দক্ষিণ কোরিয়ার অভিসংশিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা। এর আগে গত শুক্রবার নিরাপত্তারক্ষীদের মানবপ্রাচীর গড়ে তোলার কারণে প্রেসিডেন্ট ইওলকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয় দেশটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এরপরেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ আসে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্নীতি দমন সংস্থার বরাতে এই সংবাদ প্রকাশ করে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা ও পুলিশের একটি যৌথ দল ইউনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান পরিকল্পনার অভিযোগ তদন্ত করছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি সামরিক আইন জারি করার স্বল্পস্থায়ী পরিকল্পনা করেছিলেন।
এক বিবৃতিতে দুর্নীতি তদন্ত অফিস (সিআইও) জানিয়েছে, তারা পুলিশের কাছে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে, যেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার অনুরোধ করা হয়েছে এবং এই পরোয়ানার মেয়াদ সোমবার মধ্যরাত ৩টা পর্যন্ত।
সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা আইনি বিষয়গুলো আন্তরিকতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছি।’
ইউনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, যেসব তদন্তকারীরা তাকে আটক করার নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী অভ্যুত্থান সম্পর্কিত মামলাগুলো তদন্তের কোনো অধিকার নেই।
এদিকে গত রবিবার সিউলের পশ্চিমাঞ্চলীয় আদালতে প্রেসিডেন্টের ইওলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তার সরকারি বাসভবনের অনুসন্ধান পরোয়ানা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল। তবে আদালত এই স্থগিতাদেশের আবেদন বাতিল করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এই সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছেন। তিনি দেশটির ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া জোট পুনরায় নিশ্চিত করবেন বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত মাসে ইউন সামরিক আইন জারির চেষ্টা করলে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করে এবং ওয়াশিংটন এর কঠোর সমালোচনা করে।
সিআইও ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করার কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। তদন্ত শেষে তা আদালতের কাছে পাঠনোই মূলত এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/অমিয়/