ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মেয়েদের ভোট কার বাক্সে?

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ১০:২৫ এএম
মেয়েদের ভোট কার বাক্সে?
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

এই প্রতিবেদনটি যখন লিখছি তখন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা ভোট দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু ভোটের পরিস্থিতি ভালো করে দেখার আগেই আমাকে এই রিপোর্টটি পাঠাতে হচ্ছে। আগামীকাল যখন এটি খবরের কাগজে প্রকাশিত হবে, তার আগেই আপনারা ভোট দেওয়ার বিষয়টি আরও অনেকখানি জেনে যাবেন। আমি বরং সোমবার যাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি, তাদের কথাই বলি।

আমি সম্ভাব্য ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য গতকাল বিকেলে বের হয়েই দেখি কনকনে শীতল হাওয়ার ছুরি যেন দাঁত বের করে শান দিচ্ছে।
সত্তরের মতো বয়সী এক শ্বেতাঙ্গিনী, পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। বিনীতভাবে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলেন। তার নাম টেরিসা। গর্ভপাত ও নারীর অধিকারের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের কমলাই তার একমাত্র পছন্দ। অতীতে ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। 

নির্বাচনি লড়াইতে এখন পর্যন্ত অবস্থা প্রায় ৫০:৫০, অর্থাৎ ফিফটি-ফিফটি! তবে আশা করি কমলাই জিতবে, টেরিসা বললেন। এবারের নির্বাচনে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তিন ইস্যু হচ্ছে নারী অধিকার, অর্থনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা। 

এই ভদ্রমহিলা আমাকে পেরিয়ে যেতেই দেখলাম এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণীকে। এ দেশে আসার পর এই নির্বাচন কাভার করার কাজেই সাদা-ল্যাটিনো-আরব-দক্ষিণ এশীয়সহ যত জাতির মানুষকে প্রশ্ন করেছি, তারা সবাই উত্তর দিলেও কেন যেন আফ্রো-আমেরিকান বা কৃষ্ণাঙ্গদের কেউই কখনো মুখ খোলেননি, খোলাতে পারিনি। আজ একজন দক্ষিণ এশীয়ই জানালেন, এরা আমাদের বহু আগে থেকে এ দেশে বসবাস শুরু করলেও যেহেতু আমেরিকায় আজও কৃষ্ণাঙ্গরাই সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত জনগোষ্ঠী, তাই নিজেদের কম্যুনিটি ছাড়া বাইরের মানুষের কাছে তারা কম মুখ খোলেন। সব সময়ই তারা খুব ভয়ে থাকেন। 

যা-ই হোক, টেরিসার পরই নানা জাতিসত্তার বেশ কয়েকজন পথচারী আমার কথায় সাড়া না দিয়ে বা মাথা ঝাঁকিয়ে, হাল্কা হেসে চলে গেলেন।

তারপরই অনেকটা আমাদের মতো মিশ্র বর্ণের ছিপছিপে, মাঝারি উচ্চতার সম্ভবত এক আরব নারীকেই দেখা গেল। বয়স পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশের ভেতর হবে। তিনি অবশ্য কথা বলতে রাজি হলেন। শার্ট ও ট্রাউজারের সঙ্গে মাথায় হিজাব পরা, নাম কেরিমা। কেরিমা জানালেন তিনি মিসরের মেয়ে। গত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিলেও এবার গাজা গণহত্যার কারণে ভোট দিচ্ছেন গ্রিন পার্টিকে। 

কেরিমার সঙ্গে কথার পরপরই আলাপ হলো এমিলির সঙ্গে। তিনিও শ্বেতাঙ্গ। এমিলি জানালেন, নারীর গর্ভপাত প্রশ্নে ট্রাম্পের পুরুষতান্ত্রিক অবস্থান তিনি মানেন না। কাজেই ডেমোক্র্যাটদের ব্যালট বাক্সে ইতোমধ্যে তার ভোট তিনি পুরে দিয়েছেন। এমিলি পেশায় শিক্ষক। বোঝা গেল, চিরন্তন ব্লু স্টেট বা নীল প্রদেশ নিউইয়র্কের শিক্ষিত ও অগ্রসর চিন্তার নারীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। 

এদিকে গত শনিবারই যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হাজার হাজার নারী ‘আমরা ফিরে যাব না’ বাণীসংবলিত স্লোগান এবং ব্যানারসহ সমবেত হয়েছিলেন। অবশ্য শুধু ওয়াশিংটন ডিসি নয়, দেশজুড়েই এই পদযাত্রার আয়োজন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সচেতন নারীরা। 

