টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভারত সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ছয়টি গ্রামের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী ধোবাউড়া উপজেলাতেও একই অবস্থা। এতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমর পর্যন্ত। চলাচলের অনেক কাঁচা সড়কে পানি ওঠায় স্থানীয়রা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। অনেক বাড়ির উঠানেও পানি উঠেছে। গবাদিপশু নিয়ে অনেকে বিপাকে পড়েছেন। তবে কিছু এলাকায় পানি কমতেও দেখা গেছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি হালুয়াঘাটের বোরারঘাট নদীর বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের গাজীরভিটা, বোয়ালমারা, মহাজনীকান্দা, পাগলাবাজার, পূর্ব কালিনিকান্দা ও আনচেংগ্রী গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান, ভুট্টা ও বাদাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। আর ধোবাউড়া উপজেলায় নেতাই নদীর পানিতে রাবার ড্যাম সড়ক ভেঙে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেক কৃষকের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, হালুয়াঘাটের অন্তত ছয়টি গ্রামে আবাদ করা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বোর ধানখেত ছাড়াও বাদাম, ভুট্টা ও রবিশস্য পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গ্রামের নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়রা বিপাকে পড়েছেন। গবাদিপশু নিয়ে আলাদা দুশ্চিন্তায় আছেন অনেক খামারি। অনেকে জিনিসপত্র সরিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পার্শ্ববর্তী ধোবাউড়া উপজেলার নেতাই নদীর পানি বেড়ে যায়। একপর্যায়ে গামারীতলা ইউনিয়নের কলসিন্দুর গ্রামের রনশিংহপুড় এলাকায় রাবার ডেম সড়ক ভেঙে যায়। এতে রনশিংহপুড় ও বাঘবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঘবেড় গ্রামের ধুমকাটা এলাকায় প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
হালুয়াঘাটের আনচেংগ্রী গ্রামের কৃষক আ. মজিদ বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে বোরারঘাট বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পাহাড়ি ঢলে মসজিদ, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করছেন না। এবারের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে অনেকগুলো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বোরো ধানের শিষ বের হতো, কিন্তু এখন সব পানির নিচে। এতে দুশ্চিন্তা কাটছে না।’
একই উপজেলার বোয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় নদীর বাঁধ কয়েক বছর আগে ভেঙে যায়। কিন্তু তা মেরামত না করায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকায় দ্রত পানি ঢুকে পড়ে। বাঁধটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।’
ধোবাউড়া উপজেলার রনশিংহপুড়ের বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, হঠাৎ করেই রাবার ড্যাম সড়কটি ভেঙে গিয়ে দ্রুতগতিতে পানি নিচু জমিগুলোতে প্রবেশ করতে থাকে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। পানি আরও কয়েক দিন থাকলে প্রচুর ফসল নষ্ট হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক এনামুল হক বলেন, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটের অন্তত ২০০ একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ধোবাউড়ায় আরও অন্তত ১০০ একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জান্নাত বলেন, বোরারঘাট বাঁধটি দুই বছর আগে ভেঙে গিয়েছিল। এটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য কাজ চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ভেঙে যাওয়া রাবার ড্যাম সড়কটি সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে বলা হয়েছে।