ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫
Nagad desktop

ফ্লোরিডায় নিহত বৃষ্টির মরদেহ দেশে আসবে ৯ মে

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৭ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ফ্লোরিডায় নিহত বৃষ্টির মরদেহ দেশে আসবে ৯ মে
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ আগামী শনিবার (৯ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল‍্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বৃষ্টির মরদেহবাহী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।

শনিবার (২ মে) সকালে টাম্পা পুলিশ বৃষ্টির মরদেহ ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়

এ সময় মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রতিনিধি অরল‍্যান্ডো বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক্রমে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।

গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় ইসলামিক সোসাইটি অব টামপা বে’তে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রতিনিধিসহ বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এতে ইমামতি করেন ইসলামিক সোসাইটি অব টামপা বে’র ইমাম আরজান আহমেসুলা।

জানাজার আগে বৃষ্টির মরদেহ মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। 

জানাজার পর দুই শিক্ষার্থী হত‍্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় একটি সেন্টারে আয়োজিত সভায় উপস্থিত সবাই দুই শিক্ষার্থীর হত্যায় জড়িত অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সম্প্রতি ফ্লোরিডায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর সমস্ত ব‍্যয় বহন করছে বাংলাদেশ সরকার। 

এর আগে জামিল লিমনের মরদেহ গত ৪ মে দেশে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ জামিলের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

এদিকে পিএইচডির শিক্ষার্থী জামিল ও নাহিদা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে এই ডিগ্রি প্রদান করা হবে। 

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস‍্যুলেটকে চিঠি দিয়ে এ তথ‍্য জানিয়ে কনস‍্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে নিহত দুই পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করার জন‍্য অনুরোধ করে।

সেই অনুযায়ী মিয়ামি কনস‍্যুলেটের একজন প্রতিনিধি সমাবর্তনে উপস্থিত থেকে জামিল ও বৃষ্টির পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করবেন।

গত ১৬ এপ্রিল জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পুলিশ ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে ফ্লোরিডা পুলিশ।

অমিয়/

ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন
ছবি: খবরের কাগজ

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পরভো (Porvoo) শহর। এই শহরে এসে মনে হলো যেন কয়েক শতাব্দী পেছনে চলে গেছি।

আধুনিক ফিনল্যান্ডের ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনস্থল এই শহর। দেশটির দ্বিতীয় প্রাচীনতম শহর হিসেবে পরিচিত পরভো শুধু ফিনল্যান্ডেরই নয়, পুরো নর্ডিক অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

সম্প্রতি শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। শহরে প্রবেশের পরই চোখে পড়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত লাল রঙের কাঠের গুদামঘরগুলো। কয়েকশ বছর আগে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এসব ভবন আজ পোরভোর পরিচয় বহন করছে। পর্যটকদের ক্যামেরায় সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে এই দৃশ্য।

পনরভোর পুরনো শহর বা ‘ওল্ড টাউন’-এ হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো যেন কোনো রূপকথার শহরে প্রবেশ করেছি। সরু পাথরের রাস্তা, শত শত বছরের পুরনো কাঠের বাড়ি, ছোট ছোট ক্যাফে, শিল্পকর্মের দোকান এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য পুরো এলাকাকে অন্যরকম সৌন্দর্য দিয়েছে। শহরের প্রতিটি গলি যেন ইতিহাসের এক একটি অধ্যায়।

শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পরভো ক্যাথেড্রাল। ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত এই গির্জাটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত গির্জার সামনে দাঁড়িয়ে পুরো শহর এবং নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখানে আসা পর্যটকদের অনেকেই কিছু সময় নীরবে বসে শহরের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করেন।

পরভো নদীর তীরও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গ্রীষ্মকালে নদীর পাশে হাঁটা, নৌভ্রমণ কিংবা খোলা আকাশের নিচে বসে কফি পান করার আনন্দই আলাদা। নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

শহরটি শুধু ইতিহাসের জন্য নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির জন্যও সুপরিচিত। বিখ্যাত ফিনিশ কবি জোহান লুডভিগ রুনেবার্গের স্মৃতি বহন করছে এই শহর। তার বাড়ি বর্তমানে জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আর্ট গ্যালারি ও হস্তশিল্পের দোকানে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।