ওয়াশিংটন ডিসিতে গত শনিবারের এই পদযাত্রায় বক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা হোয়াইট হাউস অভিমুখে যাত্রা শুরু করার আগে ফ্রিডম প্লাজায় অংশ নেন এবং সেখানে তারা বন্দুক-সন্ত্রাস থেকে গাজা যুদ্ধসহ নানা বিষয়েই কথা বলেন। 

‘এবারের নির্বাচন নিছক রাজনীতির বিষয় নয়। এটা আমাদের অস্তিত্বেরও বিষয়’, ২০১৯ সালে ফ্লোরিডার মার্জোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা আলায়াহ ইস্টমন্ড বলেন, ওই স্কুলে একজন বন্দুকধারী ঢুকে হুট করে ১৭ জন ছাত্র এবং স্কুল স্টাফকে হত্যা করেছিল। 

‘আক্ষরিক অর্থেই আমাদের জীবন এখন ব্যালট বাক্সের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে’ আলায়াহ বলেন। 

ফ্রিডম প্লাজায় সমবেত এই নারীরা’ বলেছেন হোয়াইট হাউসে একজন নারী যাতে আসীন হতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ভোট দিন। ‘আপনার মেয়ের জীবন এর ওপর নির্ভর করছে’ জাতীয় স্লোগানসংবলিত ব্যান্ড হাতে পরে তারা জড়ো হয়েছিলেন। এ ছাড়াও নারীর জন্য গর্ভপাতের অধিকারসহ নানা টি-শার্ট, মোজাও কিছু টেবিল থেকে বিতরণ করা হয়েছে। 

ওই পদযাত্রায় ৭০ বছরের মোনা ওয়েলস তার দুই বান্ধবীর সঙ্গে অংশ নেন এবং নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমি জানি না যে কীভাবে আমরা পেছনের দিকে হাঁটব। কেন হাঁটব। 

গ্লোরিয়া অলরেড নামে নারী অধিকারের নামি প্রবক্তা বলেন, কীভাবে কয়েক দশক আগে ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হওয়ার পর এক হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে গর্ভপাত করাতে গিয়ে তিনি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মুখে পড়েন। সে সময় একজন তরুণী, একক মা এবং শিক্ষক হিসেবে অলরেড জানতে পারেন, কোনো নারীকে গর্ভপাতে সাহায্য করাটা ডাক্তারদের জন্য বেআইনি ছিল। গর্ভপাতের পর ১০৬ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে থাকার সময় এক সেবিকা তাকে বলেছিলেন, ‘গ্লোরিয়া, আশা করি তুমি একটি শিক্ষা পেয়েছ।’ 

‘হ্যাঁ আমি যে শিক্ষা পেয়েছি সেটা হলো গর্ভপাতকে নিরাপদ, আইনসম্মত এবং সবার জন্য অভিগম্য করতে হবে’, অলরেড বলেন অপেক্ষমাণ জনতাকে। 

তিনি ‘আপনারা কি মনে করেন ট্রাম্প নারীদের রক্ষা করবেন?’ 

‘না,’ নারীরা সমবেত কণ্ঠে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথাটা উচ্চারণ করেছেন। 

বক্তৃতা শেষে এই সমাবেশটি ‘নারীর অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করি’ এবং ‘নারীর অধিকার মানবাধিকার’, স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে হোয়াইট হাউসের উদ্দেশে রওনা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/

জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাঙালি মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ঠেলে পাঠানো ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বাংলাদশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এতে করে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) আটকা পড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পহেলা জুন থেকে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঠেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে বিজেপি সরকারের "ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট" নীতির আওতায় শত শত “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে” আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে "ফিরে যেতে" বাধ্য করা হয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাকশী গাঙ্গুলী বলেন, "মৌলিক মানবাধিকারকে উপেক্ষা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্মমভাবে পরিবারগুলোকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে"।

তিনি আরও বলেন যে ভারত সরকারের উচিত এই জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করা, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা ও মুসলমানদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, তারা এমন নয়জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে লোকজনকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের বেড়ার কাটা অংশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি প্রবেশে বাধা দিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের আবার ফিরিয়ে নেয়।

এসএন/