যুক্তরাষ্ট্রে নিহত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যার বিচার দাবি জানিয়েছেন তাদের পরিবার। একই সঙ্গে ইসলামিক নিয়মে দাফন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মৃতিস্তম্ভ, আইনি প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সম্পদ ফেরত এবং আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন তারা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত এ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সময়, সমন্বয় ও সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, ‘অ্যাভালন হাইটস’ নামের অফ-ক্যাম্পাস আবাসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল। যথাযথ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ছাড়া রুমমেট নির্ধারণ, অপর্যাপ্ত সিসিটিভি কাভারেজ এবং অভিযোগ পাওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়গুলো তদন্ত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহসহ সংশ্লিষ্ট সবার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং মামলাটি যাতে বিলম্বিত বা দুর্বল না হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করা হয়েছে। পরিবারগুলোর জন্য আইনি ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নিহত দুই শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পোশাক ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাদের ব্যাংক হিসাব, বকেয়া স্টাইপেন্ড ও অন্যান্য পাওনা অর্থও পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তরের দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারগুলোর সহায়তায় একটি আনুষ্ঠানিক অনুদান ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জামিল ও বৃষ্টির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) ক্যাম্পাসে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে পরিবারগুলো আশা প্রকাশ করে বলেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
কাওসার/রিফাত/