ফুল উৎসব উপলক্ষে ১৪০ প্রজাতির বিভিন্ন রঙের লক্ষাধিক ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ডিসি পার্ক। ফুলের মধ্যে দেশি-বিদেশি নানা রঙের নজরকাড়া ফুল থাকলেও সেখানে দেখা যায়নি জাতীয় ফুল শাপলা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ৩টায় ডিসি পার্ক উদ্বোধন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় মাসব্যাপী নানা আয়োজনের কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ডিসি পার্কে চতুর্থবারের মতো এবারের ফুল উৎসব চলবে। শুক্রবার সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই ফুল উৎসব। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পযন্ত দর্শনার্থীরা উৎসব উপভোগ করতে পারবেন। বিকেল ৪টা থেকে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শুক্রবার প্রধান অতিথি হয়ে ফুল উৎসব উদ্বোধন করবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাছির আহমেদ খান।
এর আগে তিন বছর জোড়া পুকুরের এক পাশেই ফুলের বাগান সাজানো হয়েছিল। এবার ফুল থাকবে পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাশেই। ডিসি পার্কের ইনচার্জ আব্দুর রশিদ বলেন, ‘দর্শনার্থীদের স্মৃতি ধরে রাখতে এবার পেশাদার ফটোগ্রাফারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবার পুকুরের দুই পাশেই ফুল উৎসব হবে। নতুন-পুরোনো ফুলের পাশাপাশি পার্কের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত ফুলও থাকবে। পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী রাখা হয়েছে।’
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্কের ভেতরের বেশ কিছু অংশে এ বছর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থাপনার গঠনও বদলানো হয়েছে। ফটকের ভেতর বাম পাশে শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকছে আলাদা আয়োজন। মূল ফটকের ভেতরে পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়জুড়েই রয়েছে সাজানো গোছানো ফুলের বাগান।
এবার তৈরি করা হয়েছে জায়ান্ট ফ্লাওয়ার, ট্রি হাউস, ট্রিপল হার্ট শেলফ, ট্রেন, বক, ময়ূরসহ বিভিন্ন নান্দনিক স্থাপনা। বিদেশি ফুলের মধ্যে রয়েছে লিলিয়াম, ম্যাগনোলিয়া ও ক্যামেলিয়া। দেশি ফুলের মধ্যে আছে গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি। পুকুরের উত্তর পাশের পূর্ব পাড়ে বসানো হয়েছে খাবারের স্টল ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন। পার্কে প্রবেশে আগের মতোই জনপ্রতি ৫০ টাকা টিকিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় ফুল উৎসব এটি। মানুষের চাহিদার কারণে প্রতিবছর নতুন থিম যুক্ত করা হচ্ছে। এবার নতুন সংযোজন জিপলাইনসহ বিভিন্ন স্থাপনা সংযোজন করা হয়েছে।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, ‘এবার ফুল উৎসবে দেশি-বিদেশি ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুল এখানে আছে। এতে চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকে আসা ফুলপ্রেমীরা বিভিন্ন ফুলের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য গ্রামীণ মেলাসহ চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার প্রতিদিন আলাদা সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। এমনকি ১৬টি দেশের বিদেশি শিল্পীরাও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি এখানে তুলে ধরবেন।’