ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাপ্তাহিক ২দিন ছুটিসহ নগদে চাকরির সুযোগ আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন How to learn English বিষয়ক Writing Paragraph, ৩০তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ তারার দেশে সাইকেল যাত্রা মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল
Nagad desktop

‘সুরে বাঁধা ভাষা, ভাষায় বাঁধা পৃথিবী’

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
‘সুরে বাঁধা ভাষা, ভাষায় বাঁধা পৃথিবী’
ছবি: সংগৃহীত

একটি অলস শনিবারের সন্ধ্যা। আকাশে মেঘের আস্তরণ, আর টরন্টোর ব্যস্ত ডাউনটাউন যেন একটু থেমে শ্বাস নিচ্ছে—নিজেকে নতুন করে সাজানোর আগে একটুখানি বিরতি। আমি আর আমার বন্ধু তানভীর হোসেন গাড়ি পার্ক করে সেন্ট জোসেফ স্ট্রিট ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। গন্তব্য, কানাডিয়ান মিউজিক সেন্টার। কিন্তু গন্তব্যের আগে যে শহর নিজেই এক শিল্পকর্ম, সেটাকে উপেক্ষা করা যায় না। পুরোনো ইটের দেয়াল, নিঃশব্দ গাছের সারি, হালকা বাতাসে ভেসে থাকা এক ধরনের রোমান্টিক বিষণ্নতা-সব মিলিয়ে সন্ধ্যাটা যেন নিজেই এক কবিতা হয়ে উঠেছিল।

গত ২৫ এপ্রিল অবশেষে আমরা পৌঁছে গেলাম সেই কাঙ্ক্ষিত স্থানে। কানাডিয়ান মিউজিক সেন্টারের এই ভেন্যুটি নিজেই এক ইতিহাসের অংশ। সঙ্গীত সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন সৃষ্টিকে সামনে আনার জন্য এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এই জায়গাটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি কানাডার সংগীতচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে নতুন সুরকারদের কাজ সংরক্ষণ করা হয়, গবেষণা হয়, পরিবেশনা হয়-এক কথায়, এটি সৃষ্টিশীলতার একটি আর্কাইভ এবং প্ল্যাটফর্ম। সেই ঐতিহ্যের ভেতরেই এই আয়োজন যেন এক নতুন অধ্যায় যোগ করল-যেখানে সাহিত্য আর সঙ্গীত একসাথে এসে দাঁড়াল, আর ভাষার সীমারেখা ভেঙে দিল।

দরোজা পেরোতেই আমাদের স্বাগত জানালেন চির হাস্যোজ্জ্বল সুব্রত কুমার দাস, সময় তখন ঠিক পাঁচটা পঞ্চান্ন। এই শহরে বাঙালি সংশ্লিষ্টতায় সুব্রত কুমার দাসের উপস্থিতি যেন এক ধরনের নিশ্চয়তা-এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি এক গভীর সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের মুহূর্ত।

ভিতরে ঢুকেই বুঝলাম-এটা আর পাঁচটা অনুষ্ঠানের মতো নয়। এখানে এক ধরনের উৎসবমুখরতা, কিন্তু তা কোলাহল নয়-একটি বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তেজনা। লেখক ও অনুবাদক তাসমিনা খান তখন ব্যস্ত এনআরবি টেলিভিশনের জন্য সাক্ষাৎকার নিতে, আর দর্শকেরা  নিজ নিজ আসনে অপেক্ষা করছেন। মঞ্চের এক কোণে শিল্পীরা নিজেদের যন্ত্র ঠিক করছেন, সুর মিলাচ্ছেন-একটি অদৃশ্য সুরের প্রস্তুতি যেন চারপাশে ভাসছে।

তানভীর, তার স্বভাবমতো, চুপচাপ এক কোণে গিয়ে বসে পড়লেন। আর আমি-আমি তো সেই মানুষ, যে নীরবতা ভাঙতে ভালোবাসে। চারপাশে পরিচিত মুখ-কথাসাহিত্যিক জাকারিয়া মোহাম্মদ ময়ীন উদ্দিন, প্রিয় মানুষ নীলিমা দত্ত, সৈয়দা রুখসানা বেগম, শিল্পী ও লেখক সৈয়দ ইকবাল, শ্রেয়সী বোসদত্ত, সুজিত কুসুম পাল, ডক্টর জান্নাতুল নাঈম, কবি জামিল বিন খলিল, আবৃত্তিকার ফ্লোরা নাসরিন ইভা-আরও কত পরিচিত মানুষ, কত গল্প, কত সম্পর্ক। এই সম্প্রদায় আমাদের বেঁধে রাখে এক অদৃশ্য সুতায়-ভাষা, সাহিত্য, আর স্মৃতির বন্ধনে।

