সিলেট নগরী সংলগ্ন তারাপুর চা বাগানের একটি মন্দিরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সিলেট সদর উপজেলাধীন ৬নং টুকেরবাজার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত তারাপুর চা বাগানের শ্রী শ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
আগুনে মন্দিরের চারপাশে ঘেরাও করা কাপড়, ভেতরে থাকা গীতাসহ কয়েকটি ধর্মীয় গ্রন্থ ও দেবদেবীর ছবি পুড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর ধরে তারাপুর চা বাগানের বাদামুড়া লাইনে চা শ্রমিকরা মন্দিরে পূজার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মন্দিরসংলগ্ন বসবাসকারী মালা মুদির বোন সুমি রায় সকালে মন্দিরের পাশের দোকান ঝাড়ু দিতে আসেন এবং মন্দিরের ভিতরে ধোঁয়া দেখতে পান। এই খবর সুমি তার বোন মালাকে জানান এবং তিনি সবাইকে আগুন লাগার বিষয়টি অবগত করেন। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে, এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মুবাশ্বির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিছু আলামত সংগ্রহ করে থানায় নেওয়া হয়।
শ্রী শ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে নিয়মিত কীর্তন করেন মিলন ভৌমিচ বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে আমরা চা শ্রমিকরা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী বাস ও কাপড় দিয়ে এখানে মন্দির স্থাপন করি। আমরা আমাদের নিয়মিত প্রার্থনা ও কীর্তন এখানে করি। আজ ভোরে কে বা কারা এখানে আগুন দিয়েছে, আমরা বলতে পারি না। আমাদের এই এলাকার কারও সাথে কোনো বিরোধ নেই। মন্দির স্থাপনের সময়ও কেউ বাধা দেয়নি। এমনকি আমরা নিয়মিত ঢোল-করতাল বাজিয়ে কীর্তন করি, তাতেও কেউ বাধা দেয়নি। এখন কেন আমাদের মন্দিরে আগুন দেওয়া হলো বুঝতে পারছি না। আমরা সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ এসে দেখেছে এবং জিডি করতে বলেছে। বিকালে গিয়ে জিডি করেছি।’
ঘটনা শুনে বিকেল ৫টায় সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমি এবং আমার দল সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আমরা চাই হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করবে। আমরা দেখেছি চা শ্রমিকরা উৎসাহ-উদ্দীপনায় ১২ তারিখ নিজেদের পছন্দের মানুষকে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের পর মন্দিরে আগুন দেওয়া অবশ্যই ভালো লক্ষণ নয়। এটা অনুমেয়, যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারা এই কাজ করেছে। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। চা শ্রমিক ভাই-বোনদের বলব আতঙ্কিত হবেন না। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা নিরাপদে থাকবেন।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও মিডিয়া অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় অজ্ঞাত আসামী হিসেবে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।’
রিফাত/