পরভোর আরেকটি আকর্ষণ হলো এর ক্যাফে সংস্কৃতি। শহরের ছোট ছোট ক্যাফেগুলোতে স্থানীয় কফি, পেস্ট্রি ও ঐতিহ্যবাহী ফিনিশ খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পুরনো শহরের পরিবেশে বসে এক কাপ গরম কফি যেন ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তবে পরভোকে আলাদা করে মনে রাখার কারণ হলো এর প্রশান্ত পরিবেশ, ঐতিহাসিক আবহ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিখুঁত সমন্বয়। যারা ভ্রমণ ভালোবাসেন, বিশেষ করে ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য পরভো অবশ্যই একটি দর্শনীয় স্থান।

হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটের যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় এই শহরে। তাই ফিনল্যান্ডে আসা কোনো পর্যটকের ভ্রমণ তালিকায় পরভো থাকা উচিত। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ইউরোপের সৌন্দর্য অনুভব করতে চাইলে পরভো হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।

পরভো শুধু একটি শহর নয়, এটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

জামান সরকার/আমান

অস্ট্রেলিয়ার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিক্টোরিয়ার ওয়েরিবি ম্যাসনিক সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন- অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সভাপতি এ. এস. এম. তৌহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ হায়দার আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি ভিক্টোরিয়ার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরিফ খান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর শরীফ শিহান দোয়া সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ হাফেজ মাহমুদ যুগ্ম আহ্বায়ক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া।

আলোচনা সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ তেলাল খান পল, সদস্য মোঃ বদিউজ্জামান শিপন, সদস্য মোঃ রাশিদুল আমিন, সদস্য মোহাম্মদ সিমন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ভিক্টোরিয়া শাখার আহ্বায়ক মোঃ রহমত উল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া শাখার আহ্বায়ক আরিফ খান।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান, জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনে তার ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

এসএন/বিজ্ঞপ্তি

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ২ যুবক নিহত

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ২ যুবক নিহত
নিহত হারুন ও রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

‎সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার দুই প্রবাসী যুবক হারুন ও রাসেল নিহত হয়েছেন। তারা প্রতিবেশী ছিলেন।

‎সোমবার (১ জুন) দুর্ঘটনার খবর দেশে পৌঁছালে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন হারুন ও রাসেল। রবিবার (৩১ মে) রাতে তারা রাজধানী রিয়াদের একটি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি উটের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তারা মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

‎নিহত হারুনের বাবা তছলিম উদ্দীন ছৈয়াল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে বিদেশে গিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিল। আজ সে লাশ হয়ে ফিরবে এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

‎এলাকাবাসী জানান, হারুন ও রাসেল ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, প্রবাসী দুই যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনা ও আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

‎তিনি আরও জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পরিবারের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

রফিকুল ইসলাম/নাঈম

গ্রীষ্মকালের ফিনল্যান্ডে সেরা গন্তব্য স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
গ্রীষ্মকালের ফিনল্যান্ডে সেরা গন্তব্য স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ও তুষারাচ্ছন্ন শীতের পর যখন ফিনল্যান্ডে গ্রীষ্মের আগমন ঘটে, নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় পুরো দেশ। রাতের অন্ধকার সরে গিয়ে দিনের আলো দীর্ঘ হয়, প্রকৃতি সেজে ওঠে সবুজে, আর ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যায় দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।

এ সময় রাজধানী হেলসিংকির উপকূলে অবস্থিত স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ হয়ে ওঠে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ইতিহাস, প্রকৃতি, স্থাপত্য ও সমুদ্রের এক অনন্য সমন্বয় এই স্যোমেনলিন্না। এটি শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং ফিনল্যান্ডের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী।

তিন শতাব্দীর ইতিহাসের ধারক

স্যোমেনলিন্না দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৭৪৮ সালে, যখন ফিনল্যান্ড ছিল সুইডেনের অংশ। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির মোকাবিলায় বাল্টিক সাগর উপকূল রক্ষার উদ্দেশ্যে এই বিশাল সমুদ্র দুর্গ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় দুর্গটির নাম ছিল “Sveaborg”।