এই সুযোগে এই অনুষ্ঠানের সেনাপ্রধান জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক সম্পর্কে দুটো কথা বলে ফেলি। কারণ এই আয়োজনের পেছনে যে মানুষটি দাঁড়িয়ে আছেন-জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক। তিনি শুধুই একজন কবি নন, তিনি এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকার। কানাডার সাহিত্যজগতে তার অবস্থান এমন, যেখানে ইতিহাস, রাজনীতি, জাতিগত স্মৃতি এবং সৃজনশীলতা একসাথে মিশে যায়। তিনি কানাডার পার্লামেন্টারি পোয়েট লরিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার লেখায় আফ্রিকান-কানাডিয়ান ইতিহাস, দাসপ্রথার উত্তরাধিকার, এবং পরিচয়ের জটিলতা বারবার ফিরে আসে।

কিন্তু এই সন্ধ্যায় আমি তাকে আরেকভাবে দেখলাম-একজন সংগঠক হিসেবে, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে। বহু বছর ধরে তিনি কবিতাকে গানে রূপ দেওয়ার যে প্রকল্পটি চালিয়ে আসছেন, সেটি কেবল শিল্পের সংমিশ্রণ নয়, এটি সংস্কৃতির এক ধরনের পুনর্গঠন। কবিতার ভাষাকে গানের সুরে, আবার সেই সুর নতুন কণ্ঠে-এই বহুমাত্রিক যাত্রা আমাদের ভাবায়, আমাদের প্রশ্ন করে, আমাদের একত্রিত করে। 

এই প্রকল্প ইতোমধ্যেই বহু সংস্করণের মধ্য দিয়ে গেছে-এটি ছিল বাইশতম আয়োজন। এতদিন এটি সীমাবদ্ধ ছিল শুধু ইংরেজি ভাষার মধ্যেই। কিন্তু এবারই প্রথম অন্য একটি ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা। আর আমাদের আনন্দ হলো সেই ভাষাটির নাম বাংলা-এটি কেবল একটি নতুন অধ্যায় নয়, এটি এক ধরনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। কারণ ভাষা মানে শুধু শব্দ নয়-ভাষা মানে স্মৃতি, ইতিহাস, অনুভব এবং পরিচয়।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে মানুষটির অবদান অনস্বীকার্য, তিনি সুব্রত কুমার দাস। তিনি শুধু একজন কবি নন-তিনি একজন সেতুবন্ধনকারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বাংলা সাহিত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার লেখালেখি, গবেষণা, এবং সংগঠক হিসেবে ভূমিকা-সব মিলিয়ে তিনি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ।

বাংলাদেশে জন্ম, পরে কানাডায় অভিবাসন-এই দুই ভৌগোলিক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে তিনি যে সাহিত্যচর্চা গড়ে তুলেছেন, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি প্রজন্মের অভিজ্ঞতা। কানাডায় বসে বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা, লেখকদের একত্রিত করা, অনুবাদের মাধ্যমে দুই ভাষার মধ্যে সেতু তৈরি করা-এসবই তার দীর্ঘদিনের কাজ। এই প্রকল্পে তার অংশগ্রহণ যেন স্বাভাবিক পরিণতি-যেখানে তিনি শুধু সহযোগী নন, তিনি এক সহ-নির্মাতা।

আমি যখন তাকে সেই সন্ধ্যায় দরজায় দাড়িয়ে হাসিমুখে স্বাগত জানাতে দেখলাম, তখন বুঝেছিলাম-এই আয়োজন তার জন্য কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি তার বহুদিনের স্বপ্নের বাস্তব রূপ।

