ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

কুতুবদের দৌরাত্ম্য থামাতে হবে

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪০ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৪ এএম
কুতুবদের দৌরাত্ম্য থামাতে হবে

নূর কুতুবুল আলম ভূঁইয়া, যার পরিচয় এখন আর কারও অজানা নয়। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে তিনি নিজের পরিচয় বদলে ফেলেছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব-সহকারী থেকে এলপিআর-এ যাওয়ার আগ পর্যন্ত ছিলেন সহকারী হিসাবরক্ষক। নিজের প্রভাব ও শক্তি খাটিয়ে চাকরিজীবনের অধিকাংশ সময় পার করেছেন টঙ্গীর আঞ্চলিক হিসাব পরিদপ্তরে। অফিসের নিয়ম-নীতির বালাই ছিল না তার চাকরির রুটিনে। সপ্তাহে এক দিন অফিস করেই নিজের দায়িত্ব ও সেবার কাজটি শেষ করেছেন। কেতাবি নাম কুতুবুল আলম ভূঁইয়া হলেও আমজনতার কাছে তিনি বিদ্যুতের কুতুব নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ এক যুগে একই সঙ্গে সরকারি চাকরি ও ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হয়ে সমানতালে কাজ চালিয়েছেন।

পিডিবিতে চাকরির সুবাদে ঠিকাদারদের বিল আটকানো, কেনাকাটায় অনিয়মসহ নানা দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছিলেন বলে ‘খবরের কাগজ’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেই অবৈধ দুর্নীতির টাকায় দুর্নীতির রতনদের ম্যানেজ করে গড়ে তুলেছেন কংক্রিট ডেভেলপার্স লিমিটেড; যা জয়েন্ট স্টকে নিবন্ধিত কোম্পানি। তাছাড়া তার আরও আছে নিধি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এখন প্রশ্ন হলো- তিনি একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে কীভাবে শত কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করলেন?

১৯৭৯ সালের সরকারি চাকরির আচরণ বিধিমালার ১৭(১) নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা আছে- ‘এই আইনের অন্য বিধান অনুসারে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যবসায় জড়াতে পারবেন না। অথবা দায়িত্বের বাইরে অন্য কোনো কাজ কিংবা চাকরি নিতে পারবেন না।’

আবার ১৭ (৩) নম্বর ধারায় এটাও স্পষ্ট বলা আছে- ‘সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া একজন সরকারি কর্মচারী তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় নিজের পরিবারের কোনো সদস্যকে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার বিষয়ে অনুমতি দিতে পারবেন না।’

দুর্নীতি দমন কমিশন পরিচালিত বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা সরকারি কর্মচারী চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সঙ্গত কারণে, চাকরি বিধিমালার নির্দেশনাসমূহ অনুসরণের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করেন।

সরকার বিভিন্ন সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে। এরপরও দেখা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের একটা ‘বড় অংশ’ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নিজস্ব ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন।

এনিয়ে ২০২১ সালে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক)। সে সময়ের দুদুক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন সিকদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে দুদুক জানায়- কিছু সরকারি চাকরিজীবী হয় ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন, নয়তো নিজের নামে অথবা পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। এভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তারা।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার ‘খবরের কাগজ’কে বলেন- এগুলো ছিল শাস্তিযোগ্য কর্মকাণ্ড। একজন বিধি লঙ্ঘনকারী এ জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারতেন। এমনকি তার চাকরিও চলে যেতে পারত। এ ধরনের চর্চা চাকরি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পরিপন্থি। 

সরকারি কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল হওয়া ভীষণভাবে জরুরি। স্ব স্ব বিভাগে যখন তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জায়গা দুর্বল হয়ে যায় তখনই এ ধরনের অন্যায় অপরাধে জড়িত হওয়ার প্রবণতাও বেশি থেকে যায়। আজ এ সমাজে এরকম হাজারো কুতুবের পদচারণা ও আস্ফালন রয়েছে। বেশির ভাগ তারা ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করে। সিঁড়ি হিসেবে তারা তাদের মতোই রতনের শেল্টার নিয়ে থাকে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হয় ফলাও করে, লোক দেখানো নামকাোয়াস্তে একটা তদন্ত কমিটি হয়। কিন্তু জনতার সামনে এর মুখোশ উন্মোচন হতে বেশ সময় নষ্ট হয়ে যায়, এরই মধ্যে সমাজে সৃষ্টি হয় আরেক নতুন কুতুব। প্রায়ই পত্রিকায় খবর আসে সরকারি অফিসের পিওন কোটি টাকার বিত্তবৈভবের মালিক। রাজধানীতে চারটি বাড়ি, সেই সঙ্গে বিভিন্ন দামি গাড়িও আছে। সব সম্পত্তিই যেন স্ত্রীই গড়েছেন। শালিকার জন্যও বরাদ্দ থাকে এসব সম্পদ। তাহলে সরকারের স্ব স্ব বিভাগ চুপ থাকবে কেন? যে দপ্তরে এমন দুর্নীতিবাজ তৈরি হবে সেখানে স্ব স্ব বিভাগের প্রধানকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। তাহলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে। স্ব স্ব বিভাগের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনেরও শক্ত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই দেশে এ ধরনের কুতুব সৃষ্টির পথ বন্ধ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেন। গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রথমে তিনি একান্ত বৈঠক করেন, এরপর তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত  দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার আবার উন্মুক্তকরণ, বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে  শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমি-কন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত সহযোগী ও অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ফের মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার প্রত্যাশা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনীতির বিশ্লেষকসহ অনেকে।

 অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে হলে দেশটিতে রপ্তানি বাড়াতে হবে। বিশেষভাবে শ্রমশক্তি রপ্তানিতে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বহুদিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সফল হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে বিদ্যমান সব বাধা দূর করতে হবে। হালাল অর্থনীতিতে বৈশ্বিক বাজারে অন্যতম রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়ার অবস্থান রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার বাজারে হালাল খাদ্য, মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ায় বিশাল হালাল বাজারের অংশীদার হওয়ার সুযোগ আছে। মালয়েশিয়া খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দেশটির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত। তাদের পাঠানো আয় এ দেশের অর্থনীতিতে  ইতিবাচক অবদান রাখছে। নতুন সরকারের কাছে শ্রমবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তাই মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হবে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং আমদানি-রপ্তানিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম
সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশ্রয়শিবিরে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিরাপদে নিজ ভূমিতে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়ে নতুন করে আরও দেড় লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে এ দেশে প্রবেশ করে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য এখন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে মায়ানমারের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন এক কঠিন বাস্তবতায় পালিত হয়েছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাস্তচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি জানাতে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটি প্রতিবছর ঘটা করে পালিত হলেও দীর্ঘ ৯ বছরেও তাদের প্রত্যাশা অধরাই রয়ে গেছে।

কিছুদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলো এখন অনিরাপদ জনপদে পরিণত হয়েছে। একদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য, অপহরণ ও চাঁদাবাজিতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে দারিদ্র্য ও মানবিক সহায়তার সীমাবদ্ধতায় শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘জয়েন্ট প্রোটেকশন মনিটরিং রিপোর্ট এবং ইন্টার-সেক্টর নিডস অ্যাসেসমেন্ট-২০২৫’ প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে শরণার্থীদের করুণ অবস্থার নির্মম চিত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ক্যাম্পে অন্তত ৩২৪টি গুরুতর জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে, যা সরাসরি ৫১০ জন রোহিঙ্গাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে ১৫৮টি অপহরণ বা গুম, ৭৫টি গুরুতর শারীরিক লাঞ্ছনা, ৫১টি চাঁদাবাজি, ১৮টি গোলাগুলি এবং দুজন হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত প্রান্তিকের তুলনায় মোট ঘটনার সংখ্যা ১৯ শতাংশ কমলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অর্থ অপরাধের তীব্রতা ও ব্যাপ্তি আগের চেয়ে বেড়েছে।

সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আশ্রয়দাতা এলাকার জনজীবনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতিতে বনভূমি উজাড়, পরিবেশের ভারসাম্যহানি, শ্রমবাজারের মজুরি কমে যাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের বিষয়টি সমর্থন করেন, তবে সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান দেখতে চান। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে চাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রাও এখন প্রত্যাবাসনের কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় সেখানে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাদের আশ্রয় দিলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই। তবু বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গারা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। রাখাইন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা এখনো প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। সে কারণে সরকারকে একই সঙ্গে নিরাপদ স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখা জরুরি। এদিকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

সম্প্রতি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। যারা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তাই এখন হুমকির মুখে। অপরাধীদের ধরতে গিয়ে তারা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজ এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়। স্থানীয় লোকজন আটক ব্যক্তিদের ঘর পুড়িয়ে দেয়। এ হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর), পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন। ভাঙচুর করা হয়েছে সরকারি ছয়টি গাড়ি। এদিকে রাজধানীর আদাবরে একজন বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযানে গেলে দুর্ধর্ষ হামলার শিকার হন থানার ওসি এবং একজন এসআই। একপর্যায়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা খবরের কাগজকে জানান, এ এলাকায় ছিনতাইকারী চক্র এতটাই বেপরোয়া ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে যে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও ভয় পায় না। প্রকাশ্যেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে। টার্গেট করে হামলা চালায় এবং সবকিছু কেড়ে নেয়। সামান্য বাধা পেলেই তারা প্রকাশ্যে মানুষকে কুপিয়ে জখম করে। মাঝেমধ্যে ছিনতাইকারী-মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও কয়েক দিনের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এভাবে এলাকায় ছিনতাইকারীরা নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধকাজ চালিয়ে যেতে পারে।

