পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় টিউশনিতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদলের নেতা জোবায়েদ হোসাইন খুনের ১৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো হয়নি মামলা।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) দিনগত রাত ১টা মামলা করার চেষ্টা করে নিহতের পরিবার। কিন্তু সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৮টা পেরোলেও তারা মামলা করতে সফল হয়নি।
বাদীপক্ষ জানায়, মামলা কতজনের নামে এবং কাদের নামে হবে এ বিষয়ে পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে। মামলা প্রস্তুতির কাজ চলছে।
নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী এনায়েত হোসেন সৈকত বলেন, ‘আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। মেয়ে ও তার পরিবারের লোকজন যুক্ত। সবার নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ হচ্ছে, মামলা হয়ে যাবে।’
জানা যায়, এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে উপস্থিত রয়েছেন নিহতের বাবা, বড় ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। তবে এদিন রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নিহতের বাবা, বড় ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা মামলার প্রস্তুতি নিলেও থানায় ওসি না থাকায় দেরি হয়।
এ বিষয়ে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে কয়েকজনের নামে মামলা দিতে চায় নেব, তবে তাদের বলেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে।’
আরও পড়ুন: জোবায়েদকে পছন্দ করতেন ছাত্রী, জেনে যাওয়ায় হত্যা করেন বয়ফ্রেন্ড মাহির
এর আগে, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। রবিবার রাত ১১টার দিকে ওই ছাত্রী বারজিস শাবনাম বর্ষাকে হেফাজতে নিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। রাত ১১টায় আরমানিটোলার নূরবক্স রোডের বাসা থেকে বর্ষাকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।
তারও আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জোবাইদ হোসাইনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয় পুলিশ।
জোবায়েদ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।
গত এক বছর ধরে জোবায়েদ আরমানিটোলার রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষাকে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন। রবিবার আনুমানিক বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে বর্ষাদের বাসার তিন তলায় খুন হন জোবাইদ। সিঁড়িতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মুজাহিদ/এসজি/