কিছুক্ষণ পরই যেন ঘরের আলো বদলে গেল। প্রবেশ করলেন জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক—এক উষ্ণ, উজ্জ্বল হাসি নিয়ে। তার উপস্থিতি শুধু একজন কবির নয়, একজন দৃষ্টিভঙ্গির। তিনি যেন সঙ্গে করে নিয়ে এলেন এক অদ্ভুত শক্তি-যা মুহূর্তেই পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলল। তার পাশে সুব্রত কুমার দাস- দু’জনের এই যুগলবন্দি যেন এই সন্ধ্যার মূল সুর।

অনুষ্ঠান শুরু হলো। প্রথমেই জর্জের উচ্ছ্বসিত বক্তৃতা-একটি ভাষা, যা শুধু কথা নয়, অনুভব। তারপর সুব্রতর শান্ত, স্থির, গভীর উচ্চারণ-যেখানে প্রতিটি শব্দ যেন ভাবনার ভিত গড়ে তোলে।

এই আয়োজনের পেছনের গল্পটাও কম বিস্ময়কর নয়। পাঁচজন কানাডীয় কবির ইংরেজি কবিতাকে সুরে বাঁধা এবং সেই সঙ্গে তাদের বাংলা অনুবাদকে গান হিসেবে উপস্থাপন-এ যেন সাহিত্য ও সংগীতের এক অনন্য মিলন। বহু বছর ধরে জর্জ এই প্রকল্প চালিয়ে আসছেন, কিন্তু এই প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষা এতে যুক্ত হলো। আর এই সংযোজনের পেছনে রয়েছে এক দশকের বিশ্বাস, সম্পর্ক, এবং সাংস্কৃতিক আকর্ষণ।

কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিসরে বাংলা ভাষার এই অন্তর্ভুক্তি শুধু একটি ভাষার জয় নয়-এটি একটি পরিচয়ের স্বীকৃতি।

অনুষ্ঠানের মূল পর্বে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠল-এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, এটি এক ধরনের সৃজনশীল বিপ্লব। পাঁচজন কবি-আয়েষা চ্যাটার্জী, জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, সুব্রত কুমার দাস, লুইস বার্নিস হাফ এবং জিয়োভানা রিচিও—তাদের কবিতা যেন এই সন্ধ্যায় নতুন জীবন পেল। শব্দ আর সুরের মিলনে তারা এক নতুন রূপ ধারণ করল, যেখানে কবিতা আর গান-দুই ভিন্ন জগত-একটি অভিন্ন অনুভূতিতে এসে মিশল।

সাধারণভাবে একটি কবিতার দুইটি জীবন। প্রথমটি তার মূল ভাষায়, আর দ্বিতীয়টি তার সুরারোপে। সেভাবে করা হয়েছে পাঁচ কবির পাঁচটি ইংরেজি কবিতা। কিন্তু এই প্রকল্পের বিশেষত্ব এই যে, এখানে প্রথমে এসেছে কবিতার বাঙলায়ন। তারপর সেই অনুবাদে দেওয়া হয়েছে সুর। একের পর এক কবিকে মঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবি প্রথমে তার পছন্দের ভিন্ন একটি কবিতা পাঠ করেছেন। এরপর তিনি উচ্চারণ করেছেন সেই ইংরেজি কবিতাটি যেটি গানে রূপ দেওয়া হয়েছে। তার পাঠের পর সেটি গেয়েছেন শিল্পী। এরপর কবি তৃতীয় কবিতাটি উচ্চারণ করেছেন। সেটির বাংলা অনুবাদ পাঠ করা হয়েছে। এরপর শিল্পী সেই বাংলা অনুবাদ কবিতাটির গান পরিবেশন করেছেন। যেন একই নদী-কখনো ইংরেজি স্রোতে, কখনো বাংলার ঢেউয়ে।

অনুষ্ঠানের সুরারোপের দায়িত্বে ছিলেন পল্লবী মজুমদার-সাস্কাটুনে বসবাসকারী এক অসাধারণ বাঙালি এই সুরকার। নয়টি কবিতায় তার সুর, আর একটি কবিতায় সুর দিয়েছেন গাগেনহেম পুরস্কারপ্রাপ্ত জেমস রলফ। তাঁদের সুরে কবিতাগুলো শুধু উচ্চারিত হয়নি—তারা অনুভূত হয়েছে, দেহ পেয়েছে, স্পন্দন পেয়েছে।

