ভারতীয় বাঙালি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। একসময় বলিউডে ছিল তার দাপট। অভিনয়ে মুগ্ধ করেছেন ভারতীয় উপমহাদেশের দর্শকদের। গত মঙ্গলবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ছিল ৭০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। আর এই অনুষ্ঠানে সেরা অভিনয়শিল্পীদের হাতে পুরস্কারের স্মারক তুলে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
ওই অনুষ্ঠানেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে গ্রহণ করেন খ্যাতিমান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মিঠুন এদিন বাঙালির পোশাক ধুতি-পাঞ্জাবি পরে উপস্থিত হয়েছিলেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর মিঠুন বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে যখন এলাম, লোকে বলত, এখানে তোমার কী? রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় লোকে কালিয়া বলে ব্যঙ্গ করত। আমি ভাবতাম, কী করব? ভগবানকে বলতাম, কী করব? গায়ের রং তো পাল্টাতে পারব না! তখন ভাবলাম, আমি তো নাচতে পারি। এমনভাবে নাচব, যাতে লোকে আর গায়ের রঙের দিকে তাকানোর সময় না পায়। সেই থেকে পা থামতে দিইনি। লোকে তখন আমার গায়ের রঙের কথা ভুলে গেল। আমি হয়ে গেলাম সেক্সি, ডাস্কি বাঙালি বাবু।’
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শর্মিলা ঠাকুর, মণি রত্নম, মনোজ বাজপেয়ি, এ আর রহমান, প্রীতম, ঋষভ শেঠিসহ ভারতের চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় ও খ্যাতিমান তারকারা। মিঠুন চক্রবর্তী তিনবার পেয়েছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। এদিকে কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক এ আর রহমান সপ্তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এই পুরস্কার হাতে পাওয়ার বিষয়টিকে প্রাপ্তির বৃত্ত পূর্ণ করার সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। এই পুরস্কার এ আর রহমানে লাকি সেভেন।
২০২২ সালে ভারতে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র থেকে সেরা কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এদিন। এতে অস্কারজয়ী এ আর রহমানকে ‘সেরা সংগীত’ বা ‘ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর’ বিভাগে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
মনি রত্নমের ‘পোন্নিয়িন সেলভান-১’ সিনেমার জন্য এই পুরস্কার হাতে পান ভারতীয় এই সংগীত তারকা। আবহ সংগীতের জন্য এ আর রহমানের এটি দ্বিতীয় জাতীয় প্রাপ্তি।
পুরস্কার গ্রহণের পর এ আর রহমান বলেন, “এটা যেন প্রাপ্তির বৃত্ত পূর্ণ করা। আমি প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলাম ‘রোজা’র জন্য, যা বানিয়েছিলেন মনি রত্নম। এই পুরস্কারও তার জন্যই পাওয়া। আমি খুবই গর্ববোধ করছি। তিনি নিজেও এখানে আছেন।”
এ ছাড়া ৭০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অন্য বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ঋষভ শেঠি (সেরা অভিনেতা), নিত্য মেনন এবং মানসি পারেখ (সেরা অভিনেত্রী), সুরজ বরজাতিয়া (সেরা পরিচালক), নীনা গুপ্তা (সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী) এবং পবন মালহোত্রা (সেরা পার্শ্ব অভিনেতা)। ঋষভ শেট্টি তার ‘কান্তারা’ ছবির জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন, যেখানে নিত্য এবং মানসি ‘তিরুচিত্রাম্বালম’ এবং ‘কচ্ছ এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রে তাদের পারফরম্যান্সের জন্য যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছেন। নীনা গুপ্তা ‘উঁচাই’ ছবির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন, যা সুরজ বরজাতিয়াকে সেরা পরিচালকের সম্মানও এনে দিয়েছে। পবন মালহোত্রা ‘ফৌজি’ ছবির জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন।
জাহ্নবী