চট্টগ্রামের বড় ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েছে মসলা পণ্যের দাম। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আট ধরনের মসলা পণ্যের দাম ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আলু বোখারা ও লবঙ্গের দাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আলু বোখারায় ২০০ টাকা, লবঙ্গে ১২০ টাকা, জিরা ও গোলমরিচে ৫০ টাকা, হলুদে ৪০ টাকা, কালোজিরায় ৪৫ টাকা এবং শুকনা মরিচ ও মেথির কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারটিতে প্রতি কেজি আলু বোখরা ৬৯০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৩০০ টাকা, জিরা ৫৮০ টাকা, গোলমরিচ ১ হাজার ৭০ টাকা, হলুদ ২৫০ টাকা, কালোজিরা ৪৬৫ টাকা, শুকনো মরিচ ৩০০ টাকা ও মেথি ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের সব স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং ও যাত্রীসেবায় মাশুল গড়ে ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, যা চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। এ কারণে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। সরবরাহ কম ও চাহিদা থাকার কারণে এসব পণ্যে দাম কিছুটা বেড়েছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে অধিকাংশ পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা। এর মধ্যে বেশির ভাগ মসলা আসে ভারত থেকে। পণ্যের বুকিং রেট ও আমদানি খরচ বাড়লে অথবা চাহিদার তুলনায় জোগান কমে গেলে দাম বেড়ে যায়।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা এখন নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এর মধ্যেও যদি বাজার তদারকিব্যবস্থা অব্যাহত রাখা যায়, তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর সুযোগটা পাবে না।’
এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হয় ১১০ টাকায়। পাশাপাশি বাজারে প্রতি কেজি হাঁড়সহ গরুর মাংস ৮৫০ টাকা ও হাঁড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয় ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
সবজির বাজারে প্রতি কেজি নতুন আলু ৩০ টাকা এবং পুরোনো আলু ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা পেঁপে এবং এক হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তাছাড়া প্রতি কেজি টমেটো, শিম, শালগম বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। কাঁকরোল, পটোল, দেশি গাজর, দেশি শসা, ঢ্যাঁড়শ, চিচিঙ্গা, কচুর লতি, কচুরমুখী, লাউ, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, রূপচাঁদা ৮৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, লইট্যা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প ২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা ও নাইলোটিকা ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তাছাড়া মুদি দোকানে প্রতি কেজি মসুর ডাল (মোটা) ৯০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, মুগ ডাল (বড়) ১২০ টাকা, মুগ ডাল (ছোট) ১৩০ টাকা ও বুটের ডাল ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১০ টাকা ও প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকায় বিক্রি হয়।