ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ ২০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছেন যিনি ২০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ বাংলাদেশের আজ দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণের ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের খেলা নিয়ে সংশয় হাইতিকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল টাইলস আমদানিতে ধস, কমেছে রাজস্ব আয় ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হঠাৎ দেখা নীলমাথা হাঁস

ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি বালুবাহী একটি ট্রাকসহ ধসে পড়েছে

অবশেষে যা হওয়ার ছিল, তাই হলো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা এলাকার কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। গতকাল রবিববার ভোরে বালুবাহী একটি ট্রাকসহ সেতুটি নদীতে ধসে পড়ে। এতে শুধু একটি সেতুই নয়, ধোবাউড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসাও মুহূর্তে ভেঙে পড়ে।

ভোর ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ধোবাউড়ার সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে আহত হয়েছেন ট্রাকের চালক ও হেলপার। স্থানীয়দের মতে, এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা অবহেলা, উদাসীনতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যর্থতারই পরিণতি।

তারা বলছেন, প্রায় এক দশক আগে থেকেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। বিভিন্ন সময়ে বাঁশ, কাঠ ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে মেরামত করে যান চলাচল সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচনের আগে নতুন সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বারবার। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে প্রতিদিন বহু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ব্রিজটি ধসে পড়ায় ধোবাউড়া, গোয়াতলা, তারাকান্দা এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। কর্মজীবীরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি অনেকাংশে সড়ক যোগাযোগনির্ভর হওয়ায় দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে দীর্ঘদিন বহু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেছেন। ভোরে ময়মনসিংহগামী বালুভর্তি ট্রাকের চাপে সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে তারকান্দাসহ ময়মনসিংহ সদরের সঙ্গে ধোবাউড়ার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন জানা যাচ্ছে এই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ হবে। অথচ সেতুটি প্রায় ১০ বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তা হলে এই উদ্যোগ আগে নেওয়া হলো না কেন? ঝুঁকির সময়েই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজকের এই ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।’

আজিজুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, ‘ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর গাড়ি চলাচলের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো বহু পুরোনো বেইলি ব্রিজ ব্যবহৃত হচ্ছে। সাময়িক সমাধান হিসেবে নির্মিত এসব সেতুর অনেকটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। সেগুলোর পরিবর্তে স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ এগোয়নি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিও রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। গোয়াতলার কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটির ধস সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের সমন্নয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, ‘কোনো অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা হওয়ার পরও বছরের পর বছর সেটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া পরিকল্পনা ও নজরদারির দুর্বলতার পরিচায়ক। অস্থায়ী মেরামত নয়, কংস নদীর ওপর দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করে জনদুর্ভোগ কমাতে হবে।’

তিনি বলেন, গোয়াতলা বেইলি ব্রিজের ধস আবারও মনে করিয়ে দিল, অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অবহেলা শুধু উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে না, এক সময় জনজীবনকেও বিপর্যস্ত করে। এ ঘটনার পর কি সত্যিই স্থায়ী সমাধান হবে, নাকি মানুষকে আরেকটি দুর্ঘটনার অপেক্ষায় থাকতে হবে–সেটাই এখন প্রশ্ন। 

এ বিষয়ে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সেতু ধসের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা চালু এবং সেতু মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পে কর্মরত এক রাশিয়ান নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। 

শুক্রবার (১৯ জুন) জুম্মা নামাজের পর শহরের পিয়ারপুর কোর্টপাড়া জামে মসজিদের ইমামের পড়ানো কালেমা পড়ে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময় মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। 

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগে রাশিয়ান এই নাগরিকের নাম ছিল সেরগি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার নাম রাখা হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ। 

মো. আব্দুল্লাহ রূপপুর প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমে কর্মরত। 

পিয়ারপুর কোর্টপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. এনামুল হক খবরের কাগজকে বলেন, রাশিয়ান নাগরিক স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে ও স্বপ্রণোদিত হয়ে কালেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি নিজের সুস্থ ও দীর্ঘজীবন কামনা করেন। 

জাহাঙ্গীর হোসেন/থিওটোনিয়াস

গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের নাম আল আমিন (৩৭)।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি মাদরাসার ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। 

ভুক্তভোগীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি বাড়ি থেকে প্রতিদিন সকালে মাদরাসায় যায় এবং পড়া শেষে বাড়িতে চলে আসে।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় মেয়েটি পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আল আমিনের মনোহারী দোকানে ১০০ টাকা ভাংতি নেওয়ার জন্য যায়। পরবর্তীতে আল আমিন মেয়েকে মজা বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে পরিত্যক্ত এবতেদায়ি টিনসেড মাদরাসার ভিতর নিয়ে মুখ চেপে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

আরও জানা গেছে, এই ঘটনা কাওকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছাড়ার হুমকি দিয়ে শিশুটিকে আল আমিন নিজের কাছে আসতে বলে এবং বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ডাকে।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর দেড়টায় মেয়েটি মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আল আমিন পুনরায় মেয়েটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে টানাহেঁচড়া করলে মেয়েটি চিৎকার দিয়ে দৌড়ে বাড়িতে এসে তার মাকে বিস্তারিত জানায়।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, 'আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। শিশু মেয়েটির সঙ্গে এমন করবে ভাবতেও পারিনি। মানুষরূপী এই জানোয়ারের ফাঁসি দাবি করছি।'

মেয়েটির ভাই বলেন, 'একজন মানুষ কোনো শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য আচরণ করতে পারে না। আমার বোনটি সবসময় কান্নাকাটি করছে। এই নরপশুর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।'

অভিযোগের পর পরই বাড়ি থেকে পালিয়েছে অভিযুক্ত আল আমিন। তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, 'এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।'

কামরুজ্জামান মিন্টু/তামান্না রুপা/

জাতীয় চা দিবস আজ ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা
চা শ্রমিক। ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার, দেশে ‘চা-শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় চা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। তবে দেশের চা-শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনো উদ্বেগজনক। দৈনিক মজুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে নানা বঞ্চনার শিকার চা-শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও শ্রমিকদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। 

জানা গেছে, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি অতীতে ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চুক্তি ও বার্ষিক বৃদ্ধির ফলে কিছু বাগানে মজুরি কিছুটা বেড়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে এই আয় দিয়ে পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা পিছিয়ে রয়েছে। অনেক বাগানে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যাপ্ত শিক্ষা সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে দারিদ্র্য ও শিক্ষাবঞ্চনার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতাও প্রকট। অনেক বাগানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয় না। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সুবিধা এখনো অপর্যাপ্ত।

চট্টগ্রাম চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিক বাবু চিত্ত রঞ্জন মন্টু বলেন, ‘শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয় না। আমাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ, ভাতা বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক বাগানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ঠিকমতো দেওয়া হয় না। চা-শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি।’

চট্টগ্রামের নেপচুন চা-বাগারের দেশসেরা শ্রমিক জেসমিন আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘কম মজুরি দিয়ে সংসার চলে না। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা ও আবাসনের অভাব এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিকদের সংগঠিত হয়ে দাবি আদায়ে নানা বাধা, নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অতিরিক্ত ঝুঁকিতে কাজ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকরা চা তুলতে না পারলে হাজিরাও দেওয়া হয় না। রোদ-বৃষ্টি মাড়িয়ে কাজ করতে হয় বাগানে।’ 

কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিক রিকু ত্রিপুরা জানান, শুধু মজুরি বৃদ্ধি নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, বিশুদ্ধ পানি ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করলেই তাদের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। 

রাঙ্গাপানি চা-বাগানের শ্রমিক মাধবী ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের বাগানের অফিসের পাশে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বাগানের ভেতর থেকে আমাদের শিশুরা এই স্কুলে আসতে পারে না। বাগানের মালিকরা চান, শ্রমিকের ছেলেমেয়েরাও শ্রমিক হোক। আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে মানুষ হোক।’

ইস্পাহানি গ্রুপের নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রিয়াজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশের অন্যতম প্রাচীন এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তবে পরিস্থিতি সব জায়গায় এক নয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারের উদ্যোগে নানা সময়ে মজুরি বৃদ্ধি ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারপরও বহু চা-শ্রমিক এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় ও শ্রমের তুলনায় পর্যাপ্ত সুবিধা পান না।’

বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘চা-বাগানের শ্রমিকরা অধিকার থেকে বঞ্চিত সেটি সঠিক নয়। তারা দৈনিক মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, রেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও শ্রম অধিকার অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। বাগানের মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শ্রমচুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর শ্রমিকদের মজুরি ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ চা বোর্ডের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেন সময়মতো বৃদ্ধি করা হয়, সে জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করার কাজ চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, চা-শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির পাশাপাশি টাস্ক অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজ সম্পাদন করলে চুক্তি অনুসারে অতিরিক্ত টাকা পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক রেশন এবং যারা রেশন গ্রহণ করেন না তারা চাষাবাদের জন্য ধানি জমি পেয়ে থাকেন।

এদিকে প্রতিবছর ২১ মে জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও চলতি বছর ঈদুল আজহার কারণে মূল আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে দিবসটির উদযাপন ২০ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০ জুন জাতীয় চা দিবস পালন করা হচ্ছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়া চা-শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও চা-শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

বেলা ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বের পর চা-শিল্পবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে দেশের চা-শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছর প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদ তুলে দেবেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ চা বোর্ড ও দেশের শীর্ষস্থানীয় চা-প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি চা-প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতেও চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশের চা-শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে এবার ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু
মো. মাহিম শেখ । ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. মাহিম শেখ (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ হারিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিম শেখ একই গ্রামের মো. নয়ন শেখের ছেলে। সে স্থানীয় পাঁচবাগ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ফাহিম ব্রাজিল সমর্থক।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ খেলার শুরুতে বাড়ির উঠানের আম গাছে একটি কাঁচা বাঁশে ব্রাজিলের পতাকা টানায় ফাহিম। বাঁশটি হেলে পড়ায় বিকেলে ফাহিম আম গাছে উঠে। এ সময় পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা
লোডশেডিংয়ের কারণে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে/ খবরের কাগজ

প্রায় এক মাস স্বস্তির পর বরিশালে আবারো তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতেও নেমে এসেছে বিপর্যয়। এতে রোগী তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় আইসিইউতে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। এতে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন অবস্থায় অন্ধকার ও গরম থেকে রক্ষা পেতে রোগীর স্বজনদের হাতপাখা, মোমবাতি, টর্চলাইট কিংবা মোবাইলের আলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর আছে। কিন্তু সেটি চালানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় তা বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটর চালু করা সম্ভব হয় না। এতে আইসিইউসহ হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।

আরিফুর রহমান নামে নগরীর এক বাসিন্দা জানান, গত মঙ্গলবার আইসিইউতে এক রোগীকে দেখতে গিয়ে তিনি পুরো অন্ধকার পরিবেশের মধ্যে পড়েন। তখন রোগীর স্বজনরা হাতপাখা, মোমবাতি ও মোবাইলের আলো ব্যবহার করছিলেন। এমনকি কয়েকজন নার্সও মোবাইলের আলোয় কাজ করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, ‘আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লোডশেডিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেখানে সচল জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখা জরুরি। এত অর্থ বরাদ্দের পরও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকা দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, বরিশাল বিভাগে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও এখানকার মানুষকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়।

লোডশেডিংয়ের কারণে কেবল হাসপাতাল নয়, জেলার সকল খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নিজেদের দুর্বিষহ অবস্থা তুলে ধরছেন। বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন ফেসবুকে লিখেছেন, আগামী ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন খাতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম অর্ধেকে নেমে এসেছে।

নগরীর কালীবাড়ি রোডের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রাফিক্স মার্টের স্বত্বাধিকারী অম্লান রায় বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বরিশালের প্রেস ও প্রকাশনা খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্ডারের কাজ দেওয়া যাচ্ছে না। দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণেই এ সমস্যা হচ্ছে। বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, তার বিভাগের আওতায় মোট চাহিদা প্রায় ৯০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। অথচ নগরীর একাংশেরই চাহিদা প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত মালাকার বলেন, তাদের এলাকায় ৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে ২২ মেগাওয়াট। এ কারণে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ’র বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি থাকায় বরিশালে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।