ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল! হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিয়েলসার ক্ষোভ ইরানের রক্ষণদুর্গে আটকে গেল বেলজিয়াম গোল বাতিল ইরানের, গোলশূন্য প্রথমার্ধ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড পেলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন ইয়ামাল জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক

অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৪, ১০:১৮ এএম
আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৪, ১০:৪৩ এএম
অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ হাউজে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান।

এ সময় হাইকমিশনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। 

পতাকা উত্তোলন শেষে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

দিবসের পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে দুপুর ১২টায় হাইকমিশনের অডিটোরিয়ামে বিশেষ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনাসভায় হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কানাডায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে হাইকমিশনারের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

এরপর হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।

এরপর দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা থেকে পাঠানো একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। 

হাইকমিশনার আলোচনাসভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চে আহ্বান করেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান স্বাধীনতাকে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন বলে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তাছাড়া বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। 

এ সময় তারা কানাডায় বসবাসরত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ করার শপথ নেন। 

সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি গণ-আন্দোলনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্রের বিষয়যটি বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ভাষণে সবাইকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতির নির্দেশনা দেন। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। 

হাইকমিশনার মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগ ও সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণকারী তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে দেশ-বিদেশে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। 

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে কানাডার সরকার ও জনগণের সমর্থনের জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

কানাডা ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকে দুই দেশ মানবাধিকার, উন্নয়ন, চরমপন্থা মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলে হাইকমিশনার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাণিজ্যসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

অমিয়/

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত
কাদের আহমদ, জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ ও জুবায়ের আহমদ

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।

রবিবার (২১ জুন) সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।

নিহত প্রবাসীরা হলেন- গাছবাড়ি এলাকার কাদের আহমদ, আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ এবং একই গ্রামের জুবায়ের আহমদ।

এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রবাসীরা পিকআপভ্যানে করে তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ছয়জন নিহত হন।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অমিয়/

প্রকৃতির বিস্ময়ে আলোকিত এক দেশ ফিনল্যান্ডে বছরের দীর্ঘতম দিন, মধ্যরাতেও হাসে সূর্য

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
ফিনল্যান্ডে বছরের দীর্ঘতম দিন, মধ্যরাতেও হাসে সূর্য
ছবি: হেলসিঙ্কির কিছু প্রাকৃতিক দৃশ্য

পৃথিবীর অনেক দেশেই গ্রীষ্ম আসে, সূর্য উজ্জ্বল হয়, দিন বড় হয়। কিন্তু ফিনল্যান্ডে গ্রীষ্মের এক বিশেষ মুহূর্ত আছে, যা বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। জুনের শেষভাগে এসে এই উত্তর ইউরোপের দেশটি উপভোগ করে বছরের দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত। এ সময় দেশের উত্তরাঞ্চলে এমনকি সূর্য একেবারেই অস্ত যায় না। রাত ১২টায়ও আকাশে দিনের আলো বিরাজ করে।

২০২৬ সালে ফিনল্যান্ডে জুহান্নুস বা মিডসামার ডে পালিত হচ্ছে ২০ জুন। এর ঠিক পরদিন, ২১ জুন, ঘটে গ্রীষ্মকালীন অয়ন বা Summer Solstice, যা উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মুহূর্ত হিসেবে পরিচিত।

যখন রাত হারিয়ে যায়

ফিনল্যান্ডের রাজধানী Helsinki-তে জুন মাসে সূর্যাস্ত হয় প্রায় মধ্যরাতের কাছাকাছি এবং ভোরের আগেই আবার সূর্য উঠে যায়। ফলে প্রকৃত অন্ধকার বলতে কিছুই থাকে না। আকাশে সারারাত নীলাভ-সোনালি আলো ছড়িয়ে থাকে, যাকে ফিনিশরা বলে "White Night" বা সাদা রাত।

আর দেশের উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল Lapland-এ পরিস্থিতি আরও বিস্ময়কর। সেখানে টানা কয়েক সপ্তাহ সূর্য দিগন্তের নিচে নামে না। মধ্যরাতেও সূর্যের আলোয় পাহাড়, বনভূমি ও হ্রদ ঝলমল করে।

কেন হয় এই ঘটনা

পৃথিবী তার অক্ষের উপর প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে সূর্যের চারদিকে ঘোরে। জুন মাসে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে সূর্যের আলো দীর্ঘ সময় ধরে উত্তরাঞ্চলে পড়ে এবং দিন সবচেয়ে বড় হয়। এই ঘটনাকেই বলা হয় Summer Solstice বা গ্রীষ্মকালীন অয়ন।

এই দিন থেকেই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রীষ্মের সূচনা ধরা হয়। যদিও এর পরের দিনগুলোতে দিন ধীরে ধীরে ছোট হতে শুরু করে, তবুও গ্রীষ্মের আবহ থাকে আরও কয়েক মাস।

