
চা-শ্রমিক জয়ন্ত কুর্মি বলেন, সারাদিন সূর্যের দেখা নেই, ঠান্ডা বাতাসে তীব্র শীত জানান দিচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে শীত বেশি পড়ছে। এ তীব্র শীতের কারণে সবাই কষ্ট পাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মুজিবুর জানান, আজ সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা নিচে নামার কারণে চলতি সপ্তাহ থেকে জেলায় শীত পুরোপুরি শুরু হয়েছে।
পুলক পুরকায়স্থ/সুমন