গত ১৮ জুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য। পরে আড়াইহাজার থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অপরদিকে স্থানীয়দের দাবি, তারা পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দাবি, তারা একটি মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। গত শুক্রবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নে এক শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতার হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এভাবে সারা দেশে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চলছে এবং তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই (জানুয়ারি-মে) পুলিশের ওপর অন্তত ২৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর চলতি মাসের মাঝামাঝি বড় তিনটি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত এ সংখ্যা ৮৭০ ছাড়িয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধবিরোধী অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে এমন হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

আমরা লক্ষ করেছি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পুলিশকে নিশানা করে হামলা করা হয়েছিল। সে সময়ে পুলিশের মনোবল চরমভাবে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে থাকে। পরে সরকার পুলিশের মনোবল বাড়ানোর জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন। যারা পুলিশের ওপর হামলা করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা আশা করছি, সরকার অচিরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে এবং তাদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে স্থান পায়।

ছড়িয়ে পড়ছে এইডস প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

দেশে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে এইডসে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সামাজিক কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি অনেকে গোপন রাখেন, চিকিৎসা করাতে চান না। ফলে ক্রমেই এ সংক্রমণ অজান্তে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এইচআইভি এখন শহরেই শুধু সীমাবদ্ধ নেই, এর বিস্তার ঘটেছে গ্রাম পর্যায়েও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস, যা মানব দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে এইডস দেখা দেয়। বর্তমানে এ রোগের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। চিকিৎসার মাধ্যমে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং আক্রান্ত ব্যক্তিও দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

চলতি বছর দেশে জেলা পর্যায়ে সমকামী তরুণদের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায় এইডস সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র। খবরের কাগজের বরিশাল প্রতিবেদক জানান, জেলার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৩ হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনই উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের হার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে অবিবাহিতের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই শ্রেণিতে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই হার চলতি বছর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি) কন্ট্রোল প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ১ হাজার ৪৩৮ জন নতুন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৯১ জনে, যা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ২০২৫ সালে এইডসে ২৫৪ জন মারা যান। অন্যদিকে চলতি বছরও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বছরের মাঝামাঝি আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। সংক্রমিতদের বড় অংশের বসবাস ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা ও সিলেট অঞ্চলে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে অনুমিত এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৫০০। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৫ জন চিকিৎসার আওতায় এসেছেন। অর্থাৎ শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৭৪ শতাংশ চিকিৎসা পাচ্ছেন। এখনো ২৬ শতাংশ রোগী চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা ও কলঙ্ক, পর্যাপ্ত পরীক্ষা সুবিধার সংকট এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে বিদেশগামী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। যা সংক্রমণ শনাক্তকরণকে আরও কঠিন করে তুলছে।

দেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শুধু চিকিৎসা দিলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। এ ছাড়া গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করতে হবে, যাতে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী এইডসের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা জরুরি জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দশমিক শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে অবস্থায় অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে গতি না এলে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলন জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে বৈশ্বিক সংকটে উত্তরাধিকার সূত্রে নির্বাচিত সরকার শিল্প-বিনিয়োগ-ব্যবসা-বাণিজ্যে কতটা গতি আনতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও আছে দশমিক শতাংশ ছাড়া অর্থনীতিতে একধরনের টানাপোড়েন চলছে দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে রপ্তানি আয়েও নিম্নমুখী প্রভাব লক্ষণীয় গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল গত মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দশমিক শতাংশ  নির্ধারণ করেছিল অবশ্য বিশ্বব্যাংকের ধারণা বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে শতাংশের কম এমনকি বৈশ্বিক অচলাবস্থা এবং ইরান-ইসরায়েল আমেরিকার সংঘাতের ফলে আগামী বছরও বিশ্ব অর্থনীতি ধীরগতিতে চলমান থাকবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে

দেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি, ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসার উচ্চ খরচকে বিনিয়োগ মন্থরতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পেয়েছে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না উচ্চ সুদের হার ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে, জ্বালানি বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছেমূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিট থেকে কমলেও এখনো উচ্চপর্যায়ে  রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিনিয়োগের গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি কাঁচামালের উচ্চমূল্য আমাদের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আয়-ব্যয়ের যে বরাদ্দ ধরা হয়েছে, তা যদি ৭০-৮০ শতাংশ অর্জিত হয়, তাহলে জিডিপির প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব হবে না তবে সেটা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাজেটের পাশাপাশি শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহ, ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা, করকাঠামো সহজীকরণ; ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস; নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতিতে সংকট চলছে এমন প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশের নতুন সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আগামীতে শিল্প-বিনিয়োগ-কর আদায় বাড়াতে পারলে প্রাক্কলন অর্জন সম্ভব বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব বাড়বে, এমন আশা করা সাহসের বিষয় তবে বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এটি একটি ইতিবাচক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু বাজেট ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিকভাবে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে তাই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারকে লক্ষ্য অর্জনে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে