যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স শহরে নববর্ষ উদযাপনে জড়ো হওয়া জমায়েতের ওপর সামসুদ্দিন জব্বার একাই হামলা চালিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই একথা জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে ইসলামি স্টেটের (আইএস) অন্য সহযোগীও থাকতে পারে।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জব্বার আমেরিকান সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। ৪২ বছর বয়সী টেক্সাসের এই বাসিন্দা একসময় আফগানিস্তানে সেনা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। গান-বাজনা, মাদক ও মদ্যপানের নিন্দা করে তিনি কিছু রেকর্ডিংও তৈরি করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার ঘটনার পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জব্বার নিহত হন। হামলার ঘটনায় এপর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১৫ জন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। এফবিআই এটিকে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এফবিআইয়ের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার রাইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি পরিকল্পিত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
তিনি আরও জানান, জব্বার ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন। তদন্তকারীরা জব্বারের উগ্রপন্থায় জড়িয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজছেন। তারা এখনো নিশ্চিত নন যে, কীভাবে তিনি একজন সামরিক অভিজ্ঞ, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও ডেলয়েট-এর মতো বড় কর এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী থেকে শতভাগ আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত একজন ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ভাড়া করা গাড়িটিতে আইএস-এর পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের ফলে আইএস অনেকটা দুর্বল হয়ে গেলেও তারা অনলাইনে সমর্থক সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জব্বারের সৎভাই জানিয়েছেন, জব্বার সাম্প্রতিক বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে মানসিকভাবে কষ্টে ছিলেন। তবে হামলার কয়েক সপ্তাহ আগেও তার মধ্যে রাগ বা ক্ষোভের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সূত্র: রয়টার্স