ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ৪ ধর্ষক গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি
Nagad desktop

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত নগরজীবন

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত নগরজীবন
ময়মনসিংহ নগরীর একটি দোকান থেকে দিনের বেলায় মালামাল চুরি হচ্ছে। সংগৃহীত সিসিটিভির ফুটেজ

ময়মনসিংহ নগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দিনে-রাতে দুই সময়েই ঘটছে এসব অপরাধ। প্রতিনিয়ত অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন গলি, নির্জন সড়ক ও জনশূন্য স্থানে এসব ঘটনার ঝুঁকি বেশি। এতে নগরবাসীর মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা। বাসিন্দারা জানান, ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে অনেকে শুধু সম্পদই হারাচ্ছেন না, গুরুতর আহতও হচ্ছেন। কোথাও কোথাও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। 

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন। ছিনতাইকারীদের ধাওয়া খেয়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর কয়েক দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গাঙ্গিনারপাড় থেকে চরপাড়া যাওয়ার পথে অটোরিকশায় ছিনতাইয়ের শিকার হন কলেজছাত্র শোবাশশীর ইসলাম সাদ। যাত্রী সেজে অটোরিকশায় ওঠে চার ছিনতাইকারী। পরে ছুরি ঠেকিয়ে তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় তারা।

গত ২৩ জানুয়ারি ভোরে রেলওয়ে স্টেশনের দুই নম্বর গেট এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন হিমেল নামে এক ব্যবসায়ী। অটোরিকশায় স্টেশনে যাওয়ার পথে তার কাছ থেকে নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা ও তিনটি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ জেলায় ১১১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ২০টি ঘটনা ছিনতাই-সংশ্লিষ্ট। একই বছরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬০টি। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৬৭ জনকে। তাদের মধ্যে ৩৬২ জনই নগরীর স্টেশন রোড, পুরোহিতপাড়া, সানকিপাড়া ও মীরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঁচজন হত্যার শিকার হয়েছে। চুরির ঘটনা ঘটেছে আটটি। ফেব্রুয়ারিতে হত্যা সাতজন এবং চুরি আটটি। মার্চে হত্যা ১১ জন এবং চুরি ২২টি। এপ্রিল মাসে হত্যা সাতজন এবং চুরি ১৬টি। মে মাসে হত্যা আটজন এবং চুরি ৩০টি। জুনে হত্যা ১২ জন এবং চুরি ১৭টি।

জুলাইয়ে হত্যা ১৪ জন এবং চুরি ২৫টি। আগস্টে হত্যা নয়জন এবং চুরি ২২টি। সেপ্টেম্বরে হত্যা পাঁচ এবং চুরি ২৯টি। অক্টোবরে হত্যা হয়েছে সবচেয়ে বেশি ২০ জন এবং চুরি ২৬টি। নভেম্বরে হত্যা আটজন, চুরি ২৬টি। ডিসেম্বর মাসে হত্যা পাঁচজন এবং চুরি ২২টি।

বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। শুধু কোতোয়ালি থানাতেই প্রতিদিন গড়ে আট থেকে ১০টি অভিযোগ জমা পড়ে। তবে অনেক ভুক্তভোগী আইনি জটিলতা বা সামাজিক হয়রানির ভয়ে থানায় অভিযোগ করেন না। গ্রেপ্তার হওয়া ছিনতাইকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই মাদকাসক্ত।

নগরীর শম্ভুগঞ্জ, ব্রিজ মোড়, কেওটখালী, বাকৃবি শেষ মোড়, সানকিপাড়া, মীরবাড়ি, কলেজ রোড, মাদ্রাসা কোয়ার্টার, কাশর রোড, বাইপাস মোড়, গাঙ্গিনারপাড়, স্টেশন রোড, পুরোহিতপাড়া, বাঘমারা, চরপাড়া, মাসকান্দা ও জয়নুল আবেদিন পার্ক এলাকা ছিনতাইয়ের ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

নগরীর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সকালে ব্রিজ মোড় থেকে ঢাকা বাইপাসের একটি অটোরিকশায় উঠি। তখন আমার পাশে আরও দুজন ওঠে। কিছু সময় পর আমাকে অজ্ঞান করে অপহরণ করা হয়। পরে গাজীপুরের একটি বাসায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে। মারধর করে আমাকে পরিবারের কাছে ফোন করতে বাধ্য করে। পরে অপহরণকারীদের সন্দেহ হয়, ঘটনাটি হয়তো পুলিশ জেনে গেছে। পরে আমাকে গাড়িতে তুলে মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।’

আরেক ভুক্তভোগী কলেজছাত্র শোবাশশীর ইসলাম সাদ বলেন, ‘দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে আমার কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইল নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনার পর থেকে আমি আতঙ্কিত।’