যখন মঞ্চে এলেন শিল্পী শমিত বড়ুয়া, তার কণ্ঠে বাংলা অনুবাদগুলো যেন এক নতুন মাত্রা পেল। তার গায়কি ছিল স্থির, সংযত, অথচ গভীর-যেন প্রতিটি শব্দ তিনি বুকে ধারণ করে আমাদের সামনে তুলে ধরছেন। আর তারপর-ছোট্ট শ্রেয়া বড়ুয়া। শ্রেয়া ইংরেজি গানগুলো পরিবেশন করেছেন। 

মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে যখন শ্রেয়া দাঁড়াল, পুরো হল যেন এক মুহূর্তে নিঃশব্দ হয়ে গেল। তার কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত স্বচ্ছতা, এক নির্ভীক সৌন্দর্য। এত অল্প বয়সে এমন পরিপক্বতা—শ্রোতারা যেন মুগ্ধ হয়ে গেল। আমি নিজেও কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেলাম-আমি কোথায় আছি। শুধু শুনছিলাম।

পিয়ানোতে সঙ্গত করছিলেন টমসন হন—তার আঙুলের স্পর্শে প্রতিটি সুর যেন জীবন্ত হয়ে উঠছিল। কখনো কোমল, কখনো তীব্র-তার সঙ্গত পুরো পরিবেশনাকে একটি পূর্ণতা দিয়েছে।

এই সন্ধ্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিলেন অনুবাদকরা। তাসমিনা খান, সুব্রত কুমার দাস নিজে, এবং ফারজানা নাজ শম্পা—তাঁদের অনুবাদ ছাড়া এই সেতুবন্ধন সম্ভব হতো না। একটি ভাষার অনুভূতিকে আরেকটি ভাষায় একই শক্তিতে তুলে ধরা—এটি সহজ কাজ নয়। কিন্তু তারা তা করেছেন নিপুণভাবে, সংবেদনশীলতার সঙ্গে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা প্রত্যক্ষ করলাম-কীভাবে একটি কবিতা শুধু পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সুরের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে, মানুষের ভেতরে ঢুকে যায়, নতুন করে জন্ম নেয়। আর তখনই মনে হলো—এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ইতিহাসের একটি মুহূর্ত।

এই পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক। তার কণ্ঠ, তার উপস্থাপনা, তার উপস্থিতি- সবকিছুতেই ছিল এক অদ্ভুত শক্তি। তিনি শুধু অনুষ্ঠান পরিচালনা করেননি, তিনি যেন প্রতিটি মুহূর্তকে জীবন্ত করে তুলছিলেন। তার প্রতিটি শব্দে ছিল উত্তেজনা, প্রতিটি বিরতিতে ছিল গভীরতা। তিনি প্রমাণ করলেন-একজন কবি শুধু লেখেন না, তিনি একটি অভিজ্ঞতা তৈরি করেন।

আর তার পাশে সুব্রত কুমার দাস-যিনি এই আয়োজনের সহ-পরিকল্পনাকারী হিসেবে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার উপস্থিতি ছিল মাটির মতো-নির্ভরযোগ্য, স্থির, অথচ গভীর। তিনি যেন আমাদের সবাইকে একত্রিত করলেন-একটি ভাষা, একটি সংস্কৃতি, একটি অনুভূতির ভেতর।

এবার, প্রথমবারের মতো বাংলা যুক্ত হলো। এটি শুধু একটি ভাষার সংযোজন নয়-এটি একটি স্বীকৃতি, একটি সম্মান। আমি একজন বাঙালি হিসেবে সেই মুহূর্তে এক অদ্ভুত গর্ব অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছিল-আমাদের ভাষা, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের অনুভূতি-সবকিছু আজ একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, এটি একটি সামষ্টিক আনন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে এসে আমি বুঝতে পারছিলাম-এই সন্ধ্যা শুধু দেখা বা শোনা নয়, এটি আমার ভেতরে কোথাও স্থায়ী হয়ে গেছে। যেন এক নীরব ঢেউ, যা ধীরে ধীরে ভেতরের স্তরগুলোকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। যখন আমরা ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছিলাম, তখনও চারপাশে সেই সুর, সেই শব্দ, সেই অনুভূতি ভাসছিল। তানভীর চুপচাপ হাঁটছিল, আর আমি-আমি তখনও কথা বলে যাচ্ছিলাম, যেন এই অভিজ্ঞতাকে ধরে রাখতে চাইছি, শব্দে বেঁধে ফেলতে চাইছি।

