ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়ের সুযোগে বরিশাল-ঢাকা রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা বলছেন, টিকিটে ভিন্ন গন্তব্য দেখিয়ে কিংবা ট্যুরিস্ট বাসের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা তদারকি এড়ানোর একটি কৌশল।
ঈদের ছুটি, সাপ্তাহিক বন্ধ ও অতিরিক্ত ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশ শেষে গত শুক্র ও শনিবার দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিরতে শুরু করেন। এ সময়েই বিভিন্ন বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সামনে আসে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ভিড় ও তাড়াহুড়ার সুযোগে অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে। বাস কর্তৃপক্ষ টিকিটে অন্য রুট বা স্টেশনের নাম উল্লেখ করে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। এতে করে পথে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সরকারি সংস্থার নজরদারিতেও বিষয়টি সহজে ধরা পড়ে না।
যাত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, শুধু বেসরকারি বাস নয়, সরকারি পরিবহন বিআরটিসির কিছু ট্যুরিস্ট বাসেও একই চিত্র দেখা গেছে। ঈদ উপলক্ষে বরিশাল-ঢাকা রুটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া প্রায় অর্ধশত বাস বিশেষ সার্ভিস হিসেবে চলাচল করেছে। এসব বাসেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রী জুয়েল সরকার বলেন, ‘শ্যামলী পরিবহনের দুটি টিকিট কাটতে গিয়ে আমাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু টিকিটে গন্তব্য লেখা ছিল বরগুনা-গাবতলী। স্বাভাবিকভাবে দুজনের ভাড়া হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার টাকা।’ তিনি মনে করেন, আইনি জটিলতা এড়াতেই এভাবে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
আরেক যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, তিনি বিআরটিসির একটি ট্যুরিস্ট বাসে বরিশাল থেকে ঢাকার গুলিস্তান পর্যন্ত ১ হাজার টাকা ভাড়া দিয়েছেন। তবে তাকে কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিসির বরিশাল ডিপোর ব্যবস্থাপক (অপারেশন) জুলফিকার আলী বলেন, বরিশাল থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। এর বেশি ভাড়া নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। যাত্রীরা সরাসরি কোনো অভিযোগ করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাসমালিকদের সংগঠন ‘বরিশাল মালিক গ্রুপ’-এর সভাপতি মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার জন্য মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। কোনো যাত্রী প্রমাণসহ অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অনলাইনে আগাম টিকিট কিনে কালোবাজারিরা সেগুলো চড়া দামে বিক্রি করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দীন বলেন, ‘আমাদের কাছে সরাসরি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ যাত্রীরা করেন না; তারা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি লিখছেন।’ বাসস্ট্যান্ড বা কাউন্টারের আশপাশে টিকিট কালোবাজারির সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কালোবাজারিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। দূর থেকে যারা কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কিনছেন, তারাও কোনো অভিযোগ করছেন না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।