লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফি হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
এই গ্রেপ্তারের পাশাপাশি শফি হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখা।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার মামলার প্রধান আসামি জকিগঞ্জের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার ২নং আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভনকে (২০) নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিনে অপর আসামি তাহিরুল হককে (২০) তার শ্বশুর বাড়ি লালাগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাহিরুলের কাছ থেকে নিহত শফির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর সাব্বির ও শোভন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের মাসেরচক হাওর বিলপাড় থেকে লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফির (৫৯) সম্পূর্ণ আগুনে পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে জকিগঞ্জ থানায় দুদিন পর মামলা করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে শফিকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আলামত জব্দ ও আসামি গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত বোরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও তিনি সিলেট নগরীর চৌকিদেখী এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন লন্ডনে প্রবাসী জীবন কাটিয়েছেন। গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় স্বজনরা সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
রিফাত/