রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় বিশ্বব্যাপী কূটনীতি এবং নিরাপত্তা নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসারে, তার বিদেশ নীতির মূল লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এবং বিদেশি সংঘাতে কম যুক্ত হওয়া। তবে তার বিজয় ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীনে কেমন প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
ইউক্রেন, রাশিয়া ও ন্যাটো:
নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রচারণায় ট্রাম্প বার বার জানান, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একদিনে শেষ করতে পারবেন। তবে কিভাবে তা করবেন তা স্পষ্টভাবে জানাননি তিনি।
ধারণা করা যায়, তিনি ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে এক ধরনের চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারেন। যেখানে ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ দেরিতে নেওয়া হবে।
তবে ট্রাম্পের ন্যাটো সম্পর্কিত অবস্থানও এক ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ে অবদান রাখতে চাপ দিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্য:
২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসেন তখন ইরান ও ইসরায়েলের প্রতি তৎকালীন প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান ছিল। যা বর্তমান গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ নীতি’ অনুযায়ী, তিনি আবারও ইরানকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসতে পারেন এবং ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থন বজায় রাখতে পারেন।
চীন:
চীনের প্রতি ট্রাম্পের কঠোর মনোভাব ছিল এবং তার প্রশাসন চীনা পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করেছিল।
চীনকে মোকাবিলা করতে বাণিজ্য এবং সামরিক দিক থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প নিশ্চিতভাবে চীনের সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষ এড়াতে চাপ প্রয়োগ করতে চান। তবে তার দুঃসাহসী মনোভাব বা একরোখা আচরণ চীনের নেতারা ভালো চোখে দেখবেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এক অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীনের দিকে নতুন পথে পরিচালিত হতে পারে। যা বিশ্ব কূটনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে। সূত্র: বিবিসি
তাওফিক/পপি/অমিয়/