মানবদেহ ৪০° সে পর্যন্ত তাপমাত্রা কিছু সময়ের জন্য সহ্য করতে পারে। এর চেয়ে বেশি তাপে শরীর পুড়ে যায়। এটি বিভিন্নভাবে হতে পারে, যেমন-
পার্শিয়াল থিকনেস বার্ন: চামড়ার সবগুলো লেয়ার আক্রান্ত হয় না।
ফুল থিকনেস বার্ন: চামড়ার সবগুলো লেয়ার আক্রান্ত হয়।
পোড়ার লক্ষণসমূহ
ব্যথা: ত্বকের শুধু উপরিভাগ আক্রান্ত হলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তবে ত্বকে পোড়া বেশি হলে ব্যথা অনুভূত হয় না।
ব্লিস্টার বা ফোসকা পড়া: ত্বকের ওপর ব্লিস্টার বা ফোসকা দেখা যায় বা ত্বকের বেশি গভীরে পুড়ে গেলে আক্রান্ত স্থানের চারপাশ ফুলে উঠতে পারে।
শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান: চোখ, নাক, মুখ আক্রান্ত হতে পারে। তবে শ্বাসনালি আক্রান্ত হলে এর জটিলতা অনেক বেশি হয়।
পানিশূন্যতা: শরীরের প্রয়োজনীয় জলীয় পদার্থ বের হয়ে গেলে পানিশূন্যতা দেখা যেতে পারে। এমনকি আক্রান্ত শিশু রক্তচাপ কমে গিয়ে শক-এ চলে যেতে পারে।
কোমা: কখনো কখনো রোগীর স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে শিশু কোমায় যেতে পারে।
তাৎক্ষণিকভাবে করণীয়
আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আগুনের জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
দৌড়াদৌড়ি করা যাবে না, আগুন লাগলে সেটা কাপড় পেঁচিয়ে বা মাটিতে গড়িয়ে নিভানোর চেষ্টা করতে হবে।
পরনের কাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। তবে কোনো জায়গার কাপড় যদি পুড়ে গিয়ে গায়ের সঙ্গে লেগে যায়, সেটা টেনে উঠানো যাবে না।
আক্রান্ত জায়গায় প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালতে হবে।
ফোসকা পড়লে তার উপরের চামড়া তোলা যাবে না। ওই স্থান খোলা রাখতে হবে। এতে ক্ষতস্থান জলদি শুকিয়ে যাবে।
জটিলতাসমূহ
রক্তের চাপ কমে যাওয়া।
কিডনি বিকল হওয়া।
ফুসফুসে পানি জমে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
খাদ্যনালিতে ক্ষত।
ত্বকে পোড়ার স্থায়ী দাগ থেকে যাওয়া।
গিরাগুলো শক্ত হয়ে কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
লেখকের চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা
