যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার অনুমতি দেওয়ার প্রেক্ষিতে পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এই নীতি অনুমোদনের ফলে আক্রমণের বিরুদ্ধে পাল্টা পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা বেড়েছে।
এই পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া দাবি করেছে যে, ইউক্রেনের আক্রমণে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকা থাকে, তবে সেটি পশ্চিমাদের আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পুতিন এই সংশোধনী নীতিতে স্বাক্ষর করে বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর যেকোনো দেশ যদি রাশিয়ার ওপর হামলা চালায়, তা হলে মস্কো তার কঠোর জবাব দেবে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর ১০০০তম দিন উপলক্ষে এই সংশোধিত পারমাণবিক প্রতিরোধনীতি অনুমোদন করেন পুতিন।
এরই মধ্যে ১৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত এটিএসিএমএস মিসাইল ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আঘাত করেছে ইউক্রেন। যা যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের ফলে সম্ভব হয়েছে।
রাশিয়ার নতুন পারমাণবিকনীতি অনুযায়ী, যদি কোনো দেশ রাশিয়া বা তার মিত্র বেলারুশের সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে ভাঙতে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে রাশিয়াও পাল্টা হামলা চালাবে- যা পারমাণবিক হামলাও হতে পারে।
এর আগে রাশিয়ার পারমাণবিকনীতিতে শুধু পারমাণবিক আক্রমণ বা অস্তিত্বের জন্য হুমকি থাকাসাপেক্ষে হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আঘাত করার অনুমতি দেওয়া পশ্চিমাদের একটি নতুন কৌশল। তবে রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই নীতিমালা রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি কঠোর হুঁশিয়ারি। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/অমিয়/