ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিলের ‘গন্ধ’ দূর করতে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা শিবিরে সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয়, ট্রফি জিততেই মাঠে নামবে: ওয়াহবি তামাকের বিকল্প হিসেবে মলোখিয়া ব্যবহার করছেন গাজার ধূমপায়ীরা চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস জনআকাঙ্ক্ষার বাজেট এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ হাছন রাজাকে উৎসর্গ করে প্রাণ বন্ধের সনে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক রমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, বিচার দাবি বাবার খুলনায় উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী যে অঙ্গের কারণে মানুষ জান্নাত অথবা জাহান্নামে যাবে জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের ২১ পরিবারে আর্থিক সহায়তা সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে কর্মসূচি নিয়েছে সরকার : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

চট্টগ্রামের অলিগলিতে বসতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
আপডেট: ১৫ মে ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামের অলিগলিতে বসতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট
বিক্রির জন্য খামারে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু। ছবিটি নগরের অক্সিজেন এলাকায় জারিয়া এগ্রো ফার্ম থেকে তোলা।ছবি: খবরের কাগজ।

পবিত্র ঈদুল আজহা আর বেশিদিন বাকি নেই। ঈদকে কেন্দ্র করে নগরের অলিগলি, বাসার নিচতলা ও রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু। অনেক ক্রেতাই এখন পশুর হাটের বদলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র কিংবা খামার থেকেই কোরবানির পশু কেনেন। ইতোমধ্যে অনেকে পশু দেখছেন, চলছে টুকটাক বেচাকেনাও।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে নগরের শান্তিবাগ এলাকায় এক ভবনমালিককে তার ভবনের নিচে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গরু বেঁধে রাখতে দেখা গেছে। কোরবানি উপলক্ষে তিনি গরুগুলো রাঙামাটি থেকে এনেছেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে আরেকটি ছোট কোরবানির পশুর হাট দেখা যায়।

এদিকে নগরের চশমা হিল এলাকায় চৌধুরী এগ্রো-তে ৩০ থেকে ৪০টির মতো গরু দেখা গেছে। আবার চশমা হিলের মাথায় কয়েকজন বন্ধু মিলে কোরবানির পশু বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিবছরই তারা কোরবানিকে সামনে রেখে পশু বিক্রি করেন। কয়েকদিনের মধ্যে তারা গরু সংগ্রহ করে আনবেন বলে জানিয়েছেন।

ওই বন্ধুদের একজন মো. হাসান বলেন, ‘কোরবানি উপলক্ষে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশি গরু সংগ্রহ করি। এবারও সেখান থেকে কয়েক দফায় কোরবানির গরু নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ নগরে দেশি গরুর চাহিদা রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাই আমরা। আশা করছি, তিন-চারদিনের মধ্যে গরু নিয়ে আসতে পারব।’

নগরের কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় সারা এগ্রো ফার্ম লিমিটেড-এ রয়েছে ছোট-বড় অন্তত ৫০০টি গরু। সেখানে কোরবানির পশু দেখতে আসেন কয়েকজন ক্রেতা। ফার্মটিতে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শফিউল আলমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘বড় গরুর দাম একটু কম হলেও ছোট গরুর দাম বেশি মনে হচ্ছে।’

শুধু এই কয়েকটি নয়, শুক্রবার সকালে নগরের অক্সিজেন, বহদ্দারহাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি এগ্রো ফার্মগুলোতেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সব জায়গায় ক্রেতার আনাগোনা কিছুটা দেখা গেছে। তবে এখনও ফার্মগুলোতে পুরোপুরি বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিকরা।

তারা বলেন, ‘এখনও বেচাকেনা জমে ওঠেনি। কোরবানির সপ্তাহখানেক আগে পুরোদমে কোরবানির পশুর বেচাকেনা শুরু হয়। কারণ ওই সময় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-বোনাস পান। পাশাপাশি অফিস-আদালত বন্ধ হলে ক্রেতাসমাগম আরও বাড়ে। তবে টুকটাক বেচাকেনা হচ্ছে। অনেকে টাকা পরিশোধ করে গরু ফার্মে রেখে যাচ্ছেন।’

নগরের অক্সিজেন এলাকায় জারিয়া এগ্রো ফার্ম-এর মালিক তৌহিদুল আলম দুলাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা ফটিকছড়ি থেকে গরু সংগ্রহ করেছি। আমাদের কাছে ৮০টির মতো গরু আছে। গরুর আকার ও অন্যান্য খরচের ওপর নির্ভর করে দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে এবার মণপ্রতি হিসেবে গরুর দাম পড়বে ৩৫ হাজার টাকার উপরে। আমাদের কাছে মহিষও আছে। তবে মহিষের দাম গরুর তুলনায় বেশি।’

সেখানে কথা হয় কোরবানির পশু দেখতে আসা অক্সিজেনের কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দা মো. আবুহেনা বলেন, ‘কেনার উদ্দেশ্যে আসিনি। এসেছি কোরবানির পশু দেখতে এবং দাম যাচাই করতে। দাম কেমন, বাজার পরিস্থিতি কেমন, কোন ধরনের পশুর সরবরাহ বেশি এখান থেকে এসব ধারণা নিয়ে তারপর বাজেট নির্ধারণ করব।’

