যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জর্জিয়া শাখার নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নতুন কমিটি গঠনসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,‘‘আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন এবং সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক তাদের ওপর অর্পিত পদের অপব্যবহার করছেন। তারা দলের বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে লিপ্ত হয়েছেন। প্রবাসে দলকে সুসংগঠিত করার পরিবর্তে তারা বর্তমানে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সরাসরি লিপ্ত রয়েছেন। অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যদের পদায়ন এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে তারা জর্জিয়া বিএনপিকে একটি গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে বহাল রাখা দলের ভাবমূর্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। তাই দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জর্জিয়া বিএনপিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আমরা অবিলম্বে আনোয়ার হোসেন খোকন এবং সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদত্যাগ ও বহিষ্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
জর্জিয়া বিএনপিকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে প্রবাসে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে, দলের পরীক্ষিত ও একনিষ্ঠ কর্মীদের পক্ষ থেকে আজ আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি ও প্রস্তাবনা দলের হাইকমান্ড ও আপনাদের সামনে তুলে ধরছি:
১। জর্জিয়ায় অবিলম্বে বিএনপির নতুন কমিটি দিতে হবে।
২। কমিটি অবশ্যই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হতে হবে।
৩। যারা দীর্ঘ ৩০/৪০ বছর যাবৎ বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী ও সংগঠক, তাদেরকে দলে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
৪। কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছা ও অর্থপ্রাপ্তির মাধ্যমে জর্জিয়া বিএনপিকে ‘এল এল সি’ (LLC) বা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করতে দেওয়া হবে না।
৫। বিদেশে দলের কর্মক্ষমতা বাড়াতে অযোগ্য লোকদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
৬। দলকে পুনর্গঠিত করার মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
৭। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের দল থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।
৮। বিএনপির বিতর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন-সহ, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদককে তাদের পদ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।
১। কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি বিএনপিতে থাকতে পারবে না। জর্জিয়া বিএনপিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার দৃঢ় অঙ্গীকার।
১০। তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দেশের বাইরের সমস্ত কমিটি ভুল লোকদের থাবা থেকে মুক্ত রেখে, নিরপেক্ষ ব্যক্তিবর্গের দ্বারা কমিটি গঠন করার জোর আহ্বান।
১১। কমিটির মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ার পরও নতুন কমিটি তৈরিতে যে স্বেচ্ছাচারিতা এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রয়াস চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
১২। নতুন কমিটি গঠনে তালবাহানা, এবং নিজেদের পছন্দের অযোগ্য লোকদের নেতা বানানোর অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
১৩। অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য, অগ্রহণযোগ্য এবং চিহ্নিত লোকদের দলীয় পদ-পদবি প্রদান কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।
১৪। বারবার কমিটি গঠন নিয়ে প্রহসন, স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’’