পুরো দেশ যেন উৎসবের দেশে পরিণত হয়

ফিনল্যান্ডে বছরের দীর্ঘতম দিন কেবল একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, এটি জাতীয় অনুভূতিরও অংশ। জুহান্নুস বা মিডসামার উৎসবকে কেন্দ্র করে শহর থেকে লাখো মানুষ ছুটে যায় গ্রামাঞ্চল, দ্বীপপুঞ্জ ও গ্রীষ্মকালীন কটেজে। পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়দের নিয়ে তারা প্রকৃতির মাঝে উদযাপন করে এই আলোর উৎসব।

হ্রদের তীরে জ্বলে ওঠে বিশাল অগ্নিকুণ্ড বা ‘কোক্কো’, গরম হয় সাউনা, শুরু হয় গান, নাচ, বারবিকিউ ও নৌবিহার। অনেকেই মধ্যরাতে হ্রদে সাঁতার কাটেন, কারণ তখনও চারপাশে দিনের আলো থাকে।

পর্যটকদের জন্য এক স্বপ্নময় অভিজ্ঞতা

বিশ্বের নানা দেশ থেকে পর্যটকরা এই সময় ফিনল্যান্ডে আসেন শুধুমাত্র ‘মিডনাইট সান’ বা মধ্যরাতের সূর্য দেখার জন্য। বিশেষ করে ল্যাপল্যান্ডে রাত ১২টায় সূর্যকে আকাশে দেখা অনেকের কাছে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

প্রকৃতি প্রেমী, আলোকচিত্রী এবং ভ্রমণকারীদের জন্য এটি এক অনন্য সময়। রাতের আকাশে সূর্যের সোনালি আলো, শান্ত হ্রদের পানিতে তার প্রতিফলন এবং নিস্তব্ধ বনভূমির সৌন্দর্য মিলে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব পরিবেশ।

বাংলাদেশের জন্য বিস্ময়ের গল্প

বাংলাদেশে যেখানে জুন মাস মানেই বর্ষার মেঘ, বৃষ্টি আর স্বাভাবিক দিন-রাতের পালাবদল, সেখানে ফিনল্যান্ডের দীর্ঘতম দিন যেন প্রকৃতির এক ভিন্ন রূপকথা। এখানে রাত নামলেও অন্ধকার নামে না। শিশুরা গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে খেলতে পারে, মানুষ মধ্যরাতেও হাঁটতে বের হয়, আর প্রকৃতি যেন ২৪ ঘণ্টাই জেগে থাকে।

ফিনল্যান্ডের মানুষের কাছে এই সময়টি শুধু ঋতু পরিবর্তনের নয়, বরং জীবনকে উদযাপনের সময়। দীর্ঘ ও অন্ধকার শীতের পর সূর্যের এই অফুরন্ত উপস্থিতি তাদের মনে নিয়ে আসে নতুন উদ্দীপনা, আনন্দ ও আশার বার্তা।

শেষ কথা

বিশ্বের সুখী দেশ হিসেবে পরিচিত ফিনল্যান্ডের সুখের পেছনে প্রকৃতিরও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। বছরের দীর্ঘতম দিন সেই প্রকৃতিরই এক অসাধারণ উপহার। যখন মধ্যরাতে সূর্য হাসে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন মানুষের জন্য বিশেষ এক উৎসবের আয়োজন করেছে।

ফিনল্যান্ডের এই দীর্ঘতম দিন শুধু একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, এটি আলো, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনবোধের এক অনন্য মিলনমেলা।

তামান্না রুপা/

মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

বাহরাইনের মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশে দূতাবাসের হলরুমে এ গণশুনানি হয়। 

এ অনুষ্ঠানে সাধারণ প্রবাসীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতাসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার তার বক্তব্যে গণশুনানিতে উপস্থিত সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে দূতাবাস সরাসরি প্রবাসী কর্মীদের সমস্যা সর্ম্পকে অবহিত হতে পারবে। দূতাবাসের কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে প্রবাসীদের গঠনমূলক পরামর্শ দূতাবাসের সেবার মানকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া, তিনি কোনো সমস্যা হলে সরাসরি দূতাবাসের অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

রাষ্ট্রদূত সকলকে বাহরাইনের আইন-কানুন মেনে চলা এবং বৈধভাবে এই দেশে অবস্থান করার অনুরোধ জানান।

বিদেশের মাটিতে কারও দ্বারা যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান।

এ গণশুনানিতে যোগদানের জন্য দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রবাসীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাহরাইনে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শতাধিক প্রবাসী এই অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের কাছে সরাসরি তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। 

এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রশ্নের তাৎক্ষণিক সমাধান দেন। প্রবাসীরা তাদের প্রস্তাবনা, মতামত, অভিযোগ, পরামর্শ সরাসরি ই-মেইলে ([email protected]) পাঠাতে পারবেন।

অন্তরা/

জেনেভায় আইএলও এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সভাপতিত্ব করলেন শ্রমমন্ত্রী

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
জেনেভায় আইএলও এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সভাপতিত্ব করলেন শ্রমমন্ত্রী
ছবি: বাংলাদেশ মিশন, জেনেভা

