শাকিব খান ও কলকাতার ইধিকা পাল অভিনীত ব্যবসাসফল সিনেমা ‘বরবাদ’। গত ঈদুল ফিতরে দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্স মিলিয়ে ১২৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটি। এরপর দেশের বাইরেও ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়। সে সময় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে দেশের বেশির ভাগ প্রেক্ষাগৃহে দর্শক চাহিদার শীর্ষে ছিল ছবিটি।
ব্যবসায়িকভাবেও মোটা অঙ্কের টাকা আয় করেছে শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমাটি। প্রতিষ্ঠান দাবি করেছিল তাদের ফেসবুক পোস্টে, মুক্তির সাত দিনে ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে ‘বরবাদ’ ছবির।
সিনেমার প্রযোজক শাহরিন আক্তার বলেছিলেন, ‘নিঃসন্দেহে সাত দিনে এই পরিমাণ টাকার টিকিট বিক্রি করাটা চাট্টিখানি কথা নয়। টিকিটের চাহিদা বুঝিয়ে দিচ্ছে ‘বরবাদ’ কোন লেভেলের সিনেমা হয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোন অবস্থানে আছে ছবিটি। আমরা যা বুঝতেছি, কোরবানির ঈদ পর্যন্ত এভাবে চলতেই থাকবে।
দেশের হলমালিকরা আমাকে যা বলেছেন এবং এখন যেভাবে ছবিটি চলছে- দুই মাস এভাবে চলতে থাকলে টিকিট বিক্রিতে ১০০ কোটির ঘরে নাম লেখাব আমরা। আমরাও আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রির এই হিসাবটা সবাইকে জানাব।’
এত এত ব্যবসায়িক সফলতার ডামাডোলের ভেতরে সিনেমার নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক মেরে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল। তবে ‘বরবাদ’ সিনেমায় তিনি অভিনয় না করলেও ইধিকা পালের কিছু অংশের ডাবিং করেছেন। এই ডাবিংয়ের পারিশ্রমিক দেননি মেহেদী হাসান হৃদয়। বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন দোয়েল নিজেই।
এ সম্পর্কে দিলরুরা দোয়েল বলেন, ‘আমি ডাবিং করেছিলাম পয়সা পাইনি। আমাকে হৃদয় ভাই তার সহকারীকে দিয়ে ফোন করিয়ে বলেছিলেন ইমার্জেন্সি ইধিকা পালের চরিত্রের ডাবিংটা একটু করে দিতে হবে। না হলে তারা নাকি সেন্সর করাতে পারছিলেন না। আমি বলছিলাম স্পট পেমেন্ট করতে।
ফারুকী ভাই আগে যে বিল্ডিংয়ে ছিলেন ওইখানের একটা ফ্লোরের স্টুডিওতে গিয়ে আমি ডাবিংটা করে দিয়েছিলাম। ডাবিং করার পর আমি সেভারেল টাইম ফোন করেছি আমার ফোন ধরেননি। হৃদয় ভাইয়ের আরেকজন সহকারীকে আমি ফোন করেছি কোনোভাবে রেসপন্স করেছি। শুধু বলতেন দেব, দিচ্ছি আপু কেন এমন করছেন। আমার কাছে টাকাটা বড় কথা ছিল না কিন্তু ওদের ব্যবহার একদমই ঠিকঠাক ছিল না।’
দোয়েল আরও বলেন, ‘আমিতো আর হৃদয় ভাইয়ের এডির কথায় ওখানে যাইনি। এডির ফোনও আমি ধরছিলাম না। আমাকে হৃদয় ভাই ফোন করে এডির কথা বলে দিয়েছিলেন। তারপরেই কাজটা করেছি। কাজ করার পর হৃদয় ভাইকেও ফোন করেছি, তিনিও কোনো রেসপন্স করেননি। টাকাটা কোনো ইস্যু না কিন্তু প্রেস্টিজটা তো থাকল না। উনারা এত বড় ছবি বানায়, এত গলাবাজি করে, তাহলে উনারাই অভিনয়, নির্মাণ ডাবিং সবকিছু করুক। আমাদের দরকার কি?
সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে হৃদয়ের এডিরা এমন আচরণ করেছেন মনে হয় ওরা একেকজন হলিউড থেকে আসছে। এরাই নাকি আবার বাজার লিড করছে। আমার আসলে হাসি পায়। উনারা যেহেতু বড় ডিরেক্টর নিজেকে ভাবছে, ২০-২৫ কোটি টাকা দিয়ে সিনেমা বানাচ্ছে- কিন্তু উনারা দেশের শিল্পীদের পয়সা দিতে পারবে না। আবার রাত ১২টায় ফোন করে বলতে পারবে তাদের কাজটা করে দিতেই হবে।
হৃদয়ের সঙ্গে আমি একটা নাটকে কাজ করেছি। সেখান থেকেই ওর সঙ্গে আমার পরিচয়। হৃদয় আমাকে বলত ‘আমি একটা ঝামেলায় পড়ছি দোয়েল তোকে কোনো পয়সা দিতে পারব না’ তাতে কোনো সমস্যা ছিল না। আমি টাকা চাইতামও না। আমি এমনিতেই কাজটা করে দিতাম। কিন্তু টাকা দেওয়ার কথা বলে কাজ করিয়ে টাকা দেবে না এটাতো হয় না। হৃদয় একটিবার ফোনটাও ধরল না, আমার সঙ্গে ওর এডিরা খারাপ আচরণ করল এটাতো খুবই অসম্মানের।’
এ সম্পর্কে জানতে নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় বলেন, ‘সিনেমার যে ফিন্যানসিয়াল বিষয় থাকে সেগুলো ডিরেক্টর আসলে হ্যান্ডেল করে না। সিনেমা যে এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার থাকেন তিনিই বিষয়গুলো দেখেন। এটা আমি আসলে প্রথমবারের মতো শুনলাম। আমি জানতামই না যে, এই রকম একটা আর্টিস্টের পেমেন্ট আটকে আছে।
আর উনি যদি আমাকে ফোন দিয়ে থাকেন, আসলে অনেক সময় অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসলে ধরা হয় না। উনার নাম্বার আমার কাছে নাই। হয়তো ব্যস্ততার জন্য ফোন ধরা হয়নি। উনি যদি একটা টেক্সট করে রাখতেন তাহলে হয়তো কথা বলতাম। আর উনার সঙ্গে আমি কনটাক্ট করিনি।’
পরবর্তীতে হৃদয় তার এডিদের সঙ্গে কথা বলে জানান, এই অভিনেত্রীর সঙ্গে স্টুডিওর অনিক ডাবিংয়ের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। তার পক্ষ থেকে কোনো রকম যোগাযোগ করা হয়নি।
নির্মাতা আরও বলেন, ‘ওই ভদ্রমহিলার সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা হয়নি। আর এই সিনেমায় আমার এডি ছিল বাংলাদেশ থেকে আজাদ ভাই। আর বাকি এডিরা সবাই ইন্ডিয়ান। আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। উনার সঙ্গে আমার একটা নাটকে কাজ হয়েছিল সেটার পেমেন্ট আমি দিয়ে দিয়েছি। এই কাজে আমার সঙ্গে উনার কোনো ডিল এবং যোগাযোগ হয়নি।’
উল্লেখ্য, এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, মিশা সওদাগর, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, ইন্তেখাব দিনার, যীশু সেনগুপ্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ। এ ছাড়া আইটেম গানে পারফর্ম করেছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত জাহান।
/এমএস