ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল
Nagad desktop

অবৈধ পথে শতকোটির মালিক ওসি কামাল

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৩ এএম
অবৈধ পথে শতকোটির মালিক ওসি কামাল
কামাল হোসেন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের তিনটি থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেই অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন ওসি কামাল হোসেন।

রাজবাড়ীর সন্তান কামাল হোসেনের নিজ জেলা ছাড়াও রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, জমি, রিসোর্ট, মাছের খামার, সঞ্চয়পত্র ও একাধিক গাড়ি। সংশ্লিষ্টদের মতে, তার এই সম্পদের মূল্য শতকোটি টাকার ওপরে। স্ত্রী, কন্যা, ভাই, মা-বাবা ছাড়াও নামে-বেনামে এসব সম্পদ গড়েছেন তিনি।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার নগর বাথান গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান কামাল হোসেন ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে শেরপুর জেলায় যোগদানের মধ্য দিয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন। পুলিশের এসআই হিসেবে পিএসআই পিরিয়ড অতিক্রম না করেই তার চেয়ে বেশি বয়সের এক বিধবা মহিলাকে দুই সন্তানসহ বিয়ে করেন কামাল হোসেন।

সেই বিধবা মহিলার স্বামী ছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার আবুল কাশেম। বর্তমানে এই দম্পতি শত কোটি টাকার মালিক। বিভিন্ন থানায় চাকরি করে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৫ সালে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানায়। এ সময় আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। 

অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রীর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে নানাভাবে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। গাজীপুরের এমসি গার্মেন্টস, মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেটের মালিক গাজীপুরের শিল্পপতি মো. কামরুজ্জামানসহ অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার রয়েছে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা।

যেগুলো পরিচালনা করেন তার স্ত্রী উম্মে রোমান। ওসি কামাল তার ছোট ভাই ময়নুল ইসলামের নামেও ব্যবসা করে যাচ্ছেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব শেষ করে ২০২১ সালে ওসি হিসেবে যোগ দেন ময়মনসিংহের ভালুকা থানায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাকে বদলি করা হয় পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল থানায়। ওই সময় তার বিরুদ্ধে নৌকার পক্ষে প্রচারণার অভিযোগ উঠে এবং নির্বাচন কমিশনে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পরও অদৃশ্য কারণে কামাল হোসেনের কিছু হয়নি। 

জানা গেছে, ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় নিজের পছন্দমতো থানায় পোস্টিং নিয়ে যতদিন ইচ্ছা ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন কামাল হোসেন। মূলত গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা, ময়মনহিংহের ভালুকা ও ত্রিশাল থানায় চাকরি করেই তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হন।

বর্তমানে ওসি কামাল হোসেনের স্ত্রী উম্মে রোমানের নামে রাজধানী ঢাকার উত্তরার ৯নং সেক্টরে রয়েছে বিলাসবহুল একটি ৮ তলা বাড়ি। বাড়ি নির্মাণের অধিকাংশ সরঞ্জামাদি বিদেশ থেকে আনা। ঢাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট। কামাল হোসেনের নিজ জেলা রাজবাড়ীর নগর বাথানে ‘ঝিলিক মঞ্জিল’ নামে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি।

গাজীপুরের হোতাপাড়া ও মণিপুরে উম্মে রোমানের নামে রয়েছে কয়েক একর জমি। তার শ্বশুরবাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবরদীতে স্ত্রীর নামে, শেরপুর পৌরসভা সংলগ্ন গোপালবাড়িতে স্ত্রী, দুই সৎ মেয়ে কুমি ও কনকচাঁপার নামে এবং রাজবাড়ীতে ভাই ময়নুল ইসলাম ও মা-বাবার নামে কিনেছেন কয়েক কোটি টাকার জমি। বেনামে গাজীপুরে একটি রিসোর্টও পরিচালনা করছেন কামাল হোসেন।

ওসি কামাল হোসেন স্ত্রীর নামে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ৬ একর জায়গায় একটি মাছের খামার গড়ে তোলেন। মাছ চাষ না হলেও আয়কর ফাইল ভারী করার জন্য ওই খামারটিকে তিনি কাগজে-কলমে ব্যবহার করছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসি কামাল হোসেনের পরিবার একাধিক গাড়ি ব্যবহার করলেও গাড়িগুলোর নিবন্ধন একাধিক ব্যক্তির নামে। তার ছোট মেয়ে ঝিলিক চলাচল করেন প্রায় কোটি টাকা মূল্যের কালো রঙের একটি হ্যারিয়ার গাড়িতে, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৫৭৬৬। স্ত্রী উম্মে রোমান চলাচল করেন এক্স করোলা ও টয়োটা ফিল্ডার গাড়িতে।

টয়োটা ফিল্ডার গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-৭২০৫। ওসি কামাল হোসেন তার সৎ মেয়ে কনকচাঁপার নামে শেরপুর জেলার প্রধান ডাকঘরে ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৩০ লাখ টাকার এফডিআর কিনেন।

শেরপুরের আইএফআইসি ব্যাংকে ৩০ লাখ টাকার এফডিআর কিনেছেন। ওই ব্যাংকে টাকার উৎসের জায়গায় ওসি কামাল হোসেন তার শাশুড়ির নামে কেনা ৩৫ লাখ টাকার একটি সঞ্চয়পত্রের কাগজ দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তার শাশুড়ির নামে কেনা সঞ্চয়পত্রের নম্বর গসপ-চ-০২৬৮৫১১-৫১৭ (সাতটি সঞ্চয়পত্র, যার প্রতিটির মূল্য ৫ লাখ টাকা)।

একজন ওসির স্ত্রী হয়ে উম্মে রোমান বছরে কয়েকবার সিঙ্গাপুর যান ঘুরতে ও চিকিৎসা করাতে। সিঙ্গাপুরের মালাবার থেকে কিনেছেন শত ভরির ওপর স্বর্ণালংকার। মেয়েরাও বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। বর্তমানে তার মেয়ে কুমি বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর সারা দেশের পুলিশ সদস্যরা যখন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ, ঠিক সে সময়েও কামাল হোসেনের ফেসবুক ওয়ালে সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি ছিল। নানা অপকর্মে অভিযুক্ত পুলিশের এই কর্মকর্তা (বিপি ৭৭৯৯০৩৮৭৮৭) বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্ব) নৌফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব নৌফাঁড়ির আইসি ওসি কামাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার এক নিকটাত্মীয় আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নাই। আমি সব সময় সত্যের পথে চলার চেষ্টা করি।’ টাঙ্গাইল নৌপুলিশের এসপি সোহেল রানা খবরের কাগজকে বলেন, ‘যদি তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ করেন বা আমরা পাই, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর থানা এলাকায় ছেলের সামনে হোসেন আলী নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাইদুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
 
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন পাবনা সদর থানায় করা চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে মতিয়ার রহমান (৪০), শরীফ প্রামাণিক (৩৫) ও মনিরুল ইসলাম (২৮) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর মাছুমবাজার জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার মেইন গেইট সংলগ্ন লাইব্রেরির সামনে পাকা রাস্তার ওপর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেখানে নিজ ছেলের সামনেই ভিকটিম হোসেন আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এবং পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা এই দুইটি বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী  আফছানা খাতুন (৪৫) বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৯ জনের নামোল্লেখ এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

আমিনুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/ 

চৌদ্দগ্রামে বাবাকে হত্যার ২০ বছর পর একইভাবে ছেলেকে হত্যা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে বাবাকে হত্যার ২০ বছর পর একইভাবে ছেলেকে হত্যা
ছুরিকাঘাতে নিহত সিএনজি অটোরিকশা চালক রাফসান হোসেন হৃদয় । ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে হৃদয়ের বাবা হেদায়েত উল্লাহকেও একইভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয় শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে শাকতলা গ্রামের আসিফ ও বাদশা নামের দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে দোকান থেকে তেল নিতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোষতল এলাকার প্রান্ত নামে আরেক যুবকের মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত ফোন করলে তিনটি মোটরসাইকেলে তার গ্রামের মো. রাজিব, রিফাত হোসেন ও মো. প্রান্তসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন বাজারে এসে অবস্থান নেন। এ সময় শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে বাজারের ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে পেয়ে মারধর করা হয়। রাজিব গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাকতলা গ্রামের অটোরিকশাচালক রাফসান হোসেন হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

২০০৬ সালে দূর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে ও ড্রিল মেশিনের আঘাতে হেদায়েত উল্লাহ হেদুকে হত্যা করে। ২০ বছর পর তার ছেলে রাফসান হোসেন হৃদয়কেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা। 

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজহার/অমিয়/

জামালপুরে চাচাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
জামালপুরে চাচাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজা গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে ভাতিজার হামলায় চাচা নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামী আব্দুস সালামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১০ জুন) সকালে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আব্দুস সালাম লক্ষীরচর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জামালপুর জেলা পুলিশ।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) পৈত্রিক জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে আব্দুস সালাম ও তার লোকজন তার চাচা আব্দুল হকের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ভাতিজার আঘাতে চাচা আব্দুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এরপর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। অভিযানের এক পর্যায়ে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন খবরের কাগজকে বলেন, মাত্র কয়েক দিনেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। 

আসমাউল আসিফ/থিও

হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ বছর বয়সি এক মা।

রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অমিত নামের এক সুইপার ভুক্তভোগীকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর একই ভবনের ৬ষ্ঠ তলার সিঁড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই সময় অপর দুই আসামি গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গন (২৩)।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী খবরের কাগজকে জানান, গত ৫ জুন রাতে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি রিকশাচালক হওয়ায় স্ত্রীকে মেয়ের দেখাশোনার জন্য হাসপাতালে রেখে রিকশা চালাতে যেতেন। মাঝেমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিতেন।

তিনি আরও জানান, গতকাল ৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন, তার স্ত্রী ও মেয়ে নির্ধারিত বেডে নেই। স্ত্রীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় তিনি তাদের খোঁজ করে জানতে পারেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্ত্রী ও মেয়েকে নার্সদের কক্ষে রেখেছেন। সেখানে গেলে স্ত্রীর কাছে ঘটনা জানতে পারেন।

ওসি মনসুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানান, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কামাল মৃধা/থিও/

নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা,  গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক
নাটোরে নারীকণ্ঠে ফাঁদ পেতে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেল রানা, মোতাকাব্বির ও টুটুল প্রামাণিকের সাথে লালপুর থানা পুলিশ। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীকণ্ঠে কথা বলে এমন তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে তাদের আটক আটক করার পর রাতে মামলা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন ওই উপজেলার মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকার সোহেল রানা ওরফে রানা সরদার (২৪), মোতাকাব্বির (২০) এবং টুটুল প্রামানিক (৫০)।

ওই প্রতারকরা দীর্ঘদিন থেকেই ফোনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ছেলেদের সঙ্গে নারীকন্ঠে কথা বলে সম্পর্ক করেন। এরপর আরেকটি ফোনে নানা ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে তাদের আকৃষ্ট করতেন। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংয়ের পর তাদের ও স্বজনদের ফোনে ওই তথ্য পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
 
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার বিকালে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের নাাটোর আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
কামাল মৃধা/আজহার/