মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ও তার তার দলের কর্মকর্তারা পরিকল্পনা করছেন আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পরপরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ট্রাম্প তার গত মেয়াদে থাকাকালীন ২০২০ সালেই ষোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বের করে নেবেন। দি ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ এর ২০ জানুয়ারিতে ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের দিনই এই ঘোষণা আসতে পারে।
প্রতিবেদন বলছে, এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মোট বাজেটের ১৬ শতাংশ বহন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক এ বেরিয়ে যাওয়া সংস্থাটির অর্থ যোগান, ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব বিশেষ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কেন যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাচ্ছে?
ট্রাম্প ২০২০ সালে অভিযোগ করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক অর্থায়ন থাকা স্বত্বেও চীন সংস্থাটিতে ব্যাপক প্রভাব রাখছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বলেছিল, ‘দুর্ভাগ্যবশত কোভিড-১৯ সহ গত কয়েক দশকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চীনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংস্থাটি প্রয়োজনীয় সংস্কার পদক্ষেপ নিতে পারে নি।’
২০২০ এর নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভ করতে না পারায় তার এ পরিকল্পনা সফল হয়নি। বরং ২০২১ সালে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছেন।
ইউরোপের দেশগুলো কি যুক্তরাষ্ট্রের শূন্যতা পূরণ করতে পারবে?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেলে যে অর্থ ঘাটতি হবে তা ইউরোপের দেশগুলোর পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হবে না।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য আইন বিষয়ক অধ্যাপক লরেন্স গসটিন রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি সংস্থাটির অর্থ যোগান ও নেতৃত্বে বড় শূন্যতা তৈরি করবে। আমি এমন কাউকে দেখছি না যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থান পূরণ করবে।’ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে গসটিন যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
জো বাইডেনের সাবেক কোভিড বিষয়ক সমন্বয়কারী আশিস জা দ্যা ফিনানশিয়াল টাইমসকে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ছেদ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নজরদারি ও ভবিষ্যত মহামারি প্রতিরোধকে বাধাগ্রস্ত করবে।’
জা সতর্ক করেছেন, ‘যদি আপনি এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত না থাকেন তাহলে আপনি ভবিষ্যত মহামারি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারবেন না।’ তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই সংস্থাটি থেকে বের না হয়ে সংস্কারের কথা বলেছেন কিন্তু সংস্কার দাবির চেয়ে পুরোপুরি বেরিয়ে যাওয়ার দাবি জোরালো এবং এটা হবে নিশ্চিত করে বলা যায়। সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
মাহফুজ/এমএ/