স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের টহল প্রধান সড়কে সীমাবদ্ধ থাকায় অলিগলি ও অন্ধকার স্থানে অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরাও অকেজো হয়ে আছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলার সম্পাদক ইয়াজদানী কোরায়শী কাজল বলেন, ‘নগরীতে প্রতি মাসে গড়ে এক হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ঈদে ঘরবাড়ি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রেখে ছুটিতে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কে আছেন নগরবাসী। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার করেছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চলছে।’ তিনি সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে ঘর থেকে বের হয়ে খেলতে গিয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু জায়হান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের উদ্বেগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় আতঙ্কে। আর সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দেয় একটি হাতে লেখা চিঠি, যেখানে শিশুটিকে অপহরণের দাবি করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন)  দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। অপহরণ করা শিশু মো. জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার দুপুরেও বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলাধুলা করছিল জায়হান। দুপুর ১২টার পর তাকে আর দেখা না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আশেপাশের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজনের বাসাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। এমনকি শিশুটি পুকুরে পড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ির সামনের পুকুরেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার হদিস পাওয়া যায়নি।

সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা-বাবা। একপর্যায়ে বিষয়টি পটিয়া থানাকে জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিকেল তিনটার দিকে ঘটে নতুন ঘটনা। পরিবারের সদস্যরা ঘরের সামনের একটি কক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত কেউ চিঠিটি সেখানে রেখে যায়।

চিঠিতে দাবি করা হয়, শিশুটি অপহরণকারীদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জীবিত ফিরে পেতে হলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে শিশুটির ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি পরিবারের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠি পাওয়ার পর পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা। খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিঠিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটছে শাহজাহান ও তার পরিবারের। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং শিশুটির দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাফিউল আকরাম আলভী/খাদিজা রুমি/

কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবব্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গত সোমবার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় খালার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাকে ধর্ষণ করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে কিশোরীর মা থানায় মামলা করেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাঙ্গালকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম মোল্লাবাড়ির অটোরিকশাচালক রিয়াজ মোল্লা (২৬) ও একই গ্রামের ফয়েজ আহমেদ (২৬)।

ভিকটিম কিশোরী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও পরে লেখাপড়া বিরতি দিয়ে সে মায়ের সঙ্গে ফেনীতে বসবাস করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি জানান, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ওই কিশোরী তার নাঙ্গলকোটে খালার বাড়ি থেকে ফেনীর বাসার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রওনা দেয়। একপর্যায়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি একই ইউনিয়নের বোড়রা গ্রামে পৌঁছলে এর চালক তার অটোরিকশাটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন। এই অটোরিকশার চালক রিয়াজ মোল্লা একটু সামনে জাকিরের মোড়ে গিয়ে তার বন্ধু পরিচয়ে মামলার অপর আসামি ফয়েজ আহমেদকে অটোরিকশায় উঠায়। এক পর্যায়ে তারা তাকে ফেনীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চৌদ্দগ্রামের পদুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরায়। পরে রাত ৮টায় আসামি রিয়াজ মোল্লা ও ফয়েজ আহম্মদ কিশোরীকে একটি টিনশেড বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে ফয়েজ আহমদ, রিয়াজ মোল্লা এবং তাদের অপর সহযোগী আকরাম তাকে রাতভর ধর্ষণ করেন।

কিশোরীর মা বলেন, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে এলাকার লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তার মেয়েকে ফেনীর বাসার উদ্দেশ্য পাঠিয়ে দেয়। বাসায় ফিরে তার মেয়ে ঘটনাটি তাকে জানালে মেয়েকে নিয়ে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তিনি পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ কল করলে নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি রিয়াজ মোল্লা ও ফয়েজ আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে।

ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ভিকটিমের মা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার ভিকটিম ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

জহির শান্ত/খাদিজা রুমি/

গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের কুরচাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বুধবার (১৭ জুন) গৃহবধূর মা পাগলা থানায় অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ তার মায়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। একই বাড়ির পৃথক কক্ষে তিনি স্বামী ও তিন বছর বয়সি সন্তান নিয়ে থাকতেন। রাত ১টার দিকে মুখোশধারী সাত-আটজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে মারধর করেন। পরে তারা গৃহবধূকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে প্রায় দেড় শ মিটার দূরে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার/

জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাকোয়াত হোসেন আদা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার ভিকটিম বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা করলে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাকোয়াত হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বটতলী বাজারের একজন জিলাপি ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৮ জুন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাকোয়াত হোসেন তার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

এদিকে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুরের খাতুনে জান্নাত মহিলা কওমি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে মাদরাসাটির পরিচালকের স্বামী জায়ের আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মাদরাসাটির পরিচালক আফরোজার স্বামী জায়ের আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ১৩ জুন আফরোজা বেগম মাথায় তেল দেওয়ার জন্য ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডাকেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকৃতির ডাকে  সাড়া দিতে বাইরে গেলে কক্ষে থাকা জায়ের আলী শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। শিক্ষার্থীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে আফরোজা বেগম বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাগর কুমার/খাদিজা রুমি/

কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় যুবক আশাদুল ইসলামকে হত্যা করে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি মাদরাসার পেছনের পাটখেত থেকে আশাদুল ইসলামের (২২) অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার বিল মানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে।

ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, প্রায় চার মাস আগে আশাদুল ইসলাম মদাপুর গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মিজান শেখের (২৪) কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আশাদুলকে হত্যা করেন। পরে হত্যার আলামত নষ্ট এবং পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মদাপুর গ্রামের মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার মূল আসামি মিজান শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, রক্তমাখা একটি হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মিজান শেখ। তার কাছ থেকেই ভিকটিম টাকা ধার নিয়েছিল। ঋণের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কোনো ধরনের আলামত বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/