জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী আমান্ডা সেইফ্রিড। চরিত্রের প্রয়োজনে এর আগেও নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়তে দেখা গেছে তাকে। অস্কার মনোনীত এই অভিনেত্রী আবারও প্রমাণ করলেন, চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (টিআইএফএফ) ঐতিহাসিক মিউজিক্যাল সিনেমা ‘দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি’-এর প্রিমিয়ারে তিনি জানান, এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাকে কি কি করতে হয়েছে! শেকার্স ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান লি’-এর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বোটক্স এবং মেকআপ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করেছেন আমান্ডা।
উৎসবের রেড কার্পেটে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি একজন অভিনেত্রী, আর এটাই আমার কাজ। আমার জীবনে এসবের (বোটক্স-মেকআপ) কোনো প্রয়োজন নেই। আমি যা ভালোবাসি, তার জন্য স্বেচ্ছায় কিছুটা ত্যাগ স্বীকার তো করতেই পারি। অভিনয়ের জন্য ত্যাগ করেছি কিন্তু শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল আমার জন্য ভীষণ আনন্দময়। এই সিনেমায় কাজ করে অভিনয়ে অনেক উন্নতিও করেছি।’
‘দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি’-এর অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গটি নিয়ে আমান্ডা এর আগেও কথা বলেছেন। গত বছরের আগস্টে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরিচালক মোনা ফাস্টভোল্ডের কড়া মেকআপ মুক্ত নীতি মেনে তিনি এক বছরের জন্য বোটক্স ব্যবহার করেননি। সেইফ্রিড তখন বলেছিলেন, ‘প্রথমবার বোটক্স নেওয়ার পর ভেবেছিলাম অসাধারণ। কিন্তু যখন সেটা নেওয়া বন্ধ করে দিই, তখনই বুঝলাম আমার স্বাভাবিক অভিব্যক্তিই আসলে অভিনয়ের জন্য সবচেয়ে দরকারি।’
ছবিটি ইতোমধ্যেই দর্শক-সমালোচকদের থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে দর্শকরা ‘দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি’ দেখার পর দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ১৫ মিনিট ধরে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন যা চলতি বছরের চলচ্চিত্র উৎসবে একটি রেকর্ড। সেই সময় আবেগাপ্লুত হয়ে সেইফ্রিড সিনেমার সহকর্মী ও পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার মোনা ফাস্টভোল্ডও ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা আমান্ডা সেইফ্রিডকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অ্যান লি’-এর চরিত্রে আমান্ডা নিখুঁত ছিলেন। তিনি দয়া, ভদ্রতা, কোমলতা- সবকিছুই চরিত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি একজন অসাধারণ অভিনেত্রী।’
‘দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি’ ১৮ শতকের শেষের দিকে শেকার্স সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান লির জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি মিউজিক্যাল সিনেমা।
/এমএস