শেষবারের মতো পেছনে তাকালাম। আলো জ্বলছে, মানুষজন এখনও কথা বলছে, কেউ হাসছে, কেউ ভাবছে। মনে হলো-এই সন্ধ্যা শেষ হয়নি, এটি শুধু ছড়িয়ে পড়েছে।

টরন্টোর পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে স্কারবরো এবং ইস্ট ইয়র্ক এলাকায়, বিপুলসংখ্যক বাঙালি বাস করেন। তাদের ভাষা, তাদের সংস্কৃতি, তাদের সাহিত্য—সবকিছুই এই শহরের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। কিন্তু সেই পরিচয়কে মূলধারার এমন একটি মঞ্চে তুলে ধরা-এটি সহজ বিষয় নয়। এই আয়োজন সেই কাজটিই করেছে। আর তখনই মনে হয়-এই সন্ধ্যা শুধুই একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল একটি ঘোষণা-যে আমরা আছি, আমরা সৃষ্টি করি, আমরা যুক্ত হই, এবং আমরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক তার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে, সুব্রত কুমার দাস তার সাংস্কৃতিক শক্তি দিয়ে, এবং কানাডিয়ান মিউজিক সেন্টার তার ঐতিহাসিক পরিসর দিয়ে-একসাথে মিলে যে মুহূর্তটি তৈরি করলেন, সেটি নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শেষ পর্যন্ত এসে মনে হয়—
কিছু আয়োজন থাকে, যা শেষ হয়ে যায়।
আর কিছু আয়োজন থাকে, যা শেষ হওয়ার পরও আমাদের ভেতরে চলতে থাকে।
এই সন্ধ্যা—ঠিক তেমনই একটি।

 

ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন
ছবি: খবরের কাগজ

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পরভো (Porvoo) শহর। এই শহরে এসে মনে হলো যেন কয়েক শতাব্দী পেছনে চলে গেছি।

আধুনিক ফিনল্যান্ডের ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনস্থল এই শহর। দেশটির দ্বিতীয় প্রাচীনতম শহর হিসেবে পরিচিত পরভো শুধু ফিনল্যান্ডেরই নয়, পুরো নর্ডিক অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

সম্প্রতি শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। শহরে প্রবেশের পরই চোখে পড়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত লাল রঙের কাঠের গুদামঘরগুলো। কয়েকশ বছর আগে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এসব ভবন আজ পোরভোর পরিচয় বহন করছে। পর্যটকদের ক্যামেরায় সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে এই দৃশ্য।

পনরভোর পুরনো শহর বা ‘ওল্ড টাউন’-এ হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো যেন কোনো রূপকথার শহরে প্রবেশ করেছি। সরু পাথরের রাস্তা, শত শত বছরের পুরনো কাঠের বাড়ি, ছোট ছোট ক্যাফে, শিল্পকর্মের দোকান এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য পুরো এলাকাকে অন্যরকম সৌন্দর্য দিয়েছে। শহরের প্রতিটি গলি যেন ইতিহাসের এক একটি অধ্যায়।

শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পরভো ক্যাথেড্রাল। ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত এই গির্জাটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত গির্জার সামনে দাঁড়িয়ে পুরো শহর এবং নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখানে আসা পর্যটকদের অনেকেই কিছু সময় নীরবে বসে শহরের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করেন।

পরভো নদীর তীরও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গ্রীষ্মকালে নদীর পাশে হাঁটা, নৌভ্রমণ কিংবা খোলা আকাশের নিচে বসে কফি পান করার আনন্দই আলাদা। নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

শহরটি শুধু ইতিহাসের জন্য নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির জন্যও সুপরিচিত। বিখ্যাত ফিনিশ কবি জোহান লুডভিগ রুনেবার্গের স্মৃতি বহন করছে এই শহর। তার বাড়ি বর্তমানে জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আর্ট গ্যালারি ও হস্তশিল্পের দোকানে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।

