প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের অধীনে খাগড়াছড়ি জেলা কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্রে সীমানাপ্রাচীর ও গেট নির্মাণের কাজ চলছে। তবে এই কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ তুলেছেন।
তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই যুগের পুরোনো সীমানাপ্রাচীরের ভেতরের লোহার রড ইতোমধ্যেই তার শক্তি হারিয়েছে। মরচে পড়া রড আর প্রাচীন ইটের কাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মাণ না করে, তার ওপরেই জোড়াতালির সংস্কার চলছে। পাঁচ ফুটের পুরোনো দেয়ালকে সামান্য ভেঙে করা হচ্ছে সাত ফুট। এ ছাড়া নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, এমনকি রাতের আঁধারেও কাজ চালিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
শহরের মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ‘দুই মাস ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় উন্নয়নের নামে অনিয়ম চলছে। রাতের আঁধারে ২০-২৫ বছরের পুরোনো পরিত্যক্ত সীমানাপ্রাচীরে ঠিকাদার যেনতেনভাবে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার কাজ করছে।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ ঝুঁকির আশঙ্কা নিয়ে বলেন, ‘যেভাবে ক্ষয়ে যাওয়া মরচে পড়া রডের কাঠামোর ওপর নতুন করে সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে তাতে যেকোনো মুহূর্তে দেয়ালটি ধসে পড়তে পারে। দেয়ালের পাশেই রয়েছে সড়ক, এই সড়কে এলাকার কয়েক শ শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষ চলাচল করে। ফলে প্রাণহানিরও আশঙ্কা রয়েছে।’
জানা গেছে, ৮৪ লাখ টাকার এই প্রকল্পটির কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মমতাজ এন্টারপ্রাইজ। তবে কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও ঠিকাদারের প্রতিনিধির কাছে কাজের কোনো শিডিউল নেই। সীমানা প্রাচীরের কতটুকু অংশ সংস্কার হবে, আর কতটুকু নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে তাও ঠিকঠাকভাবে বলতে পারেননি তারা। এমনকি কাজের শিডিউল দেখতে চাইলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি আবদুস সাত্তার তা দেখাতে পারেননি। বরং রাতের আঁধারে কাজ চালিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। কাজের স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুললে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বরিশালের প্রভাবশালী এক রাজনীতিকের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এদিকে চোখের সামনে এমন অনিয়ম চললেও নির্বিকার রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। খাগড়াছড়ি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও জেলা কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. জুলফিকার আলীর কাছে কাজের শিডিউল চাইলে তিনি বলেন, ‘এই কাজের শিডিউল পেতে হলে আপনাকে হেড অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। তবে আমরা যতটুকু দেখছি তাতে কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক ডা. এনামুল কবীর বলেন, ‘সীমিত বাজেটের কারণে পুরোনো দেয়ালটিই সংস্কার করা হচ্ছিল। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করায় সীমানাপ্রাচীরটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে।’