পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রচুরসংখ্যক শিশু এমন এলাকায় বসবাস করছে, যেখানে যুদ্ধ বা সংঘাত চলছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুসারে, এ সংখ্যা প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন বা প্রতি ছয়জন শিশুর মধ্যে একজনের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজা, সুদান এবং ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাতের মধ্যে শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ইউনিসেফ এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা এ সংঘাতে অন্তত ১৭ হাজার ৪৯২ শিশু নিহত হয়েছে। হামলার ফলে গাজার অধিকাংশ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে মানুষের জনজীবন।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় ইউনিসেফের ইতিহাসে ২০২৪ সাল শিশুদের জন্য ভয়াবহ একটি বছর। সংঘাতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা এবং তাদের জীবনের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব উভয়ই অতীতের তুলনায় বেশি ছিল।’
রাসেলের মতে, যারা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বড় হচ্ছে তাদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, পুষ্টির অভাবে ভোগা এবং জোরপূর্বক স্থানান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক সতর্ক করেছেন, চলমান যুদ্ধ-সংঘাতের প্রভাবে শিশুদের একটি পুরো প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিশু সুরক্ষায় বিশ্বকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের অনুপাত ১৯৯০-এর দশকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে এ অনুপাত ১৯ শতাংশ, যা আগে ছিল ১০ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ৪৭.২ মিলিয়ন শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ২০২৪ সালের বৈশ্বিক সংঘাতের পরিস্থিতি অনুসারে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাইতি, লেবানন, মায়ানমার, ফিলিস্তিন এবং সুদানে চলমান সহিংসতার ফলে অনেক বেশি মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা