চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, যারা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অ্যাকশন চলতে থাকবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মূল্য পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার পরিদর্শনকালে মেয়র একথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র বিভিন্ন দোকানের মূল্য তালিকা যাচাই করেন। যাদের দোকানে মূল্য তালিকা দেখেননি পরের বার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দেন মেয়র। এসসময় একটি দোকানে গতবছরের ১২ আগস্টের মূল্য তালিকা দেখতে পেয়ে জরিমানার নির্দেশ দেন মেয়র।
এসময় মেয়র ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো রমজান মাস আসলে দাম কমায়, আর বাংলাদেশে বেড়ে যায়। তিনি ন্যায্যদাম নেয়ার আহ্বান জানান।
তিরি আরও বলেন, আমরা খাতুনগঞ্জ, পাহাড়তলী বাজার, চকবাজার, বহদ্দারহাটের মতো বড় বাজারগুলো মনিটরিং করছি। আমরা দেখছি, কেউ বেশি দাম নিচ্ছে কিনা, কেউ ডালে রং অথবা খাদ্যপণ্যে ফরমালিন বা ভেজাল মেশাচ্ছে কিনা। পাশাপাশি আমরা খুচরা বাজারেও মনিটরিং করব। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, কোন ধরণের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীকে আমরা জায়গা দিতে চাই না। যারা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের একশন চলতে থাকবে।
বাজার মনিটরিং শেষে মেয়র খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এসময় মেয়র বলেন, আমরা যদি পাইকারি বাজার দর স্বাভাবিক রাখতে পারি তার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়বে। তবে আমরা খুচরা বাজারেও মনিটরিং করব। গতবারও করেছিলাম। আমি আজ পইকারি বাজারে দেখলাম সয়াবিন তেল ১৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমি দেখব, খুচরায় সেটা কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেখব বাড়তি অর্থ নেয়া হচ্ছে কিনা। যদি কেউ ১৯০, ১৯৫, ২০০ বা তারও অধিক দামে বিক্রি করে সে ব্যাপারে আমাদের ব্যবস্থা অবশ্যই থাকবে।
তিনি বলেন, আজকে একটা বিষয় খেয়াল করলাম, বাজারে ব্যবসায়ীদের দোকানের ভেতর পণ্য রাখার জায়গা আছে। কিন্তু সেটা তারা প্রদর্শনের জন্য রাস্তায় নিয়ে এসেছে। তার উপর যানযট। যারা ইচ্ছকৃতভাবে এটা করেছেন তাদের আমরা এ কাজটা করতে বারণ করেছি। একটা কথা মনে রাখা দরকার, খাতুনগঞ্জে যদি পানি ওঠে তাহলে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। তাই এই এলাকায় যাতে জলাবদ্ধতা না হয়, এটা দেখার দায়িত্ব আসলে আমাদের সবার। সব জায়গায় আমরা জলাবদ্ধতার দিকটা ফোকাস করছি। আজকেও আমি অনেক দোকানদারকে বলেছি, ময়লা যেকোন জায়গা থেকে আসুক না কেন, ময়লা যার দোকানের সামনে পাব, ব্যবস্থা নিব। কারণ এটা যদি আমি না করি, তাহলে পুরো খাতুনগঞ্জে সমস্যাটি থেকে যাবে।
আমার মনে হয়, সংগঠনের সদস্যদের (খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন) এব্যাপারে নজর দেয়া দরকার। বিশেষ করে যাদের দোকান নালার সামনে আছে, ময়লাগুলো যাতে নিজ দায়িত্বে ডাস্টবিনে রাখা হয়, আমার মনে হয় সমস্যাটির সমাধান হবে।
এসময় মেয়রের সঙ্গে চসিক অঞ্চল-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) মৌমিতা দাশ ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক মাহমুদ/এসএন