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আরব, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশের শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন চলাকালীন জাতিসংঘের দপ্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান।

এ বৈঠকে আরব, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ১৫ জন মন্ত্রীসহ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মহাপরিচালক এবং আরব ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকরা বক্তব্য দেন।

শ্রমমন্ত্রী তার বক্তব্যে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সমন্বয়কারী হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব পালনের সময় সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আইএলওর অন্যতম বৈচিত্র্যময় গ্রুপ হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ বিভিন্ন উন্নয়ন স্তর, অর্থনৈতিক কাঠামো, সংস্কৃতি ও শ্রমবাজার বাস্তবতার দেশগুলোকে একত্রিত করেছে। এই বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সামাজিক ন্যায়বিচার, শোভন কাজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপেকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে।

তিনি বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বৈশ্বিক শ্রম শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান আইএলওর মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের বিশেষ অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য ও সমসাময়িক উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই গ্রুপের বৈচিত্র্য শ্রম, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি রাখে।

তিনি উল্লেখ করেন, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের বৈচিত্র্যই এর অন্যতম শক্তি এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে “Connecting Diversity, Advancing Unity” প্রতিপাদ্যের আলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

শ্রম সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সমন্বয়কারী হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্বপালনের সময় সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কর্মজগত আজকের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোভন কাজের প্রসারে সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শ্রমশক্তির প্রতিনিধিত্বকারী এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে আইএলওর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক গ্রুপ। গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপটির আঞ্চলিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করার ধারাবাহিকতায় এ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করল।

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে অভিন্ন অগ্রাধিকারসমূহ এগিয়ে নিতে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

থিও/অমিয়/

ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন
ছবি: খবরের কাগজ

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পরভো (Porvoo) শহর। এই শহরে এসে মনে হলো যেন কয়েক শতাব্দী পেছনে চলে গেছি।

আধুনিক ফিনল্যান্ডের ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনস্থল এই শহর। দেশটির দ্বিতীয় প্রাচীনতম শহর হিসেবে পরিচিত পরভো শুধু ফিনল্যান্ডেরই নয়, পুরো নর্ডিক অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

সম্প্রতি শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। শহরে প্রবেশের পরই চোখে পড়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত লাল রঙের কাঠের গুদামঘরগুলো। কয়েকশ বছর আগে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এসব ভবন আজ পোরভোর পরিচয় বহন করছে। পর্যটকদের ক্যামেরায় সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে এই দৃশ্য।

পনরভোর পুরনো শহর বা ‘ওল্ড টাউন’-এ হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো যেন কোনো রূপকথার শহরে প্রবেশ করেছি। সরু পাথরের রাস্তা, শত শত বছরের পুরনো কাঠের বাড়ি, ছোট ছোট ক্যাফে, শিল্পকর্মের দোকান এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য পুরো এলাকাকে অন্যরকম সৌন্দর্য দিয়েছে। শহরের প্রতিটি গলি যেন ইতিহাসের এক একটি অধ্যায়।

শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পরভো ক্যাথেড্রাল। ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত এই গির্জাটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত গির্জার সামনে দাঁড়িয়ে পুরো শহর এবং নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখানে আসা পর্যটকদের অনেকেই কিছু সময় নীরবে বসে শহরের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করেন।

পরভো নদীর তীরও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গ্রীষ্মকালে নদীর পাশে হাঁটা, নৌভ্রমণ কিংবা খোলা আকাশের নিচে বসে কফি পান করার আনন্দই আলাদা। নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

শহরটি শুধু ইতিহাসের জন্য নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির জন্যও সুপরিচিত। বিখ্যাত ফিনিশ কবি জোহান লুডভিগ রুনেবার্গের স্মৃতি বহন করছে এই শহর। তার বাড়ি বর্তমানে জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আর্ট গ্যালারি ও হস্তশিল্পের দোকানে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।

পরভোর আরেকটি আকর্ষণ হলো এর ক্যাফে সংস্কৃতি। শহরের ছোট ছোট ক্যাফেগুলোতে স্থানীয় কফি, পেস্ট্রি ও ঐতিহ্যবাহী ফিনিশ খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পুরনো শহরের পরিবেশে বসে এক কাপ গরম কফি যেন ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তবে পরভোকে আলাদা করে মনে রাখার কারণ হলো এর প্রশান্ত পরিবেশ, ঐতিহাসিক আবহ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিখুঁত সমন্বয়। যারা ভ্রমণ ভালোবাসেন, বিশেষ করে ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য পরভো অবশ্যই একটি দর্শনীয় স্থান।

হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটের যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় এই শহরে। তাই ফিনল্যান্ডে আসা কোনো পর্যটকের ভ্রমণ তালিকায় পরভো থাকা উচিত। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ইউরোপের সৌন্দর্য অনুভব করতে চাইলে পরভো হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।

পরভো শুধু একটি শহর নয়, এটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

জামান সরকার/আমান