ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে? লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান বরিশাল বিভাগ এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশর দিনব্যাপী নৌ-বিহার

৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

শুক্রবার (৫ জুন) দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক-এ ভূষিত কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ, ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা এবং রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে যে কয়েকজন শিল্পীর নাম চিরকাল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হবে, তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খান। তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম প্রধান স্থপতি।

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। কৈশোর থেকেই খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সংগীতচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের একজন সম্মুখসমরের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসে তিনি হাতে তুলে নেন গিটার। নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন ভাষা, নতুন সুর এবং নতুন সাংস্কৃতিক চেতনার সূচনা করেন তিনি। সত্তরের দশকের শুরুতে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’-তে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁর সংগীতযাত্রা শুরু হয়। 

পরবর্তীতে তিনি গঠন করেন কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

যে সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে অনেকেই ‘অপসংস্কৃতি’ বলে আখ্যায়িত করতেন, সেই সময় আজম খান এবং উচ্চারণ সাহসিকতার সঙ্গে বাংলা ভাষায় রক, পপ এবং ফোক উপাদানের সমন্বয়ে নতুন ধারার সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনা শুধু জনপ্রিয়তাই পায়নি, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে জাতীয় সংস্কৃতির মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উচ্চারণ এবং আজম খানের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে— হৃদয় সাগর মরুভূমি, বাংলাদেশ, মা গো মা, সালেকা মালেকা, আলাল ও দুলাল, প্রেম চিরদিন দূরে দূরে, অভিমানী, পাপড়ি, জীবন সাথী, চুপ চুপ চুপ, হায় আল্লাহ, আসি আসি, জীবনে কিছু পাবো না প্রভৃতি। এই গানগুলোর অনেকগুলোই আজ বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান ছিল অসামান্য। তিনি এমন এক সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, যখন এ ধারার সংগীতকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখতেন। তাঁর সাহসী পদক্ষেপ, ভিন্নধর্মী সংগীতচিন্তা এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলা গানগুলো তরুণ সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী সময়ে দেশের অসংখ্য ব্যান্ড গড়ে ওঠে এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীত আজকের মর্যাদায় পৌঁছায়।

সংগীতজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কিংবদন্তি ব্যান্ড সোলস-এর ২০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এ তাঁকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করে— একুশে পদক (২০১৯) এবং স্বাধীনতা পদক (২০২৫)।

তবে আজম খান নিজে পুরস্কার ও সম্মাননার চেয়ে মানুষের ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দিতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন— “আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার আমার গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।”

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু কেবল শারীরিক প্রস্থান; তাঁর গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজও বেঁচে আছে লাখো মানুষের হৃদয়ে।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বিভিন্ন সময়ের লাইন-আপ 

১৯৭২ সালে উচ্চারণের প্রথম লাইন-আপে লিড ভোকালে ছিলেন আজম খান, লিড গিটারে ইশতিয়াক রহমান, বেজ গিটারে ল্যারি, রিদম গিটারে নীলু, ড্রামসে ইদু, কঙ্গায় হাবলু এবং সাইড ভোকালে ছিলেন বাবু। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের প্রথম দিককার পরীক্ষামূলক ও সাহসী যাত্রাগুলোর অন্যতম ছিল এই লাইন-আপ।
১৯৭৬ সালে উচ্চারণ পুনর্গঠিত হলে আজম খানের সঙ্গে যুক্ত হন লিড গিটারিস্ট নয়ন হক মুন্সী, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা, বেজ গিটারে ফুয়াদ নাসের, কঙ্গায় কাজল এবং ড্রামসে পেয়ারু খান। এই লাইন-আপের সময়েই ‘আলাল ও দুলাল’-এর মতো গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং উচ্চারণ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডে পরিণত হয়।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

আশির দশকে উচ্চারণের সংগীতায়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করেন রকেট। এ সময় আজম খানের সঙ্গে লিড গিটারে রকেট, বেজ গিটারে মাসুম হায়দার, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা এবং ড্রামসে বাবু নিয়মিত পারফর্ম করতেন। ‘অভিমানী’, ‘জীবন সাথী’ এবং ‘পাপড়ি’র মতো জনপ্রিয় গান এই সময়ে ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করে।
নব্বইয়ের দশক থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আজম খানের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধশতাধিক সংগীতশিল্পী কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রেবেল (ভোকাল), ইফরান (লিড গিটার), জুবরান (বেজ গিটার), তপু (ড্রামস) এবং আরও অনেক প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী, যারা বিভিন্ন সময়ে উচ্চারণের মঞ্চ ও রেকর্ডিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

উচ্চারণ ব্যান্ডের পুনর্গঠন ও বর্তমান কার্যক্রম

আজম খানের পরিবারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এবং তাঁর সৃজনকর্মের কপিরাইট ও রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কুল এক্সপোজার-এর উদ্যোগে, চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সহযোগিতায় কিংবদন্তি ব্যান্ড উচ্চারণ নতুনভাবে পুনর্গঠিত হয়ে আবারও নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে।

