রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে পুলিশের ওপর উত্তেজিত জনতার হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার মামলায় আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব।
এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- গোয়ালন্দের নতুনপাড়া (মাল্লাপট্টি) এলাকার মো. জীবন সরদার, মাল্লাপট্টী শাকের ফকিরপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম শুভ, ফরিদপুরের ডিগ্রিরচর বারখাদা গ্রামের মোহাম্মদ ফেরদৌস সরদার ও গোয়ালন্দ পৌরসভার আদর্শ গ্রামের বিল্লু।
এর আগে এই মামলায় শাফিন সরদার, মাসুদ মৃধা, হিরু মৃধা, এনামুল হক জনি ও কাজী অপু ও মো. হায়াত আলী মৃধাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শরীফ আল রাজীব বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাত ৩ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ গতকাল রাতে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছ। এর আগে এই মামলার আরও ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে ৬ জনকে গতকাল আদালতে সোপর্দ করা হলে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি আসামিদের আজ আদালতে তোলা হবে।
এর আগে শুক্রবার রাতে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে নুরাল পাগলের দরবারে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। এ সময় নুরাল পাগলার ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা।
মেহেদী হাসান/মৌসুমী/