চসিকের স্থায়ী-অস্থায়ী হাটগুলোতে উঠবে পশু

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবার তিনটি স্থায়ী ও তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। স্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে সাগরিকা পশুর হাট, মুরাদপুরের বিবিরহাট পশুর বাজার ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। পাশাপাশি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী পশুর হাট, মুসলিমাবাদ মাঠ ও ওয়াজেদিয়া হাট। এসব বাজারেও কোরবানির পশুর বেচাকেনা হবে। হাটগুলোতে ইতোমধ্যে ইজারাদাররা মাঠ সাজানোসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী বলেন, ‘চারদিন আগে আমি বাজারটি সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়েছি। পশুর হাট এখনও জমে ওঠেনি। অল্প অল্প করে কিছু পশু এখানে নিয়ে আসা হচ্ছে। আশা করছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাজারটি কোরবানির পশুতে ভরে উঠবে। তখন ক্রেতাসমাগম ও বেচাকেনা বাড়বে।’

চট্টগ্রামে গবাদিপশুর উৎপাদন কমলেও সংকট হবে না

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলায় এ বছর স্থানীয়ভাবে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ হাজার ৫৩৪টি কম।

এ বছর স্থানীয়ভাবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল মোটাতাজা করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৪টি। এ বছর ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ মোটাতাজা করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩টি। গত বছর ৫৫ হাজার ৬৯৭টি ভেড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হলেও এ বছর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩টিতে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, ‘এবার খামার পরিচালনা খরচ বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামে গবাদিপশুর উৎপাদন কমেছে। তবে অন্যান্য জেলায় উৎপাদন প্রচুর বেড়েছে। ওইসব এলাকা থেকে চট্টগ্রামে প্রতিবছর গরু আসে। তাই এবার চট্টগ্রামে উৎপাদন কমলেও কোরবানিতে পশু সংকট হবে না।’

তারেক মাহমুদ/রিফাত/

ব্রাজিলের ‘গন্ধ’ দূর করতে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা শিবিরে সমর্থক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
ব্রাজিলের ‘গন্ধ’ দূর করতে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা শিবিরে সমর্থক
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের এক ফুটবল সমর্থক অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করেছেন। এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দল ত্যাগ করে আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রংপুর টাউন হলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

ফুটবলপ্রেমী ওই যুবকের নাম আবু হুজাইফা। তিনি রংপুরের পূর্ব গেট মেডিকেল পাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি রংপুরের একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজে বিএসসি ইন নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী।

আবু হুজাইফা বলেন, ‘আমার সময়ে ব্রাজিলকে কোনো শিরোপা জিততে দেখিনি। তবে যখনই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, আর্জেন্টিনাকেই সফল হতে দেখেছি। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের স্পিরিট আমাকে মুগ্ধ করেছে। আগে জানতাম না যে আর্জেন্টিনা এত শক্তিশালী দল। তাই ব্রাজিল ত্যাগ করে আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আমার স্বপ্ন, ‘আর্জেন্টিনা প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ব্যর্থতা দেখেছি। ২০১৮ সালেও দেখেছি তারা সফল হতে পারেনি। ২০২২ সালেও শিরোপা জিততে পারেনি। শুনেছি ব্রাজিল পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে, কিন্তু আমার জীবদ্দশায় তাদের শিরোপা জিততে দেখিনি। তবে ব্রাজিলকে সাত গোল খেতে দেখেছি।’

দুধ দিয়ে গোসল করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলে ব্রাজিলের গায়ে গন্ধ। তাই দুধ দিয়ে গোসল করে সেই গন্ধ দূর করে আর্জেন্টিনায় চলে এলাম।’

আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাব রংপুরের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, ‘আর্জেন্টিনা একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় দল। রংপুরের এক ব্রাজিল সমর্থকের দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। আমরা আশা করি, সময়ের সঙ্গে আরও অনেক ব্রাজিল সমর্থক আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবে যোগ দেবেন।’

সেলিম সরকার/রিফাত/

কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি
ধর্ষক মীর ফারুক। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে প্রতিবেশী কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শহরের বলিদাপাড়া এলাকায় একটি ভবনের সাবলেট বাসায় বেশ কিছুদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন মীর ফারুক। শুক্রবার দিবাগত রাতে তাদের সাথে সাবলেটে বসবাস করা প্রতিবেশীর ১১ বছরের কন্যা শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ফারুক। শনিবার সকালে শিশুটি এ ঘটনাটি তার মায়ের কাছে জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মীর ফারুককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাহফুজুর রহমান/এসএন 

সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব কারাগারে থাকা এসি বিস্ফোরণে এক যুবকের মৃত্যুর ২৮দিন পর কিশোরগঞ্জের নিজ বাড়িতে মরদেহ আনা হয়েছে। কারাগারে নিহত সৌদি প্রবাসী শাকিল (২৮) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ওমর ফারুকের ছেলে। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র,পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের সহযোগিতায় সরকারি উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে ভোর ৫টার দিকে মরদেহটি কিশোরগঞ্জের নিজ বাড়িতে আনা হয়।

নিহতের চাচা বকুল মেম্বার বলেন, ২০১৯ সালে অভাব-অনটনের সংসারের হাল ধরতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ করে ঢাকার বনানী এলাকার আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান শাকিল। সেখানে নিয়োগকর্তার সঙ্গে আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি। পরে অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন এবং কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগার থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাকিল দেশে ফেরার জন্য জামিন করাতে প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানান। পরে তার বাবা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় শাকিল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ফোনে তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন জেলখানায় কষ্টে থাকার কথা। এছাড়াও শরীর শুকিয়ে যাওয়া এবং জেলের খাবার খেতে না পারার কথাও বলেছিলেন । জেল হাজত থেকে আইনিভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার কথাও বলেছিলেন কিন্তু শেষে ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে।

গত ১৫ মে কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি হলে তিনি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

পরিবার জানায়, মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৮ হাজার সৌদি রিয়াল প্রয়োজন হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। এ অবস্থায় বিষয়টি কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফের নজরে আনা হলে তিনি প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমকে অবহিত করেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সরকারি সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

শাকিলের বাবা ওমর ফারুক বলেন, আমার ছেলে ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন কীভাবে সংসার চলবে জানি না।আমার ছেলে শেষ পর্যন্ত জীবিত দেশে ফিরতে পারলো না। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।

শাকিলের ফুফু মোছা. চায়না বেগম বলেন, মৃত্যুর প্রায় ১০ দিন আগে তার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন শাকিল জামিন ও আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সৌদিতে আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তাসলিমা আক্তার মিতু/এসএন

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক
জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় এবার মোহাম্মদ সোহেল নামে পুলিশের এক সোর্সকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশের একজন উপকমিশনারকে (ডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের সোর্স মোহাম্মদ সোহেল নগরীর গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বসবাস করেন।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আটক সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে এ ঘটনায় খুলশী থানা-র উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দুই পুলিশ সদস্যকে একই ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছি। কোনো ছাড় নয়।’

জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের মুখে নাঈমের সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে পুলিশ। সেখানে পোশাকধারী তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সোর্স হিসেবে ছিলেন পাঞ্জাবি পরা ওই সোহেল। পুলিশের হাতে থাকা পাইপের পাশাপাশি সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন এবং নিজেকে ডিবির সদস্য পরিচয় দেন। তখন সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন তার কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে খুলশী থানায় নিয়ে যায়।

নাঈমের বাবা মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন রাতে সোহেলকে থানায় নিয়ে গেলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে নিজের পাশে বসিয়ে রাখেন। থানার ভেতরে বসে সোহেল যখন এসির বাতাস খাচ্ছিলেন, তখন গভীর রাতে নাঈমের বাবাকে ওসির কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাকে থানার বাইরে ১৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং পরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়।’

নাঈমের বড় ভাই কামরুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় নাঈমের অপর ভাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই মামলায় সোর্স সোহেলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।’

রিফাত/

রমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
রমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মরদেহ মর্গে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। 

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে ছেলে রিফাত রমেক হাসাপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকে অক্সিজেন দিতে অনুরোধ করা হয়। তবে চিকিৎসক আগে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এ সময় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তার মৃত্যু হয়।

এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্বজনরা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। এই ঘটনার পর থেকে মরদেহ মর্গে রাখা হয় এবং জরুরি বিভাগের কার্যক্রম দুই ঘণ্টা (১০টা থেকে ১২টা) বন্ধ রাখে।

এরপর দুপুর দেড়টা থেকে মৃতের স্বজনরা মরদেহের দাবিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে মেডিকেল মোড় এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

মৃতের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘আমার বউ আমাকে ফোন দিয়েছে। পরে মাকে দেখতে আসছি। এসে দেখি গণ্ডগোল। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মায়ের লাশ আটকে রাখছে। অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলেও সেখান থেকে কেড়ে নিয়েছে আমার মায়ের লাশ।’

পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার আশিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। রোগীটিকে শেষ সময় নিয়ে আসে, আসার পর মারা যায়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি, সেখানে ডাক্তারের কোনো ফল্ট ছিল না।’

মরদেহ আটকে রাখা ও জরুরি বিভাগ ২ ঘণ্টা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে হাসাপাতালের পরিচালক বলেন, ‘লাশ আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক না। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সেখানে অনেক লোকজন, লাশ গাড়িতে উঠানো কষ্টসাধ্য হয়েছিল। আমরা নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু সময় লাশটি মর্গে রাখি। পরবর্তীতে লাশটি আমরা হস্তান্তর করেছি।’

সেলিম সরকার/খাদিজা রুমি/