পূর্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী ও বর্তমান ছাত্রশক্তির সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ ও ইকরাম হোসেন রানা বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সীতাকুণ্ডে ঘুরতে আসা (চন্দ্রনাথধাম-ইকোপার্ক ও গুলিয়াখালী সাগর উপকূলে) পযটকরা নানা ভাবে হয়ানীর শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পৌরসদর ব্যবসায়ী সমিতি ও ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছেন ।
এছাড়া অনৈতিক সুবিধা না পাওয়াতে সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে তারা। তবে তাদের (আসাদুজ্জামান) অভিযোগ স্থানীয় সাইমুন হোটেলসহ কয়েকটি আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা চলে। এর প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে হোটেল ব্যবসায়ীরা বাঁচাতে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করছে।
সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পৌরসদর বাজার ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতি সেক্রেটারী মো. সাজ্জাদ হোসেন রফিক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আসাদ ও রানা সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজারে মব সৃস্টি করে ব্যবসায়ীদের নানা ভাবে হয়রানী ও চাঁদাবাজি করছে দীর্ঘদিন ধরে।তাদের হাত থেকে রেহায় পায়নি সাংবাদিকরাও। তাদের হয়রানীতে অত্যচারে সীতাকুণ্ডে কমছে পযটকও।’
তিনি বলেন, ‘তাদের কার্যক্রমের ধরণ হলো- হঠাৎ করে কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করা অবৈধ বা অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ তোলা। কর্মচারী ও মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়ানো। পরবর্তীতে দাবিকৃত টাকা হাতিয়ে নেওয়া। তারা সংঘবদ্ধ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি বাহিনী রযেছে বলে জানান সংবাদ সম্মেলনে।’
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে ধরা হয়, গত ৬ এপ্রিল পৌরসদর এলাকায় অবস্থিত হোটেল সাইমুনে আসাদ ও রানা বাহিনী উশৃঙ্খল ও সন্ত্রাসীচক্র পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা হোটেলের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে, ভাঙচুর চালায়, আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং দায়িত্বে থাকা ম্যানেজারকে নির্মমভাবে মারধর করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- পৌরসদর বাজার ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতি সভাপতি নাছির উদ্দিন ভূঁইয়া, সালেহ আহমেদ ছুলু, নুর মোহাম্মদ, জাহাঙ্গীর আলম, সিফাত মাস্টার, নুর উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন বাদশা, আবু তাহের, মোহন পাল, আলা উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, মোহিদুল আলম আবির, দেলোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন আজম, জাহাঙ্গীর আলম ও নাছির উদ্দিন।
আসাদুজ্জামান আসাদ নিজেকে পূর্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলকারী ও বর্তমানে ছাত্র শক্তির সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক দাবি করে বলেন, ‘সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের সাইমুন হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলে অবৈধ দেহ ব্যবসা চলছে। অনেক দিন ধরে তাদের ধরার চেষ্ঠা করছি। সম্প্রতি আমরা তথ্য পেয়ে হোটেলগুলোতে অভিযানে যাই। তথ্যগুলো সীতাকুণ্ড মডেল থানা ওসিকে জানানো হয়। তা সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির কয়েকজন সদস্য এই দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।’
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পযটক হয়রানী কোনো অভিযোগ পাই নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। এছাড়া সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজার কমিটির দেওয়া অভিযোগের তদন্ত চলছে। সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজার কমিটির সভাপতিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।’
মুসলেহ/রিফাত/