বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর মধ্যে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুরা রোগ। জেলার অনেক খামারেই একের পর এক গরু আক্রান্ত হওয়ায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ রোগে আক্রান্ত পশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিনের মজুদ না থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন খামারি ও পশুপালকেরা। ফলে আক্রান্ত গরুর মৃত্যু ঝুঁকির পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসের শুরুতেই ভ্যাকসিন সরবরাহ পাওয়া যাবে।
সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী গ্রামের বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় জানান, এ বছর তার পালন করা ছয়টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। একই এলাকার নাসির নামে আরেক খামারির পাঁচটি গরুও আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বাছুর মারা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় আরও কয়েকটি গরুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
মিলন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে দেখা যায়, তার গরুগুলোকে আলাদা করে বেঁধে রাখা হয়েছে। গত এক মাস ধরে আক্রান্ত পশুগুলোকে সুস্থ করতে দিনরাত চেষ্টা করছেন তিনি ও তার স্ত্রী। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ওষুধ প্রয়োগ এবং বিশেষ যত্ন নিতে হচ্ছে প্রতিটি গরুর ক্ষেত্রে।
তবে মিলন চন্দ্র রায়ের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে বাজার থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। একই অভিযোগ করেছেন এলাকার অন্যান্য খামারিরাও। দ্রুত সরকারি উদ্যোগে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মিলন চন্দ্র রায় বলেন, প্রায় এক মাস ধরে গরুগুলো অসুস্থ। নিজের কাজ ফেলে সারাক্ষণ গরুর দেখাশোনা করতে হচ্ছে। কোথাও সরকারি ওষুধ পাচ্ছি না, বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে।
তার স্ত্রী শিপু রানী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। চিকিৎসা করাতে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি।
আরেক খামারি নাসির জানান, একটি গরু আক্রান্ত হওয়ার পর একদিনের ব্যবধানে তার আরও চারটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। একটি বাছুর দ্রুত মারা যায়। প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য সরকারি সহায়তা না পেয়ে বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
সদরের পশ্চিম গুদিঘাটা এলাকার বাসিন্দা রাজিব হোসেন বলেন, এ বছর এলাকায় অসংখ্য গরু আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা সরাসরি না এসে প্রেসক্রিপশন দেন, ওষুধ কিনতে হয় বাইরে থেকে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বরগুনা জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষুরা রোগ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং মানুষের সংস্পর্শেও সংক্রমণ হতে পারে। কোরবানির সময় পশু পরিবহনের কারণে রোগের বিস্তার বাড়ে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে এ রোগ দেখা যাচ্ছে। আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করা জরুরি। বড় গরুর মৃত্যু ঝুঁকি কম থাকলেও ছয় মাস থেকে এক বছরের বাছুর ঝুঁকিতে থাকে।
ভ্যাকসিন সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে ভ্যাকসিন নেই। কোরবানির আগেই চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে এবং তখনই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মহিউদ্দিন অপু/খাদিজা রুমি/