রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর মোড়। দুপুরের প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে বাঁশি বাজিয়ে যানবাহন থামাচ্ছেন ট্রাফিক সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। কখনো হাত উঁচু করে রিকশা থামাচ্ছেন, কখনো আবার ইশারার মাধ্যমে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স চলে যেতে বলছেন। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এই মোড়ে কয়েক সেকেন্ডের ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় দুর্ঘটনা। তাই রোদ, বৃষ্টি কিংবা ধুলা–সবকিছু উপেক্ষা করেই তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
ট্রাফিক সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘এটিই আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে হাতে ইশারা দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সামান্য সুযোগ পেলেই অনেক চালক নিয়ম ভাঙতে চান। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সবাই আগে যেতে চান। যদি সিগনাল বাতিগুলো সচল থাকত বা ঢাকার মতো রাজশাহীতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ বসানো হয়, তাহলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হতো। এতে ট্রাফিক পুলিশ যেমন স্বস্তি পেত, তেমনি সাধারণ মানুষও কম ভোগান্তিতে পড়তেন।’
শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, দড়িখরবোনা, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, তালাইমারী, ভেড়িপাড়া, কাদিরগঞ্জ, ভদ্রাসহ রাজশাহী নগরীর অন্তত ২১টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে একসময় ছিল স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগনালব্যবস্থা। ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছিল এসব সিগনাল বাতি। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনাহীন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বর্তমানে সব কটিই অচল হয়ে পড়ে আছে।
দড়িখরবোনা মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পথচারী আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, সিগনাল লাইট থাকলে বুঝে রাস্তা পার হওয়া যেত। এখন পুলিশের হাতের ইশারা বুঝতে হয়। অনেক সময় কোন দিকের গাড়ি আগে ছাড়বে তা বোঝা যায় না। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুরা বেশি সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হতে হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলার সভাপতি ও সমাজচিন্তাবিদ আহমদ সফি উদ্দিন বলেন, যখন সিগনালগুলো বসানো হয়েছিল, তখন রাজশাহীতে এখনকার মতো যানজট ছিল না। পরে অযত্ন-অবহেলায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, সিগনাল বাতি পুনরায় চালুর বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেছেন, অচল সিগনাল বাতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিগনাল সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।