চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের পদত্যাগ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এ. আর. মল্লিক ভবন (প্রশাসনিক ভবন) এর সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত সময়ে নিয়োগের নামে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি হয়েছে। এসব অনিয়মের দায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ করতে হবে। তিনি জানান, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলে। দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, উপ উপাচার্যের মেয়ে, শিক্ষকের ভাই, শালি কিংবা জামাই কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে জবাব দিতে হবে। নিয়োগ যদি স্বচ্ছ হয়ে থাকে, তাহলে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অভিযোগযুক্ত সব নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দায়ীদের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি।
শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যাশায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেই প্রত্যাশা ভেঙে দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম চালাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি থেকে আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনসহ প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের নেতৃত্বে গত ১৫ মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে অন্তত ৩ শতাধিক জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও নতুন নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এসব নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি ও দল ভারী করার অভিযোগ তুলে উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
তবে উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লিখিত-মৌখিক ও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। গত দেড় বছরে অনেকেই চাকরি ছেড়ে যাওয়ায় নিয়োগ প্রয়োজন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ইউজিসি জানিয়েছে, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে নিয়ম মেনে নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো বাধা নেই।
আল আরাফ/এসএন