সুইডিশ সামরিক প্রকৌশলী অগাস্টিন এরেন্সভার্ডের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা এই দুর্গে নির্মিত হয় শক্তিশালী প্রাচীর, কামান ঘাঁটি, সামরিক ব্যারাক, গুদামঘর এবং গোপন টানেল। ১৮০৮ সালে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার অধীনে গেলে দুর্গটিও রুশ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন সামরিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এর কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ১৯৭৩ সালে দুর্গটি সামরিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং ১৯৯১ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ছয় দ্বীপের অপূর্ব সমাহার

স্যোমেনলিন্না মূলত ছয়টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি বিস্তীর্ণ দুর্গ এলাকা। প্রায় ৮০০ বাসিন্দা এখনও এখানে বসবাস করেন। দ্বীপজুড়ে রয়েছে শত শত ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন কামান, সুড়ঙ্গপথ, পাথরের দেয়াল এবং সমুদ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এখানে হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে যেন ইতিহাসের কোনো অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। একদিকে শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপত্য, অন্যদিকে নীল সমুদ্র ও সবুজ প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

প্রতি বছর লাখো পর্যটকের পদচারণা

স্যোমেনলিন্না ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর অন্যতম। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী এখানে আসেন। গ্রীষ্মকালে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ছাড়াও জার্মানি, সুইডেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন থেকে হাজার হাজার পর্যটক এই দ্বীপে ভ্রমণ করেন। কেউ ইতিহাস জানতে, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে, আবার কেউ ছবি তুলতে আসেন।

দেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান

স্যোমেনলিন্না মিউজিয়াম

এখানে দুর্গের প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা দুর্গের ইতিহাস জানতে পারেন।

কিংস গেট

দ্বীপের অন্যতম বিখ্যাত নিদর্শন। সুইডেনের রাজা অ্যাডলফ ফ্রেডরিকের আগমনের স্মরণে এটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে এটি পর্যটকদের ছবি তোলার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান।

সাবমেরিন ভেসিক্কো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ফিনল্যান্ডের ঐতিহাসিক সাবমেরিন। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।

বাষ্টিয়ন জ্যান্ডার

খোলা আকাশের নিচে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মঞ্চ, যেখানে গ্রীষ্মকালে নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

গোপন টানেল ও কামানঘাঁটি

দুর্গের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা এসব স্থাপনা যুদ্ধকালীন কৌশল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাক্ষ্য বহন করে।

গ্রীষ্মকালীন উৎসবের প্রাণকেন্দ্র

গ্রীষ্মকালে স্যোমেনলিন্না প্রাণ ফিরে পায় নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। এখানে অনুষ্ঠিত হয়-

• উন্মুক্ত নাট্য মঞ্চ
• লাইভ কনসার্ট ও জ্যাজ অনুষ্ঠান
• শিল্প ও ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী
• শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
• স্থানীয় হস্তশিল্প মেলা

যেভাবে যাবেন

হেলসিংকির কেন্দ্রস্থল Kauppatori (Market Square) থেকে নিয়মিত ফেরি সেবা পরিচালিত হয়। যাত্রা সময় মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট। একই HSL পরিবহন টিকিট ব্যবহার করেই ফেরিতে ভ্রমণ করা যায়।

ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ

• আরামদায়ক জুতা পরুন
• একটি পুরো দিন হাতে রাখুন
• আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক সঙ্গে রাখুন
• ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না
• গাইডেড ট্যুরে অংশ নিলে অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে

স্যোমেনলিন্না শুধু একটি দুর্গ নয়, এটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে সমুদ্রের গর্জন, শতাব্দীপ্রাচীন প্রাচীর এবং প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য একসঙ্গে মিলে তৈরি করেছে এক অনন্য পরিবেশ।

আমান/

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির আলোচনা সভা

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির আলোচনা সভা
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টায় ভানতার Subway Martinlaakso, Kivivuorentie 4, 01620 Vantaa, Finland-এ এ অনুষ্ঠান হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দূরদর্শী নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। 

একই সঙ্গে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (৩০ মে) ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি এবং সাধারণ সম্পাদক জামান সরকার এক যৌথ বিবৃতিতে ফিনল্যান্ডে বসবাসরত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ফিনল্যান্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মবিন মোহাম্মদ, সহসভাপতি তাপস খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুল গাজী ও মো. রবিউল ইসলাম।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রবাসে জাতীয়তাবাদী চেতনা আরও সুদৃঢ় করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফিনল্যান্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানটি সফল করার লক্ষ্যে সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

অমিয়/