নিহত সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী। ছবি: খবরের কাগজ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র।
বুধবার (১৭ জুন) তাকে ও তার বাবা রনজিত চন্দ্রকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটির দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম তদারকির জন্য মনিটরিং সেল এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিত চন্দ্রকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে বিধান চন্দ্র হত্যাকাণ্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করেনি তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে আদালত উভয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় নিহত শিশু নন্দিনীর বাবা বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র, তার বাবা রনজিত চন্দ্র এবং মাকে আসামি করা হয়েছে।
জানা যায়, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
এদিকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে একটি মামলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে রাতে নন্দিনীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনও শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হবে। মামলার অগ্রগতি তদারকির জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
এদিকে বৃহস্পতিবার নিহত নন্দিনীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আদিতমারী সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর।
বকুল/আজহার/