বর্তমানে উচ্চারণ ব্যান্ডের লাইন-আপে রয়েছেন দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কিবোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)।

ইতোমধ্যে উচ্চারণ অংশগ্রহণ করেছে টিএমএমএস-চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, চ্যানেল আই মিউজিক ফেস্ট, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত কনসার্ট, বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং দেশের নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। তাদের পরিবেশনা দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শক-শ্রোতার প্রশংসা অর্জন করেছে।

/এসএল

ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা পপগানের অন্যতম কিংবদন্তি ফেরদৌস ওয়াহিদের নতুন গান ‘মন বোঝে না’। গান জানালার ইউটিউব চ্যানেলে এর মিউজিক ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফেরদৌস ওয়াহিদের সঙ্গে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পী সাঈদা শম্পা। গানের কথা লিখেছেন প্রথিতযশা গীতিকবি গোলাম মোর্শেদ এবং সুর ও সংগীত করেছেন শহীদ মাহমুদ। মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন রুমকী রুসা ও মাশরুর হোসাইন। মডেল হয়েছেন খুশী ও রাহাত।
গানটি নিয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘‘প্রথমেই বলব বেশ ভালো একটি কাজ হয়েছে এটি। কারণ এর গীতিকার গোলাম মোর্শেদ অত্যন্ত গুণী একজন মানুষ। যার লেখা গান আমার খুব পছন্দের। এছাড়া আমার সহশিল্পী সাঈদা শম্পাও গানটি ভালো গেয়েছেন। সব মিলিয়ে শ্রোতাদের মনে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো একটি গান ‘মন বোঝে না’। আশা করছি, সবার ভালো লাগবে গানটি।’’
সাঈদা শম্পা বলেন, ‘আনন্দের বিষয় হচ্ছে, গানটিতে আমার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। তার সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গান গাওয়ার আনন্দই  আলাদা। এই  গানটি ওনার সঙ্গে গাওয়া আমার দ্বিতীয় গান। প্রথম গানটির মতো এই গানের বেলায়ও আমার মনে হয়েছে, আমি যেন ওনার সঙ্গে বহু বছর ধরে গান করছি। এমনই আন্তরিকতার সঙ্গে উনি নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন, ভয়েস নেওয়া এবং শুটিং করার সময়। আর গোলাম মোর্শেদ ভাইয়ের সুন্দর কথায় সুন্দর সুর এবং সংগীত করেছেন শহীদ মাহমুদ। গানটি করার সময় আমি যেভাবে উপভোগ করেছি, আশা করছি, শ্রোতারাও সে রকমভাবেই উপভোগ করবেন গানটি।’

নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। এই নায়িকার কথিত স্বামী হিসেবে মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন। প্রতারণা ও বিতর্কের নানা অভিযোগে নাটকীয় এক অভিযানে মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকায় একটি বাসায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ববির কথিত স্বামী মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঞ্চল্যকর অভিযানে শেষ পর্যন্ত বাথরুমের ফলস সিলিংয়ের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা মির্জা আবুল বাশার মামুনের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। পরে একটি মামলার বাদীকে সঙ্গে নিয়ে গুলশানের ওই বাসায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গুলশান থানার ওসি (অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বাসাটিতে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে বাসার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সন্দেহজনকভাবে বাথরুমের একটি ফলস সিলিং দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে তল্লাশি চালাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, তার বিরুদ্ধে চাকরি ও ডিলারশিপ দেওয়ার নামে প্রতারণা, গাড়ি ভাড়া নিয়ে আত্মসাৎসহ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও গত বছরের অক্টোবর মাসে একই ধরনের একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আরও জানা যায়, রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে।
এছাড়া তিনি বিটিএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি। আবারও তিনি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছেন। কারণ সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনায় আবারও নতুন করে সামনে এসেছে পরীমনির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। ২০২৪ সালের ২৫ জুন দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনকে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। সেখানে এই নায়িকা দাবি করেছিলেন, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। সাকলায়েনের চাকরি হারানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পরীমনি বলেছিলেন, ‘আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।’
দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে।’
সাকলায়েনকে ঘিরে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে পরীমনির মন্তব্য ছিল, ‘আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে। প্রেম-ভালোবাসা যাই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারও বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। তবে সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। সে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০৫ এএম
অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক
আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক ঘটালেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান মডেল ভিট তারকা অপ্সরা আলী। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফ্যাশন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর প্যারিস ফ্যাশন উইক এক্স ফ্যাশন রিপাবলিকে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক ঘটালেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান মডেল ভিট তারকা অপ্সরা আলী। ফ্যাশন জগতের অন্যতম কেন্দ্র ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মডেল ও ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান, যা তার ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক ও শিল্পসমৃদ্ধ ভেন্যু লা গ্যালারি বোরবোনে অনুষ্ঠিত এই ফ্যাশন শোতে ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও শিল্পচর্চার সমন্বয়ে এক বর্ণাঢ্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতা অপ্সরা আলীর জন্য ছিল একেবারেই নতুন ও অনন্য।
তিনি জানান, অনলাইনে আবেদন করার পর নির্বাচিত হয়ে তিনি এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পুরো অভিজ্ঞতাকে তিনি অত্যন্ত স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘সেখানে ফিল্ম ইভেন্ট, বড় বড় ফ্যাশন শো এবং বিভিন্ন ধরনের আয়োজন ছিল, যা আমার কাছে সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’

একজন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও জানান। বিভিন্ন দেশের মডেল ও ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও প্রসারিত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশে কিছুটা পরিচিতি থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় সুযোগের দিকে এগিয়ে নেবে বলে বিশ্বাস করেন।
শোয়ের জন্য প্রস্তুতির বিষয়ে অপ্সরা আলী জানান, তিনি বিশেষভাবে নিজের লুক, র‍্যাম্প ওয়াক ও উপস্থাপনার ওপর মনোযোগ দেন, যাতে তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও এলিগেন্টভাবে উপস্থাপন করা যায়। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও মানসিক অনুশীলন তাকে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে কাজ করতে সহায়তা করেছে।

প্যারিসের এই অভিজ্ঞতাকে তিনি চ্যালেঞ্জের চেয়ে বেশি ‘অ্যাডভেঞ্চারাস’ বলে বর্ণনা করেন। কানাডা থেকে স্বল্প সময়ে প্যারিসে গিয়ে শোতে অংশ নেওয়া, শুটিং সম্পন্ন করা, ভিন্ন আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা–সব মিলিয়ে এটি ছিল তার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি আরও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শো, চলচ্চিত্র এবং ফটোশুটে কাজ করতে আগ্রহী। পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে চান তিনি।

গানেই লিজার ব্যস্ততা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
গানেই লিজার ব্যস্ততা
সংগীতশিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজ । ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজার কণ্ঠে নতুন মৌলিক গান ‘তোমার রোদেলা আকাশে’ শিরোনামের একটি গান। নতুন এই গানে বেশ সাড়া পাচ্ছেন লিজা। ইতোমধ্যে সারা দেশে শিল্পীদের স্টেজ শোর ব্যস্ততা কমলেও অর্থাৎ স্টেজ শো কম হলেও লিজা তারপরও মাসজুড়ে কিছু না কিছু স্টেজ শোতে পারফর্ম করছেন। 

ইতোমধ্যে মাসের শুরুতে ঢাকায় একটি স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরাতেই একটি স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছেন তিনি। এছাড়া মাসের শেষপ্রান্তে চট্টগ্রামেও একটি স্টেজ শোতে সংগীত পরিবেশন করার কথা রয়েছে। স্টেজ শোয়ের বাইরে লিজা নিজের একমাত্র কন্যাকেই সময় দেন বেশি। মাঝে মধ্যে কোনো টিভি চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পেলে তবেই বাসা থেকে বের হন তিনি। তার সমসাময়িক অন্য শিল্পীরাও স্টেজ শো নিয়ে এই মুহূর্তে হতাশ। বলা যায় এই মুহূর্তে দেশে স্টেজ শো একেবারেই কম। তবে কেন একেবারেই কম, কেনই বা হচ্ছে না গ্রামেগঞ্জে শহরে তা শিল্পীদেরও অজানা। তবে এই মুহূর্তে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি যেমন ভালো নয়, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ভালো নয়। যে কারণে বিগত বছরগুলোর চেয়ে আনুপাতিক হারে স্টেজ শো একেবারেই কম। যে কারণে শিল্পীরা তাদের আগামী নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে অনেকেই বলছেন এই পরিস্থিতি শিগগিরই বদলে যাবে। আবার চাঙা হয়ে উঠবে আমাদের সংগীতাঙ্গন। গানে গানে মুখরিত হয়ে উঠবে শহর নগর বন্দর। 

লিজা বলেন, ‘এই মুহূর্তে স্টেজ শো খুবই কম। যে কটা হাতে আছে তা আগের তুলনায় অনেক কম। তারপরও চেষ্টা করছি আমার কাছে যেসব শোতে পারফর্ম করার প্রস্তাব আসে তা ব্যাটে বলে মিলে গেলে করার। কিন্তু শো-ই যদি কম থাকে তখন হিসাবনিকাশ কী-ই বা করব। তারপরও বিশ্বাস করি এই পরিস্থিতি দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে। আর তোমার রোদেলা আকাশে গানটির জন্য বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। সামনে আরও কিছু নতুন মৌলিক গান নিয়ে পরিকল্পনা চলছে। শিগগিরই ভিডিও নির্মাণ করা হবে।’ 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে লিজার সঙ্গে সেখানে টানা বেশ কয়েকটি শোয়ের জন্য। কিন্তু লিজা তার দুই বছরের বাচ্চাকেই আপাতত সময় দিতে চান। কারণ, জীবনের এই মুহূর্তটা তার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।