পরভোর আরেকটি আকর্ষণ হলো এর ক্যাফে সংস্কৃতি। শহরের ছোট ছোট ক্যাফেগুলোতে স্থানীয় কফি, পেস্ট্রি ও ঐতিহ্যবাহী ফিনিশ খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পুরনো শহরের পরিবেশে বসে এক কাপ গরম কফি যেন ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তবে পরভোকে আলাদা করে মনে রাখার কারণ হলো এর প্রশান্ত পরিবেশ, ঐতিহাসিক আবহ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিখুঁত সমন্বয়। যারা ভ্রমণ ভালোবাসেন, বিশেষ করে ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য পরভো অবশ্যই একটি দর্শনীয় স্থান।

হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটের যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় এই শহরে। তাই ফিনল্যান্ডে আসা কোনো পর্যটকের ভ্রমণ তালিকায় পরভো থাকা উচিত। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ইউরোপের সৌন্দর্য অনুভব করতে চাইলে পরভো হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।

পরভো শুধু একটি শহর নয়, এটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

জামান সরকার/আমান

অস্ট্রেলিয়ার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিক্টোরিয়ার ওয়েরিবি ম্যাসনিক সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন- অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সভাপতি এ. এস. এম. তৌহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ হায়দার আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি ভিক্টোরিয়ার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরিফ খান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর শরীফ শিহান দোয়া সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ হাফেজ মাহমুদ যুগ্ম আহ্বায়ক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া।

আলোচনা সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ তেলাল খান পল, সদস্য মোঃ বদিউজ্জামান শিপন, সদস্য মোঃ রাশিদুল আমিন, সদস্য মোহাম্মদ সিমন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ভিক্টোরিয়া শাখার আহ্বায়ক মোঃ রহমত উল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া শাখার আহ্বায়ক আরিফ খান।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান, জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনে তার ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

এসএন/বিজ্ঞপ্তি

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ২ যুবক নিহত

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ২ যুবক নিহত
নিহত হারুন ও রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

‎সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার দুই প্রবাসী যুবক হারুন ও রাসেল নিহত হয়েছেন। তারা প্রতিবেশী ছিলেন।

‎সোমবার (১ জুন) দুর্ঘটনার খবর দেশে পৌঁছালে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন হারুন ও রাসেল। রবিবার (৩১ মে) রাতে তারা রাজধানী রিয়াদের একটি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি উটের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তারা মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

‎নিহত হারুনের বাবা তছলিম উদ্দীন ছৈয়াল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে বিদেশে গিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিল। আজ সে লাশ হয়ে ফিরবে এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

‎এলাকাবাসী জানান, হারুন ও রাসেল ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, প্রবাসী দুই যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনা ও আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

‎তিনি আরও জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পরিবারের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

রফিকুল ইসলাম/নাঈম

গ্রীষ্মকালের ফিনল্যান্ডে সেরা গন্তব্য স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
গ্রীষ্মকালের ফিনল্যান্ডে সেরা গন্তব্য স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ও তুষারাচ্ছন্ন শীতের পর যখন ফিনল্যান্ডে গ্রীষ্মের আগমন ঘটে, নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় পুরো দেশ। রাতের অন্ধকার সরে গিয়ে দিনের আলো দীর্ঘ হয়, প্রকৃতি সেজে ওঠে সবুজে, আর ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যায় দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।

এ সময় রাজধানী হেলসিংকির উপকূলে অবস্থিত স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ হয়ে ওঠে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ইতিহাস, প্রকৃতি, স্থাপত্য ও সমুদ্রের এক অনন্য সমন্বয় এই স্যোমেনলিন্না। এটি শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং ফিনল্যান্ডের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী।

তিন শতাব্দীর ইতিহাসের ধারক

স্যোমেনলিন্না দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৭৪৮ সালে, যখন ফিনল্যান্ড ছিল সুইডেনের অংশ। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির মোকাবিলায় বাল্টিক সাগর উপকূল রক্ষার উদ্দেশ্যে এই বিশাল সমুদ্র দুর্গ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় দুর্গটির নাম ছিল “Sveaborg”।

সুইডিশ সামরিক প্রকৌশলী অগাস্টিন এরেন্সভার্ডের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা এই দুর্গে নির্মিত হয় শক্তিশালী প্রাচীর, কামান ঘাঁটি, সামরিক ব্যারাক, গুদামঘর এবং গোপন টানেল। ১৮০৮ সালে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার অধীনে গেলে দুর্গটিও রুশ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন সামরিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এর কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ১৯৭৩ সালে দুর্গটি সামরিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং ১৯৯১ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ছয় দ্বীপের অপূর্ব সমাহার

স্যোমেনলিন্না মূলত ছয়টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি বিস্তীর্ণ দুর্গ এলাকা। প্রায় ৮০০ বাসিন্দা এখনও এখানে বসবাস করেন। দ্বীপজুড়ে রয়েছে শত শত ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন কামান, সুড়ঙ্গপথ, পাথরের দেয়াল এবং সমুদ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এখানে হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে যেন ইতিহাসের কোনো অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। একদিকে শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপত্য, অন্যদিকে নীল সমুদ্র ও সবুজ প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

প্রতি বছর লাখো পর্যটকের পদচারণা

স্যোমেনলিন্না ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর অন্যতম। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী এখানে আসেন। গ্রীষ্মকালে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ছাড়াও জার্মানি, সুইডেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন থেকে হাজার হাজার পর্যটক এই দ্বীপে ভ্রমণ করেন। কেউ ইতিহাস জানতে, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে, আবার কেউ ছবি তুলতে আসেন।

দেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান

স্যোমেনলিন্না মিউজিয়াম

এখানে দুর্গের প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা দুর্গের ইতিহাস জানতে পারেন।

কিংস গেট

দ্বীপের অন্যতম বিখ্যাত নিদর্শন। সুইডেনের রাজা অ্যাডলফ ফ্রেডরিকের আগমনের স্মরণে এটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে এটি পর্যটকদের ছবি তোলার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান।

সাবমেরিন ভেসিক্কো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ফিনল্যান্ডের ঐতিহাসিক সাবমেরিন। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।

বাষ্টিয়ন জ্যান্ডার

খোলা আকাশের নিচে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মঞ্চ, যেখানে গ্রীষ্মকালে নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

গোপন টানেল ও কামানঘাঁটি

দুর্গের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা এসব স্থাপনা যুদ্ধকালীন কৌশল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাক্ষ্য বহন করে।

গ্রীষ্মকালীন উৎসবের প্রাণকেন্দ্র

গ্রীষ্মকালে স্যোমেনলিন্না প্রাণ ফিরে পায় নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। এখানে অনুষ্ঠিত হয়-

• উন্মুক্ত নাট্য মঞ্চ
• লাইভ কনসার্ট ও জ্যাজ অনুষ্ঠান
• শিল্প ও ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী
• শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
• স্থানীয় হস্তশিল্প মেলা

যেভাবে যাবেন

হেলসিংকির কেন্দ্রস্থল Kauppatori (Market Square) থেকে নিয়মিত ফেরি সেবা পরিচালিত হয়। যাত্রা সময় মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট। একই HSL পরিবহন টিকিট ব্যবহার করেই ফেরিতে ভ্রমণ করা যায়।

ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ

• আরামদায়ক জুতা পরুন
• একটি পুরো দিন হাতে রাখুন
• আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক সঙ্গে রাখুন
• ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না
• গাইডেড ট্যুরে অংশ নিলে অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে

স্যোমেনলিন্না শুধু একটি দুর্গ নয়, এটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে সমুদ্রের গর্জন, শতাব্দীপ্রাচীন প্রাচীর এবং প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য একসঙ্গে মিলে তৈরি করেছে এক অনন্য পরিবেশ।

আমান/

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির আলোচনা সভা

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির আলোচনা সভা
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টায় ভানতার Subway Martinlaakso, Kivivuorentie 4, 01620 Vantaa, Finland-এ এ অনুষ্ঠান হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দূরদর্শী নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। 

একই সঙ্গে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (৩০ মে) ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি এবং সাধারণ সম্পাদক জামান সরকার এক যৌথ বিবৃতিতে ফিনল্যান্ডে বসবাসরত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ফিনল্যান্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মবিন মোহাম্মদ, সহসভাপতি তাপস খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুল গাজী ও মো. রবিউল ইসলাম।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রবাসে জাতীয়তাবাদী চেতনা আরও সুদৃঢ় করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফিনল্যান্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানটি সফল করার লক্ষ্যে সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

অমিয়/